Headlines
Loading...
হোলিতে এবার ভেষজ আবির বাজারে নিয়ে আসছে পল্লীমঙ্গল সমিতি, তৈরি হয়েছে স্বনির্ভরতার সুযোগ

হোলিতে এবার ভেষজ আবির বাজারে নিয়ে আসছে পল্লীমঙ্গল সমিতি, তৈরি হয়েছে স্বনির্ভরতার সুযোগ


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: খেলবো হোলি রং দেবো না, তাই কখনো হয় - কারণ হোলি মানেই তো রঙের উৎসব। আর রং মানেই নানান রঙের আবির। কিন্তু গত কয়েকবছর ধরেই লক্ষ্য করা গেছে ক্যমিকেল মিশ্রিত আবিরের কুপ্রভাব নিয়ে আশঙ্কাগ্রস্থ সাধারণ মানুষ। কারুর বিষাক্ত রং থেকে চামড়ায় সংক্রমণের আশঙ্কা, কারুর আবার আবিরের রুক্ষ দানায় ত্বক ছিঁড়ে যাওয়ার ভয়। এবার সেই আশঙ্কা থেকে মুক্তির উপায় বের করে দিচ্ছে কিছু গ্রাম্য মহিলা। তাদের উদ্যোগেই প্রাকৃতিক ফল,ফুল ও সবজির নির্যাস থেকে তৈরি করা হচ্ছে ভেষজ আবির। বিট, গাজর কিংবা গাঁধা ফুল, গোলাপের পাঁপড়ি থেকে তৈরী হচ্ছে এই আবির। যা পৌঁছে যাবে বাজারে মাত্র ১৬০টাকা প্রতি কেজি দরে।


পূর্ব বর্ধমানের মেমারীর পাল্লারোড পল্লিমঙ্গল সমিতি র পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্থানীয় এলাকার ৪টি মহিলা স্বনির্ভর গোষ্টীকে আবির বানানো শেখানো হয়েছে। পল্লিমঙ্গলের উদ্যোগেই সেই আবির বাজারজাত ও বিক্রীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ নেওয়া সঞ্চিতা পাল, নীলাঞ্জনা বারিক রা জানিয়েছেন, প্রথমে তারা ভেবেছিলেন, শুধু বাড়িতে ব্যবহারের জন্যই তারা আবির তৈরি করবেন। কিন্তু পল্লীমঙ্গলের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে বাণিজ্যিক ভাবে এই কাজ করার উৎসাহ যোগানোর পর তারা তাদের ভাবনাচিন্তা বদলে ফেলেন। বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদন করতে পারলে একদিকে যেমন আর্থিক সচ্ছলতা আসবে,অন্যদিকে স্বনির্ভর হওয়ারও সুযোগ পাওয়া যাবে।


যারা এই প্রশিক্ষণ দিয়ে ভেষজ আবির বাজারজাত করার ব্যবস্থা করেছেন, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নতি নিয়ে কাজ করা সেই পাল্লা রোড পল্লিমঙ্গল সমিতি র সম্পাদক সন্দীপন সরকার জানিয়েছেন, ভেষজ আবিরের গুণাগুণ ইতিমধ্যেই স্বীকৃত। তাছাড়া মহিলারা এই কাজে নিযুক্ত হলে তাদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তিনি জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ৪টি গ্রুপের মহিলাদের এই কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী এই সংখ্যা আরো বাড়বে। 


সন্দীপন জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ অপেক্ষাকৃত কম টাকায় সুষম আবির হাতে পাবেন। ফলে আসন্ন হোলি তে সবরকম ভাবে নিরাপদ ও উৎকৃষ্ট মানের আবির ব্যবহারের সুযোগ পাবেন হোলি প্রিয় মানুষ। এছাড়াও এই ভেষজ আবিরের গুণগত মান পরখের জন্য সংস্থার তরফে জেলা স্তরের নানা আধিকারিকের কাছে এই আবির উপহার হিসাবেও পাঠানো হচ্ছে বলে সন্দীপন সরকার জানিয়েছেন।
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});