Headlines
Loading...
বর্ধমান জেলা জুড়ে বাড়ছে পুলিশি নজরদারি, রুটমার্চে খোদ পুলিশ সুপার

বর্ধমান জেলা জুড়ে বাড়ছে পুলিশি নজরদারি, রুটমার্চে খোদ পুলিশ সুপার


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: রামপুরহাট কান্ডের পর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গোটা রাজ্য জুড়েই পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। দুষ্কৃতীদের ধরপাকড়ের পাশপাশি বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারেও ব্যাপক তল্লাশি শুরু হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়েও বাড়তি সতকর্তা নিয়েছে জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি থানা কে সতর্ক করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছেও পুলিশের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে দুষ্কৃতীদের সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে নির্ভয়ে স্থানীয় থানায় তা জানানোর জন্য। এক্ষেত্রে তথ্য প্রদানকারীর নাম অবশ্যই গোপন রাখা হবে। এদিকে শুক্রবার মেমারি থানা এলাকায় রুট মার্চ করেন জেলার পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন সহ জেলা পুলিশের অন্যান্য আধিকারিকরা। জানা গেছে, জেলার প্রতিটি থানা এলাকায় নিয়মিত পুলিশি রুট মার্চ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


অন্যদিকে পুলিশ সুপারের নির্দেশের পরেই প্রতিটি থানা এলাকা জুড়েই শুরু হয়েছে নাকা তল্লাশি। বাড়ানো হয়েছে রাতের টহলদারি। সূত্রের খবর খোদ পুলিশ সুপার নিজেও কাউকে কিছু না জানিয়ে রাতে বেড়িয়ে পড়ছেন ঘুরে দেখতে। এদিকে জেলার বিভিন্ন থানার পুলিশ অপরাধ সংগঠিত করার আগেই গতকাল থেকে একাধিক দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করেছে। উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র। এবার অস্ত্রসহ বর্ধমান থেকে গ্রেপ্তার হল দুই দুস্কৃতী। শুক্রবার তাদের আদালতে পেশ করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি।


বৃহস্পতিবার রাতে বর্ধমানের খাগড়াগড় মোড় থেকে অস্ত্র সহ গ্রেফতার করা হয় দুই দুস্কৃতিকে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতেরা বিহারের ঔরঙ্গাবাদের বাসিন্দা। রাতে বর্ধমান থানার পুলিশের টহলদারি টিমের কাছে এই দুই দুস্কৃতির খাগড়াগড় মোড়ে উপস্থিতির খবর আসে। পুলিশ খাগড়াগড় মোড় থেকে ভোলা কুমার ও সঞ্জয় কুমার নামে দুই দুস্কৃতিকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেফতার করে। ধৃতদের কাছ থেকে দুটি ইমপ্রোভাইস পাইপগান ও দুই রাউণ্ড গুলি উদ্ধার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান এই দুই দুস্কৃতি মহিলা পাচারের সঙ্গে যুক্ত। পুলিশি হেফাজত চেয়ে এই দুই দুস্কৃতিকে শুক্রবার বর্ধমান জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে।


অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাতে জামালপুর থানার পুলিশ চারজন কে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের নাম সুখদেব মুদি, সাহেব মন্ডল, শুভঙ্কর বিশ্বাস ও আমির শেখ। এদের মধ্যে আমিরের বাড়ি হুগলি জেলার সিঙ্গুর থানা ঝাকাড়ি গ্রামে। বাকিরা জামালপুর থানা এলাকারই বাসিন্দা। ধৃতদের বিরুদ্ধে বোমা তৈরি করার এবং অপরাধ সংগঠিত করার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতরা এর আগেও বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছে। ধৃতদের শুক্রবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে তোলা হয়।


অন্যদিকে কাটোয়া থানা এলাকার তিনটি পৃথক ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কোশীগ্রামের বাসিন্দা বুলেট হাজরা কে গোপখাঁজি মোড় থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি করার কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে রয়েছে বুলেটের বিরুদ্ধে। ধৃতকে এদিন কাটোয়া মহকুমা আদালতে পেশ করে আরো তথ্য জানতে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়। বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেছেন।


এরই পাশাপাশি কাটোয়া-বর্ধমান রাস্তার সিরিষতলা এলাকা থেকে মিঠুন সেখ নামে এক দুষ্কৃতিকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতের বাড়ি গাঙ্গুলিডাঙ্গা এলাকায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। ধৃতের কাছ থেকে একটি পাইপগান ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, রাস্তায় ছিনতাই করার উদ্দেশ্যেই অস্ত্র সঙ্গে রেখেছিল মিঠুন। ধৃতের সঙ্গে আর কারা জড়িত আছে সে বিষয়ে জানতে পুলিশ তাকেও হেফাজতে নিয়েছে।


অন্যদিকে ডাকাতির উদ্দ্যেশে জড়ো হওয়ার অপরাধে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে কাটোয়া থানার পুলিশ৷ ধৃতদের নাম রাহুল শেখ, নওসাদ শেখ ও হাসিবুল শেখ৷ এদের মধ্যে প্রথম দু’জনের বাড়ি কেতুগ্রাম থানার মুলগ্রাম এলাকায়। হাসিবুলের বাড়ি কাটোয়া থানার কেশিয়া মাঠপাড়ায়। ধৃতদের এসিজেএম আদালতে তোলা হলে ধৃত তিনজনকেই ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।


জেলার পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন জানিয়েছেন, অপরাধীদের ধরতে গোটা জেলা জুড়ে এই তল্লাশি অভিযান চলবে। পাশপাশি এর আগে বিভিন্ন থানায় নানান অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল এমন ব্যক্তিদের খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে বোমা বিস্ফোরণের অপরাধে বা আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার হয়েছিল, এমন অপরাধী যারা এখন বাইরে আছে তাদের বিষয়ে পুলিশ নতুন করে খোঁজ খবর রাখছে। জেলার প্রতিটি থানাতে তাই পুলিশের টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তিনি নিজেও অভিযানে বেরোবেন। তবে সাধারণ মানুষের প্রতি পুলিশ সুপার আবেদন রেখেছেন, দুষ্কৃতীদের ধরতে তাদের কাছে কোনো তথ্য থাকলে পুলিশ কে তা জানিয়ে সহযোগিতা করার। তিনি জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ সতর্ক হলেই দুষ্কৃতীদের এলাকায় লুকিয়ে থাকা সমস্যা হয়ে যাবে।
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});