Headlines
Loading...
বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চারদিকের নজরদারি ক্যামেরা বিকল! নিরাপত্তা শিকেয়, বাড়ছে চুরির ঘটনা, উদাসীন কর্তৃপক্ষ

বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চারদিকের নজরদারি ক্যামেরা বিকল! নিরাপত্তা শিকেয়, বাড়ছে চুরির ঘটনা, উদাসীন কর্তৃপক্ষ


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মধ্যে যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা কিম্বা চুরি, কেপমারীর মতো ঘটনা আটকাতে বছর খানেক আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা মজবুত করার লক্ষ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গোটা এলাকাকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় মুড়ে ফেলেছিল। কেবল বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিরাপত্তার খাতিরে হাসপাতাল চত্বরে লাগানো হয়েছিল প্রায় ১৩৯টি সিসিটিভি ক্যামেরা। 


কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই খোদ সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাই আজ প্রশ্নের মুখে। ইমারজেন্সি বিভাগ থেকে শুরু করে আউটডোর কিম্বা খোদ মেডিকেল সুপারের অফিসের সিংহভাগ নজরদারির জন্য বসানো ক্যামেরাই অচল অথবা বিকল বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ক্যামেরার মধ্যে প্রায় অর্ধেকই খারাপ অথবা বিকল অবস্থায় রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে - যে নিরাপত্তার তাগিদে সিসিটিভি লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল তা কি আদৌ পালিত হচ্ছে? 


উত্তর মিলতে শুরু করেছে হাসপাতাল চত্বর থেকে একাধিক বাইক চুরি সহ বিভিন্ন রোগীর জিনিসপত্র ফের চুরি শুরু হওয়ায়। আর এই সমস্ত ঘটনা বাড়তে থাকায় রীতিমত বেকায়দায় পড়েছে হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মীরা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিসিটিভি ক্যামেরা সচল থাকলে অপরাধজনিত সমস্ত ঘটনার তদন্তে গতি আসতে পারত, কিন্তু এখন তদন্তে নেমে হোঁচট খেতে হচ্ছে পুলিশকে। জানা গেছে, সম্প্রতি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে একাধিক বাইক চুরির ঘটনা ঘটছে। এই সমস্ত চুরির তদন্তে নেমেই দেখা গেছে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর বেহাল দশা। 


হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পরপর দুটি বাইক চুরির ঘটনা ঘটে। যার মধ্যে শনিবার হাসপাতালের শিশু বিভাগের সামনে থেকে একটি বাইক চুরি হয়। তার আগে নিউ বিল্ডিংয়ের সামনে থেকেও একটি বাইক চুরির ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়কালে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন অংশ থেকে প্রায় ৬টি বাইক চুরি হয়। এছাড়াও হাসপাতালের আউটডোরে ভীড়ের মধ্যে থেকে ব্যাগ বা মোবাইল ছিনতাইয়ের মত ঘটনাও আকছার ঘটছে। আর এই সমস্ত ঘটনার তদন্তে নেমেই হোঁচট খাচ্ছে পুলিশি তদন্তের গতি। 


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু সিসিটিভি ক্যামেরা খারাপ থাকায় ঘটনার ক্লু পেতে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অন্যদিকে একাধিক সিসি ক্যামেরা খারাপ হয়ে পড়ে থাকার কারণ জানতে ডেপুটি সুপার ডাঃ কুনালকান্তি দে কে ফোন করা হলে তিনি এবিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। উল্লেখ্য, বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বর থেকে এই ধরণের চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনার পাশাপাশি একাধিকবার রোগী পক্ষের সঙ্গে কখনও চিকিৎসক, কখনও হাসপাতাল কর্মী আবার নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। রীতিমত লোকজন নিয়ে হাসপাতালে চড়াও হবার মত ঘটনাও ঘটেছে। আর এই সব ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তথা বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে হাসপাতালকে কার্যত সিসিটিভি ক্যামেরায় মুড়ে দেবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। লাগানো হয় মোট ১৩৯টি সিসিটিভি ক্যামেরা। 


এর মধ্যে হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের নজরেই থাকে ৩৬টি ক্যামেরা। কিন্তু দেখা গেছে এই ৩৬টি ক্যামেরার বেশিরভাগই অচল আর যেকটি চালু রয়েছে সেগুলোর সামনে হয় ঝুল পরে বা নোংরা জমে অসচ্ছ হয়ে আছে। ফলে কিছুই পরিষ্কার করে দেখা যায় না। ফলে হাসপাতাল চত্বরে পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারি করাও হয়ে পড়ছে কঠিন। যদিও এই সমস্যার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো সত্ত্বেও কোনো অজ্ঞাত কারণে তার এখনো কোনো সুরাহা হয়নি বলেই অভিযোগ। 


জানা গেছে, পুলিশ ক্যাম্প ছাড়াও বাকি ক্যামেরাগুলির নজরদারি করার জন্য বসানো হয়েছে খোদ হাসপাতাল সুপার অফিসের তত্ত্বাবধানে। জানা গেছে, ওই সমস্ত ক্যামেরার মধ্যেও বেশকিছু ক্যামেরা অচল হয়ে আছে। শুধু এটাই নয়, প্রশ্ন উঠেছে, যদি কোনো কারণে হাসপাতালে বড় কোনো ঘটনা ঘটে তাহলে কি হবে? যদিও এই বিষয়ে সিসি ক্যামেরার রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য যে সংস্থা নিযুক্ত রয়েছে তাদের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। তবে এব্যাপারে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সুপার ডা. তাপস ঘোষ জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে ঘটনার কথা জানানো হয়েছে। 


অন্যদিকে, এব্যাপারে জেলা যুব কংগ্রেস সভাপতি গৌরব সমাদ্দার জানিয়েছেন, গত প্রায় ৬ মাসের বেশি সময় ধরে তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে। তিনি জানিয়েছেন, হাসপাতালে রোগীরা আসেন চিকিৎসা করাতে। কিন্তু প্রায়শই তাঁরা চিকিৎসা করাতে এসে নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরছেন দুষ্কৃতিদের খপ্পরে পড়ে। অথচ লক্ষাধিক টাকা খরচ করে হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য লাগানো হয়েছিল সিসিটিভি ক্যামেরা। কিন্তু মাসের পর মাস সেগুলো অচল বা বিকল হয়ে পড়ে থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই উদাসীনতা নিয়েই এবার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। 

0 Comments: