Headlines
Loading...
বর্ধমানের নার্সিংহোমে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড প্রতারণা চক্রের হদিস, উদ্ধার শতাধিক কার্ড, আলোড়ন, তদন্তে জেলা পুলিশ

বর্ধমানের নার্সিংহোমে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড প্রতারণা চক্রের হদিস, উদ্ধার শতাধিক কার্ড, আলোড়ন, তদন্তে জেলা পুলিশ


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: এবার পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া ও বর্ধমান শহরে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নিয়ে বড়োসড়ো প্রতারণা চক্রের হদিস পেল জেলা পুলিশ। বর্ধমানের একটি নার্সিংহোমের ড্রয়ার থেকে একসঙ্গে উদ্ধার হল কয়েকশো স্বাস্থ্য সাথী কার্ড। যা দেখে রীতিমত চক্ষু চড়কগাছ খোদ অভিযানকারী পুলিশ আধিকারিকদের। এত কার্ড কিভাবে নার্সিংহোমে এল তার তদন্ত শুরু করেছে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ। এরই সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে নার্সিংহোমের রেজিষ্টার বুক, কম্পিউটারের হার্ড ডিস্ক সহ স্বাস্থ্য সাথী সম্পর্কিত যাবতীয় নথি ও তথ্য।


পাশাপাশি কাটোয়ার গাঁফুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা সালেহা বিবি নামে এক মহিলাকে এই প্রতারণা চক্রের জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বর্ধমান শহরের খোসবাগান এলাকার মেডভিউ নামে একটি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের জড়িত থাকার কথা জানতে পারে কাটোয়া থানার পুলিশ। আর এরপরই জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন আধিকারিকদের নির্দেশে সোমবার সন্ধ্যায় কাটোয়া ও বর্ধমান থানার পুলিশ অভিযান চালায় মেডভিউ নার্সিংহোমে।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সালেহা বিবি জেরায় জানিয়েছে, বর্ধমানের খোসবাগানের মেডভিউ নার্সিংহোমে তার জামাই মুন্সি নুরুল হাসান কাজ করে। এই সুবাদে কাটোয়ার বিভিন্ন গ্রাম থেকে রোগী সাজিয়ে প্রচুর মানুষকে এই নার্সিংহোমে পাঠানো হতো। তাদের কে টাকা পাইয়ে দেওয়ার টোপও দেওয়া হতো। যদিও নার্সিংহোম কর্ত্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের দুর্নীতির ঘটনার কথা স্বীকার করে জানিয়েছে, নার্সিংহোমের কোন কর্মী ঘটনায় জড়িত থাকলে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নিক। এদিকে সম্প্রতি দায়িত্ব পাওয়া জেলা নার্সিংহোম এসোসিয়েশনের খোদ সভাপতি তথা অভিযুক্ত মেডভিউ নার্সিংহোমের অন্যতম কর্ণধার ডা: আবির গুহ এর নার্সিংহোমেই রাজ্য সরকারের স্বপ্নের প্রকল্প স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের দুর্নীতি প্রকাশ্যে চলে আসায় বিপাকে পড়েছেন শহর তথা জেলার অন্যান্য নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ বলে জানা গেছে 


এদিকে রোগী ভর্তি না করেই শুধু বায়োমেট্রিক ছাপ নিয়ে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার প্রতারণা চালিয়ে আসার অভিযোগ সামনে আসতেই জেলা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উপভোক্তাদের অগোচরেই কার্ড থেকে চিকিৎসা বাবদ হাজার হাজার টাকা লোপাট করার ঘটনায় এবার রীতিমত নড়েচড়ে বসেছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরও। জানা গেছে, গতবছর ডিসেম্বর মাস থেকে শুরু হয় এই দুর্নীতি। গাঁফুলিয়া গ্রামের গরীব খেটে খাওয়া পরিবারের লোকদের টাকার পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে বর্ধমানের এই নার্সিংহোমে নিয়ে যেত সালেহা বিবি। তাদের বলা হতো এর জন্য স্বাস্থ্য সাথী কার্ড হোল্ডার দশ হাজার টাকা পাবেন, আর তার থেকে দুহাজার নেবে সালেহা বিবি। এভাবেই দিনের পর দিন বর্ধমানের খোসবাগানের এই নার্সিংহোমে গ্রামের লোকজনকে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার নাম করে নিয়ে গিয়ে শুধু বায়োমেট্রিক ছাপ নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।


কাটোয়ার বাসিন্দা কার্ড হোল্ডার ভুক্তভোগী রাজিয়া বিবি, মানেকা বিবি, ফুলসুমা বিবিরা জানিয়েছেন, তাদের স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থেকে চিকিৎসা বাবদ খরচ হিসেবে ৬০-৭৫ হাজার টাকা করে কেটে নেওয়া হয়েছে। তারা কোনো চিকিৎসা করান নি। এই নিয়ে গ্রামে আতঙ্ক ছড়ালে গ্রামবাসীরা কাটোয়ার আলমপুর পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে অভিযোগ জানায়। পুলিশের কাছে অভিযোগ জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সালেহা বিবিকে আটক করে থানায় এনে জেরা করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পূর্ব বর্ধমান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ধ্রুব দাস জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। এদিকে অভিযুক্ত বর্ধমানের নার্সিংহোমের মালিক আবীর গুহ জানান, তিনি ঘটনার কথা শুনেছেন, যদি কোন কর্মী এই ঘটনায় জড়িত থাকে পুলিশ ব্যবস্থাা
নেবে।
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});