Headlines
Loading...
নির্জন জায়গায় ডেকে নিয়ে গিয়ে পরিচারিকাকে কুপিয়ে খুন মন্তেশ্বরে, চাঞ্চল্য

নির্জন জায়গায় ডেকে নিয়ে গিয়ে পরিচারিকাকে কুপিয়ে খুন মন্তেশ্বরে, চাঞ্চল্য


শ্যামসুন্দর ঘোষ,মন্তেশ্বর 
: নির্জন জায়গায় ডেকে নিয়ে গিয়ে পরিচারিকাকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল এক মহিলার বিরুদ্ধে। সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কালনা মহকুমার মন্তেশ্বর থানার মামুদপুর গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত মহিলার নাম শান্তি হাজরা। এই ঘটনায় কাকলি রায় নামে অভিযুক্ত মহিলাকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয় গ্রামবাসী। স্থানীয় সুত্রে খবর,মন্তেশ্বর থানার মামুদপুর গ্রামের হাজরাপাড়ায় বাপের বাড়ি বছর পঞ্চাশের শান্তি হাজরার। বাঁউই খড়মপুরে তাঁর শ্বশুরবাড়ি। স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় কয়েক দশক আগে মামুদপুর গ্রামে বাপের বাড়িতে চলে আসেন শান্তিদেবী। 

পেশায় জনমজুর ভাইপো বাপন হাজরার কাছেই থাকতেন তিনি। নিজের খরচ খরচার জন্য একই গ্রামের বাসিন্দা কাকলি রায়ের বাড়িতে তিনি পরিচারিকার কাজ করতেন। জানা গেছে,কাকলি রায় স্বামী পরিত্যক্তা। মামুদপুর গ্রামে তাঁর বাপের বাড়ি। বছর কুড়ি আগে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর থেকে ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়িতেই রয়েছেন কাকলী রায়।
নিহত মহিলার ভাইপো বাপন হাজরা বলেন, ‘সোমবার কাকলী রায় আমার পিসিমাকে বলেন ওনার নাকি শরীর খারাপ তাই রাইগ্রামে ডাক্তার দেখাতে যাবেন। আমার পিসিকেও সঙ্গে যেতে বলেন। তাই সোমবার সন্ধ্যা প্রায় ৬ টা নাগাদ ওই মহিলার সঙ্গে রাইগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন আমার পিসিমা। 

পরে জানতে পারি আমার পিসিমা খুন হয়ে গেছেন। তারপর মামুদপুর এবং রাইগ্রামের মাঝামাঝি জায়গায় ইদগাহের কাছে গিয়ে দেখি আমার পিসিমার রক্তাক্ত মৃতদেহ পড়ে রয়েছে।’ স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ইদগাহের পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দারা কোনওভাবে খুনের কথা জানতে পেরে যায়। তারপর স্থানীয় কয়েকজন যুবক তড়িঘড়ি সেখানে ছুটে আসে। তারা শান্তি হাজরার গলার নলিকাটা রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে। সেই সময় কাকলী রায় ছুটে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় বাসিন্দারা একটা রক্তমাখা ধারালো অস্ত্রসহ তাঁকে ধরে ফেলে। পরে মহিলাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ প্রথমে তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

মঙ্গলবার নিহত মহিলার ভাইপো এনিয়ে মন্তেশ্বর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ওই মহিলাকে গ্রেফতার করে। এদিন মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কাকলি রায় ও তাঁর ছেলে বিভিন্ন বেআইনি কারবারের সঙ্গে যুক্ত। আর তাঁদের গোপন কারবার জেনে ফেলার কারনেই খুন হতে হয়েছে শান্তি হাজরা নামে ওই মহিলাকে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই খুনের ঘটনায় আর কেউ যুক্ত আছে কিনা তা জানার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});