728x90 AdSpace

Latest News

Wednesday, 4 August 2021

বর্ধমান শহর জুড়ে মাদক কারবারীদের রমরমা, নেশায় বুঁদ যুব সমাজের একাংশ, উদাসীন প্রশাসন


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: বর্ধমান শহর জুড়ে মাদক কারবারের রমরমায় নাভিশ্বাস উঠেছে ১৫ থেকে ২৫বছর বয়সী তরুণ তরুণীদের পরিবারের লোকজনের। রীতিমত এই বয়সের ছেলে মেয়েদের অত্যাচারে কার্যত জেরবার বাবা মায়েরা। আর উঠতি বয়সের এই ছেলে মেয়েদের স্বভাব বা আচরণ পরিবর্তনের মূল কারণই হয়ে দাঁড়িয়েছে মাদকাসক্ত হয়ে পরা। এমনি মত প্রকাশ করেছেন ভুক্তভুগী বহু অভিভাবক। অতি সহজে শহরের অলিগলিতে মাদক দ্রব্য পাওয়া যাওয়ায় স্কুল কলেজ পড়ুয়া এই ছেলে মেয়েরা আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে পরেছে বলে অভিযোগ। বহু অভিভাবক জানিয়েছেন, প্রতিদিন ছেলে মেয়েদের নানান চাহিদা পূরণ করতে বেশির ভাগ পরিবারের আর্থিক অবস্থা দিনদিন শোচনীয় হয়ে পরছে। এমনকি তাদের চাহিদা পূরণ না হলে রীতিমত পরিবারের লোকের সঙ্গেই দুর্ব্যবহার এমনকি মারধর করতেও পিছপা হচ্ছে না এই তথাকথিত পড়ুয়া ছেলে মেয়েরা। শেষমেষ এই বিগড়ে যাওয়া ছেলে মেয়েদের ফের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এদের চিকিৎসার জন্য ভর্তি করতে হচ্ছে রিহ্যাবিলেটেশন সেন্টারে।

ইতিমধ্যেই শহরে মাদক কারবারের রমরমা বন্ধ করার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে ডেপুটেশনও জমা দিয়েছে একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। বর্ধমান থানার পুলিশও মাঝে মধ্যেই শহরের মাদক কারবারীদের বেশকিছু ঠেকে অভিযান চালায়। তবু অজ্ঞাত কারণে বন্ধ হয়না এই মারণ কারবার। নিত্য নতুন জায়গায় আর কায়দায় চলছে গাঁজা, চরস, হেরোইন বিক্রি। অভিযোগ খোদ বর্ধমান শহরের মেহেদিবাগান, লক্ষ্মীপুর মাঠ, দুবরাজ, বিজয়রাম, লোকো এই সমস্ত এলাকা জুড়ে চলছে এই মাদক কারবার। মূলত রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় এবং সরবরাহের সুবিধা থাকায় মাদক কারবারীরা এই এলাকাগুলোকে কার্যত করিডোর হিসাবে ব্যবহার করছে বলেই অভিযোগ শহরবাসী একাংশের।

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, শহরের মেহেদিবাগান এলাকায় ডোমপাড়ার উল্টোদিকে লটারির দোকানের আড়ালে চলছে গাঁজার ব্যবসা। মেহেদিবাগানেরই জিটি রোডের উপর একটি মিষ্টির দোকানের পাশে গোপনে বিক্রি হচ্ছে খুচরো মাল। পালিকা বাজারের নীচে একটি জায়গা থেকে বিক্রি হচ্ছে গাঁজা, হেরোইন, চরস এর পুরিয়া, সিকি। এদিকে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কারণে ব্যবসা বন্ধ রাখার পর ফের গোপনে গাঁজার ব্যবসা শুরু করেছে মেহেদিবাগান দুর্গাতলার এক পুরোনো গাঁজা ব্যবসায়ী। এছাড়াও লক্ষীপুর মাঠের জলট্যাংকি থেকে রেল লাইনের ধার বরাবর জি আর পি থানা যাবার রাস্তায় রীতিমত হেরোইন সরবরাহের কারবার চালাচ্ছে এক ব্যক্তি বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন। তাঁরা এই আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন, এই সমস্ত অবৈধ মাদক কারবারীদের সঙ্গে পুলিশের একাংশের অশুভ আঁতাত রয়েছে। ফলে দিনের পর দিন এই মাদক মাফিয়ারা যুব সমাজের মেরুদন্ড ভেঙে দেওয়ার কারবারে যুক্ত আছে জেনেও কোনো পদক্ষেপ করে না। 

এছাড়াও জানা গেছে, মেহেদিবাগানের মাঠপাড়ার এক হেরোইন কারবারী যে অন্য জনের নামে ব্যবসা করে, সে নিজের বাড়িতে মাল মজুদ করে নানান মাপের পুরিয়া বানিয়ে শহরের বিভিন্ন পাড়ায় সাপ্লাই করছে। ফলে শহর সহ সংলগ্ন এলাকায় এমনকি শহরের অভিজাত এলাকাগুলোতেও এই মারণ নেশার দ্রব্য সহজলভ্য হয়ে যাচ্ছে। উঠতি ছেলেমেয়েদের কাছে নানাভাবে এই ঠেকগুলোর ঠিকানা পৌঁছে যাচ্ছে। 

উল্লেখ্য এই মাদকদ্রব্যের কারবার কেবলমাত্র শহরেই নয়, শহর ছাড়িয়ে আশপাশের গ্রাম এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। জাতীয় সড়কের দুধারে চা বা পান সিগারেটের দোকানেও বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন মাদক দ্রব্য। বৈকুণ্ঠপুর-২ গ্রামপঞ্চায়েতের অধীনে পাল্লা-শ্রীরামপুর এলাকার এক গাঁজা কারবারী যার বিরুদ্ধে মহিলা ঘটিত অবৈধ কারবারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি এর আগে মাদক সংক্রান্ত কেসে কলকাতার নারকোটিক্স দপ্তরের অফিসারেরা তাকে গ্রেপ্তারও করে। জেলও খাটে। কিন্তু বেরিয়ে আসার পর ফের নেমে পরে রমরমিয়ে গাঁজা কারবারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এই মাদক কারবারীর সঙ্গে স্থানীয় শাসকদলের এক নেতার ঘনিষ্ট যোগাযোগও রয়েছে। 

পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের এক কর্তা এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, শহর তথা গোটা জেলা জুড়েই নিয়মিত অভিযান চালানো হয় অবৈধ এই মাদক কারবারীদের ধরার জন্য। ধরাও পরে। এরপরেও এই কারবার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের ধরতে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। অভিযানও চালাচ্ছে। অন্যদিকে বর্ধমানের একটি রিহ্যাভিলেটেশন সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, ইদানিং বিশেষ করে কম বয়সী ছেলেদের মাদকাসক্ত হওয়ার প্রবণতা বেড়ে গেছে। প্রায়ই বাবা মায়েরা তাদের ছেলেদের নানান অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ছেলেদের ফের সুস্থ করে তোলার জন্য রিহ্যাবে নিয়ে আসছেন। রিহ্যাব সেন্টারের এক কর্মী জানিয়েছেন, মূলত মাদক দ্রব্যের সহজলভ্যতা এই উঠতি বয়সের ছেলেদের নেশাসক্ত করে তুলছে। অবিলম্বে মাদক কারবারের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।                                             ক্রমশ:
বর্ধমান শহর জুড়ে মাদক কারবারীদের রমরমা, নেশায় বুঁদ যুব সমাজের একাংশ, উদাসীন প্রশাসন
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top