Headlines
Loading...
ঘোষিত নির্মল শহর, তবুও বর্ধমান শহরে যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করলেই ১০০ থেকে ৫০০ টাকা জরিমানার বিজ্ঞপ্তি ঘিরে চর্চা

ঘোষিত নির্মল শহর, তবুও বর্ধমান শহরে যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করলেই ১০০ থেকে ৫০০ টাকা জরিমানার বিজ্ঞপ্তি ঘিরে চর্চা


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: বর্ধমান শহরকে আগামী ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই গ্রীণ সিটি তৈরী করার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আর সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই গোটা শহর জুড়ে পুরসভার পক্ষ থেকে আরও বেশি করে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্য নিয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় লাগানো হল বিজ্ঞপ্তি। এমনকি বিজ্ঞপ্তির ব্যানারে উল্লেখও করা হয়েছে বর্ধমান পৌর এলাকাধীন কোনো উন্মুক্তস্থানে মল-মূত্র ত্যাগ করলে তাহা একটি সামাজিক অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হবে এবং এর দরুণ তাৎক্ষণিক ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করা হবে। শ্লোগান তোলা হয়েছে আসুন সবাই শপথ করি, উন্মুক্ত শৌচমুক্ত বর্ধমান গড়ি। 

এদিকে, গোটা শহর জুড়ে নতুন করে জায়গায় জায়গায় পৌর প্রশাসকের নির্দেশ হিসাবে এই বিজ্ঞপ্তি দেওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে পুরবাসীরাও। কারণ ইতিমধ্যেই মিশন নির্মল বাংলার প্রকল্পানুসারে বর্ধমান শহরকে নির্মল শহর অর্থাৎ ওডিএফ ( Open defecation free )  হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও দেখা গেছে শহরের বহু এলাকাতেও পুরসভার ড্রেনে বসে পায়খানা বা মূত্র ত্যাগ করার অভ্যাস যায়নি। যদিও পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, এই ধরণের বিজ্ঞপ্তি নতুন কিছু নয়। অনেক আগে থেকেই এই ধরণের বিজ্ঞপ্তি জারী রয়েছে পৌর আইন অনুসারে। এব্যাপারে পুরসভার পক্ষ থেকে শহর জুড়েই নজরদারী চালানো হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ধরণের ঘটনা ঘটছে কাকভোরে। ফলে হাতেনাতে ধরা যাচ্ছে না। এমনকি এই নিয়ম যারা ভাঙছেন তাদের উপর নজরদারি করার মতো যথেষ্ট পুরকর্মীও নেই পুরসভায়। ফলে অভ্যাস পাল্টাচ্ছে না অনেকেই।

পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, পুরসভার পক্ষ থেকে এই বিজ্ঞপ্তি জারী করা হলেও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় পুরসভার তহবিলে এক টাকাও জরিমানা বাবদ আদায় হয়নি। পুরসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আসলে চরম সতর্ক করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে পুরবাসীকে যাতে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সকলে উদ্যোগী হয়। অন্যদিকে, এব্যাপারে বর্ধমান পুরসভার নয়া প্রশাসক বোর্ডের সহ প্রশাসক আইনুল হক জানিয়েছেন, তাঁরা গোটা শহর তথা বর্ধমান পুরসভাকে গ্রীণ সিটি করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন। 

আর তার জন্যই তাঁরা চাইছেন শহরবাসী কিংবা শহরে আগত মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসকে বদল করতে। সেই লক্ষ্য নিয়েই একাধিক পরিকল্পনা তাঁরা করেছেন তাঁরা। তিনি জানিয়েছেন, পৌর এলাকাতেই এমন অনেক নাগরিক আছেন যাঁরা নিজের শহরের ড্রেনেই মূত্র ত্যাগ করেন, কিন্তু তারাই আবার মেট্রো ষ্টেশনে গিয়ে বাথরুমে গিয়ে কাজ সারেন। তাই এব্যাপারে শহরবাসীর মানসিকতা পাল্টানো দরকার। শহরকে পরিচ্ছন্ন করাটাই প্রথম লক্ষ্য। একইসঙ্গে তাঁরা সকলকেই সচেতন করতে চাইছেন।
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});