Headlines
Loading...
বাজার অগ্নিমূল্য, মিড-ডে মিলে বাড়ছে না বরাদ্দ, হিমশিম অবস্থা জেলার স্কুলগুলির

বাজার অগ্নিমূল্য, মিড-ডে মিলে বাড়ছে না বরাদ্দ, হিমশিম অবস্থা জেলার স্কুলগুলির


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: এবার মূল্যবৃদ্ধির জের সরাসরি প্রভাব ফেলতে শুরু করল স্কুলের মিড-ডে মিলে। মিড-ডে মিল চালাতে হিমশিম অবস্থা জেলার স্কুলগুলির। অগ্নিমূল্য বাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সরকার নির্ধারিত বরাদ্দের মধ্যে স্কুলের মিড-ডে মিল চালানো এখন কার্যত কঠিন হয়ে পড়েছে বলেই বর্ধমান শহরের একাধিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিক্ষিকারা জানিয়েছেন। কেন্দ্র সরকার শিক্ষাখাতে টাকার বরাদ্দ সেভাবে না বাড়ানোয় বর্তমান পরিস্থিতিতে মিড-ডে মিল চালানোই কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে বলেও একাধিক স্কুল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে।


প্রসঙ্গত পেট্রোল-ডিজেল থেকে গ্যাসের দাম যেভাবে বেড়ছে তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে সবজির বাজারে। ফলে বাজারে সবজি কিনতে গিয়ে বেশীরভাগ স্কুল কর্তৃপক্ষের অবস্থা নাকাল। গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম হাজার টাকা ছুঁয়েছে। কিন্তু এরপরেও বাড়েনি ছাত্র প্রতি সরকারি বরাদ্দের অনুদান। বর্তমানে সরকারিভাবে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী অবধি ছাত্রছাত্রী প্রতি খাবারের জন্য স্কুল কে দেওয়া হয় ৪ টাকা ৯৭ পয়সা। আর ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী অবধি একজন পড়ুয়ার জন্য বরাদ্দ ৭টাকা ৪৫ পয়সা। শিক্ষকদের দাবি, যেখানে বাজারে আলু এখন কেজি প্রতি ২০ থেকে ২২ টাকা, সরষের তেল ২২০ টাকা, কুমড়োর কেজি ৩০ টাকা, মুসুরির ডাল ১২০ টাকা প্রতি কেজি সেখানে ছাত্রদের পুষ্টিকর খাবার এই বরাদ্দ টাকায় দেওয়া আদৌ কতটা সম্ভব তা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


মিড-ডে মিলের পূর্ব বর্ধমান জেলার নোডাল অফিসার মৌলি স্যানাল বলেন, ‘বিষয়টি আমরাও বুঝতে পারছি। বর্তমান বাজারের যা পরিস্থিতি তাতে এই দরে খাওয়ানো খুবই কষ্টকর। আমরা বিষয়টি প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি সহ আমাদের অধিকর্তার কাছেও জানিয়েছি। এখন সরকারিভাবে কোন নির্দেশ না এলে আমরাও কিছু করতে পারছিনা। প্রধান শিক্ষকদের একটি ডেপুটেশনও আমরা পেয়েছি। এখন দেখতে হবে পরিস্থিতি কি দাঁড়ায়।’ রাজ্য শিক্ষাদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মিড-ডে মিলের বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে ছাত্র প্রতি টাকার পরিমান বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করবে সরকার।


এদিকে মিড-ডে মিলের ছবিটা সমস্ত স্কুলের ক্ষেত্রে প্রায় একই। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে মিড-ডে মিল বন্ধ করে দেবারও কোন অবস্থাও নেই। এই পরিস্থিতিতে বর্ধমান শহরের কৃষ্ণপুর হাইস্কুল, রথতলা মনোহরদাস বিদ্যানিকেতন, বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল গার্লস হাইস্কুল এর প্রধান শিক্ষক, শিক্ষিকাদের বক্তব্য প্রায় এক। স্কুলের মিড ডে মিল চালাতে রীতিমত হিমশিম অবস্থা তাঁদের। গড়ে তিনশো, সারে তিনশো ছাত্র ছাত্রীদের প্রতিদিন খাওয়াতে শুধু চাল, ডাল, সবজি, মশলাই নয়, আনুষাঙ্গিক রান্নার গ্যাসের দামও এখন লাগামছাড়া। সরকারি যে বরাদ্দ পাওয়া যায় তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই মুহূর্তে ছাত্র প্রতি মিড ডে মিলের আয়োজন করাই কঠিন হয়ে পড়েছে বলেই জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক শিক্ষিকারা।


প্রধান শিক্ষক শিক্ষিকারা অনেকেই জানিয়েছেন, প্রতি মাসে প্রায় ১০ টা সিলিন্ডার লাগে সারা মাসের মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করতে। স্কুলে সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়ার জন্য ১০ টাকা বেশীও লাগে। সব মিলিয়ে মাসে ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা শুধু সিলিন্ডার বাবদ খরচ হয়ে যায়। এরপরে রয়েছে বাকি অন্যায় জিনিস। একটা ডিমের দাম এখন পাঁচ টাকা। কুমড়ো ৩০ টাকা। পটল ৫০ টাকা। প্রধান শিক্ষকদের অনেকেই জানিয়েছেন, পড়ুয়াদের পুষ্টির যোগান দিতে কোন সবজি কিনবেন ভেবে কুল পাচ্ছেন না তাঁরা। তাঁরা এও জানিয়েছেন, মিড-ডে মিলের খাতে স্কুল চাল ছাড়া আর কিছুই পায়না। ফলে এই অগ্নিমূল্যের বাজারে কিভাবে মিড-ডে মিল চালানো সম্ভব সেটাই এখন একমাত্র চিন্তার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});