Headlines
Loading...
নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত বর্ধমানের দুই ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডারের এখনো জোটেনি ভ্যাকসিন, প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু

নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত বর্ধমানের দুই ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডারের এখনো জোটেনি ভ্যাকসিন, প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: মাত্র পাঁচ মাস আগেই রাজ্য জুড়ে বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তৎপরতার শেষ ছিল না। সাধরণ মানুষকে ভোটে উৎসাহ জোগাতে জেলা জুড়ে নানান ধরণের প্রচারও করেছিল কমিশন। নির্ভয়ে ভোট দিন, সকাল সকাল ভোট দিন, নিজের ভোট নিজে দিন সহ আশি উর্ধদের পোষ্টাল ব্যালটে ভোটদানে উৎসাহ জোগানোর কাজে বিভিন্ন ব্লকে ব্র্যান্ড এ্যাম্বাসাডারও নিয়োগ করেছিল কমিশন। সেই মোতাবেক পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারী ১নং ব্লকে নির্বাচনের ব্রাণ্ড এ্যাম্বাসাডার তথা আইকন করা হয়েছিল 
মেমারীর কলানবগ্রামের দুই খর্বকায় ভাই সঞ্জীব মণ্ডল এবং মানিক মণ্ডলকে। রীতিমত খোদ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে গত ৪ মার্চ ঘটা করে চিঠি দিয়ে তাঁদের জানানোও হয়েছিল যে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মোতাবেক তাঁদের পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারী ১নং ব্লকে নির্বাচনের ব্রাণ্ড এ্যাম্বাসাডার তথা আইকন করা হচ্ছে। 


অথচ নির্বাচন পর্ব মিটে যাবার পর এই দুই খর্বকায় ভাই সঞ্জীব মণ্ডল এবং মানিক মণ্ডলের খোঁজ কেউ রাখেননি। আরও অবাক করার বিষয় এই যে, করোনাকালে এই দুই ভাই বারবার জেলা তথা ব্লক প্রশাসনের কাছে তাঁদের ভ্যাকসিনের জন্য আবেদন জানালেও জেলার এ্যাম্বাসাডার তথা আইকন ভ্রাতৃদ্বয়ের জোটেনি কোনো কোভিড ভ্যাকসিন। বুধবারই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই শুরু হয়েছে জেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য। 

খোদ মেমারী ১-এর বিডিও ডা. আলি মহম্মদ ওয়ালি উল্লাহ জানিয়েছেন, তাঁর কাছে ওই দুই ভাই আসেননি। হয়তো অন্য কারুর মাধ্যমে আবেদন জানিয়েছেন। তবুও বিষয়টি তিনি জানার পরই দ্রুত তাঁরা যাতে ভ্যাকসিন পান – তার ব্যবস্থা করবেন। উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনে অন্যান্যবারের মতই নির্বাচন কমিশন প্রতিটি জেলায় জেলায় আলাদা আলাদা করে ভোটের প্রচারের জন্য বিভিন্ন ধরণের মানুষকে নিয়োগ করেন। গত বিধানসভা ভোটের জন্যও বর্ধমান থেকে এই দুই ভ্রাতৃদ্বয়কে নির্বাচন করে জেলা প্রশাসন। তাঁরা মেমারী ১নং ব্লক জুড়ে ভোটদানে উৎসাহ বাড়াতে চষে বেড়িয়েছেন। এমনকি তাঁরাও পোষ্টাল ব্যালটেই এবার নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।


সঞ্জীব মণ্ডল এবং মানিক মণ্ডলরা জানিয়েছেন, তাঁরা আর পাঁচটা সাধারণের মত চলা ফেরা করতে পারেন না। চলাফেরা করেন হুইল চেয়ারে। তার মধ্যে চলছে করোনা আবহ। ফলে স্বশরীরে তাঁরা ভ্যাকসিনের জন্য কোথাও আবেদন জানাতে পারেননি। ফোনেই আবেদন জানিয়েছেন প্রশাসনিক স্তরে। কিন্তু করোনার প্রথম, দ্বিতীয় ঢেউয়ের শেষে তৃতীয় ঢেউ ঢুকে পড়লেও তাঁরা এখনো ভ্যাকসিন পাননি। ফলে কিছুটা আতংকেই দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। 


এই দুই ভাই জানিয়েছেন, গত ৪ মার্চ মেমারী ১নং ব্লকের বিডিও অফিস থেকে তাঁদের কাছে চিঠি আসে। ৬ মার্চ বিডিও অফিসে তাঁদের দুইভাইকে স্বশরীরে হাজির হতেও বলা হয়। এরপর যথারীতি তাঁদের দুই ভাইকে ভোটের প্রচারে নির্বাচন কমিশন আইকন হিসাবে নিয়োগ করেন। তাঁরা তাঁদের কর্তব্যও পালন করেন। কিন্তু তারপর আর কেউ ফিরেও তাকায়নি তাঁদের দিকে। এমনকি তাঁদের নিকটবর্তী পাল্লারোড স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বারবার গিয়ে ঘুরে আসতে হচ্ছে তাঁদের। স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে, পরে খোঁজ নেবেন। এমনকি স্থানীয় আশাকর্মীরাও তাঁদের প্রতিবন্ধী হিসাবে ভ্যাকসিন দেবার ব্যাপারে কোনো উদ্যোগও নেননি বলে জানিয়েছেন ভ্রাতৃদ্বয়। যদিও বিষয়টি বুধবার জানার পরই দ্রুত এই দুই অ্যাম্বাসাডার ভাইদের ভ্যাকসিন দেবার ব্যাপারে উদ্যোগ নেবার কথা জানিয়েছেন বিডিও। এখন দেখার কবে মেলে এই দুই ভাইয়ের ভ্যাকসিন।


0 Comments: