Headlines
Loading...
বর্ধমানের পাল বংশের একশ বছরের বামাকালী একদিকে পরিবারের মেয়ে, ছোটদের কাছে পিসির পুজো

বর্ধমানের পাল বংশের একশ বছরের বামাকালী একদিকে পরিবারের মেয়ে, ছোটদের কাছে পিসির পুজো


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: আর কয়েকদিন পরেই কালীপুজোয় মাতবেন গোটা বাংলা। আর তারই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে বর্ধমান শহরের ভাতছালা পাড়ার পাল পরিবারেও। প্রায় ১০০ বছর আগে শুরু হওয়া বর্ধমান শহরের ভাতছালা এলাকায় পাঁচু পালের কালীপুজোই এখন ওই বংশের বর্তমান বংশধরদের কাছে পিসির পুজো বলে খ্যাত হয়ে উঠেছে। পালবংশের বর্তমান বংশধর মিঠুন পাল জানিয়েছেন, তাঁর ঠাকুর্দা পাঁচুগোপাল পাল এই পুজোর শুরু করেন। 


পাঁচুগোপাল পালের ৮ ছেলে এবং ১টি মেয়ে ছিল। বছর ৬ বয়সে বসন্তরোগে কল্পনা পাল নামে তাঁদের সেই পিসি মারা যান। পিসি মারা যাওয়ায় ঠাকুর্দা প্রায় ২ বছর পুজো বন্ধ করে রেখেছিলেন। কিন্তু এরপরই দেবী স্বপ্নাদেশ দিয়ে পাঁচুগোপাল পালকে জানান, তিনি তাঁর মেয়ে হিসাবেই থাকতে চান এই পরিবারে। আর তারপরে ফের শুরু হয় পুজো। দেবী এখানে বামাকালী। অর্থাৎ বাঁ পা সামনে এগিয়ে। শুধু তাইই নয়, দেবীর নির্দেশে এখানে তিনি পাল বংশের মেয়ে। তাই দেবীর মূর্তি এখানে উগ্র নয়। 


পাঁচুগোপাল পালের ৮ ছেলের মধ্যে জীবিত রয়েছেন শান্তি পাল, শীতল কুমার পাল, দীপক পাল এবং স্বপন পাল। এই ৮ ছেলের বর্তমান উত্তরপুরুষ হিসাবে রয়েছেন সন্দীপ পাল, অনুপ পাল, স্বরূপ পাল, অরূপ পাল, তুষার পাল, মিঠুন পাল, জয়দেব পাল, হিমাদ্রী পাল, নিলাদ্রী পাল, অমিত পাল এবং সৌমাশিস পাল। শান্তি পাল জানিয়েছেন, তাঁদের এই পারিবারিক দেবী কালিকে নিয়ে অনেক অলৌকিক ঘটনা রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, তাঁরা এই দেবীকে নিজেদের বোন হিসাবেই দেখেন এবং একজন বোনকে যেভাবে যত্ন করতে হয় তাঁরা সেভাবেই পালন করে আসছেন। 


তিনি জানিয়েছেন, পুজোর প্রথম দিন সবরকমের ফল দেওয়া হয় নৈবেদ্যতে। প্রথম দিন ২টি পাঁঠা বলিও হয়। আগে পাল বংশের পুকুর থেকে মাছ ধরে সেই মাছ ভাজা ও মাছের টক দেওয়ার রীতি ছিল। এখন তা বন্ধ। শান্তিবাবুরা জানিয়েছেন, প্রতিবছর পাল পরিবারেরই গৃহবধূ অন্তরা পালের ওপর দেবীর ভর হয়। সেই সময় দেবী জানিয়ে দেন তিনি কি চান, পুজোয় কোথাও কোনো ত্রুটি হয়েছে কিনা, কেউ কোনো ভুল করছেন কিনা। গত কয়েকবছর ধরে এই ধরণের ঘটনা লক্ষ্য করছেন পরিবারের সদস্যরা।

নিয়মানুসারে দেবীর এই পুজোয় বাড়ির মহিলারা ফল কাটতে পারেন না। পুরুষরাই সব করেন। পাঁচুবাবুর আমল থেকেই এই পুজো উপলক্ষ্যে বসছে সানাই। পুজোর নৈবেদ্যতে খাজা ও কদমা দেওয়ার রীতি চলে আসছে। প্রতিবছর দেবীর মূর্তি তৈরী হয়। সেই মূর্তিতে দেবীর মাথায় চুর্নী (ওড়না) দেওয়া হয় পরম্পরা মেনে। ভাইফোঁটা না পেরোলে পাল বংশের এই বামা কালীর বিসর্জন হয়না। ভাইফোঁটার দিন পুরোহিত চন্দনের ফোঁটা দেন দেবীর প্রতিনিধি বোন হিসা
বে বর্তমান জীবিত ৪ ভাইকে।


 ভাইফোঁটার পরের দিন বাড়ির মহিলারা লালপাড় সাদা শাড়ি পরে দেবীকে বরণ করেন, সিঁদুর খেলা হয় প্রথা মেনে। পরিবারেরই কালীপুকুরে বিসর্জন করা হয় কালিরূপী মেয়েকে। এছাড়াও কালীপুজোর দিন থেকে অষ্টম দিনের দিন পালিত হয় অষ্টমঙ্গলা। সেদিন দেবীকে বেণারসী শাড়ি পরিয়ে সুসজ্জিত করা হয়। অষ্টমঙ্গলার সমস্ত রীতি পালন করা হয়। মিঠুন পালরা জানিয়েছেন, তাঁরা দেবীকে পিসি হিসাবেই দেখেন। ভাল মন্দ সবকিছুতেই তাঁরা পিসি হিসাবেই ডাকেন দেবীকে।

0 Comments: