Headlines
Loading...
পূর্ব বর্ধমানে চলতি আর্থিক বছরে আরও ৩০ হাজার বাংলা আবাস যোজনার বাড়ির অনুমোদন

পূর্ব বর্ধমানে চলতি আর্থিক বছরে আরও ৩০ হাজার বাংলা আবাস যোজনার বাড়ির অনুমোদন


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: চলতি আর্থিক বছরে নতুন করে বাংলা আবাস যোজনায় পূর্ব বর্ধমানের জন্য ৩০ হাজার ৮৫টি নতুন বাড়ির অনুমোদন দিল রাজ্য সরকার। শুধু বর্ধমানই নয়, একইসঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও বাংলা আবাস যোজনায় লক্ষাধিক বাড়ির অনুমোদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য সচিবের সঙ্গে প্রত্যেক জেলার জেলাশাসকদের বৈঠকে এই কাজ নিয়ে খোঁজখবরও নেওয়া হয়। পূর্ব বর্ধমান জেলার জন্য চলতি আর্থিক বছরে ৩০ হাজার ৮৫টি নতুন বাড়ি তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী ২০২২ সালের মধ্যে দারিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারী প্রত্যেক পরিবারকে পাকা বাড়িতে বসবাস করার সুবিধা প্রদানের কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য সাম্প্রতিককালে বিজেপি শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিশেষ করে বাংলা আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরী নিয়ে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে কাটমানি নেবার বিস্তর অভিযোগ করেছে। দফায় দফায় অভিযোগ করা হয়েছে বাংলা আবাস যোজনায় বাড়ি করে দেবার নাম করে তৃণমূল নেতারা কাটমানি নিচ্ছেন। কিন্তু কার্যত সেই সমস্ত অভিযোগকে গুরুত্ব না দিয়েই রাজ্য সরকার বাংলা আবাস যোজনায় রাজ্য জুড়ে দারিদ্র সীমার নিচে মানুষদের বসত বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার পরিকল্পনা জারি রেখেছে। 

প্রসঙ্গত, SECC (Socio Economic Cast Census) তালিকা থেকে উপভোক্তারা এই প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত হন। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি উপভোক্তাকে তাদের নিজের বাড়ি নিজে প্রস্তুত করার জন্য বর্তমানে তিনটি কিস্তিতে মোট এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা প্রদান করে সরকার। প্রথম কিস্তিতে পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকা, যার মাধ্যমে বাড়ির জানালা পর্যন্ত নির্মাণ, দ্বিতীয় কিস্তিতেও পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকা, যার দ্বারা বাড়ির লিন্টেল লেভেল পর্যন্ত নির্মাণ এবং তৃতীয় এবং সর্বশেষ কিস্তিতে ত্রিশ হাজার টাকা যার মাধ্যমে বাড়ির ছাদ ও জানালা, দরজা, প্লাস্টার সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ কার্য সম্পন্ন করা হয়। প্রতিটি কিস্তির অর্থ উপভোক্তার নিদিষ্ট ব্যাঙ্ক একাউন্টে সরাসরি প্রদান করা হয়। প্রতিটি কিস্তির কাজ তদারকির জন্য সরকারী আদেশনামা অনুযায়ী পঞ্চায়েতের আধিকারিকগণ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকেন। 

বাড়ির নির্মাণ কার্য শেষ হওয়ার পর উপভোক্তার নাম ও আর্থিক বছর উল্লেখ করে প্রকল্পটির নাম বাড়ির দেওয়ালে লিখেও দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, পূর্ব বর্ধমান জেলায় ২০১৬-১৭ আর্থিক বছরে ২৯,৩১৪ জন ও ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে ৩২,৪৯০ জন এবং ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরে ৫০,১৮৫ জন মোট ১,১১,৯৮৯ জন উপভোক্তা এই প্রকল্পে সুবিধা পেয়েছেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে এখনো পর্যন্ত ১,০৫,৩৬৬ জন (৯৪ শতাংশ) উপভোক্তা নিজ বাড়ি নির্মানের কার্য শেষ করে পাকা বাড়িতে বসবাস করছেন এবং বাকি ৬,৬২৩ জন (৬ শতাংশ) উপভোক্তারাও তাদের বাড়ি নির্মানের কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জান গেছে, ১০০ দিনের প্রকল্পে এই প্রকল্পে মোট ৯০ দিনের মঞ্জুরী প্রদান করা হয়। আর এরই মধ্যে নতুন করে ২০২০-২১ এই আর্থিক বছরের জন্য ৩০হাজার ৮৫টি নতুন বাড়ি তৈরির লক্ষ্যমাত্রা রাজ্যের তরফ থেকে আসায় এবার নতুন উদ্যমে এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ করতে উদ্যোগী হয়েছে জেলা প্রশাসন। 

যদিও তাকে কটাক্ষ করতে কসুর করছে না বিজেপি। বিজেপির জেলা কমিটির এক নেতা জানিয়েছেন, উপভোক্তাদের যে তালিকা তৈরী হয়েছে তার সিংহভাগই শাসকদলের অনুগামী। বিরোধী মতাদর্শের লোকেদের এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। এনিয়ে তাঁরা আন্দোলন করবেন। যদিও বিজেপির এই অভিযোগকে পাত্তা দিতে চাননি পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দেবু টুডু। তিনি জানিয়েছেন, বিজেপির কাজই হচ্ছে সব বিষয়েই অভিযোগ খুঁজে বার করা। গোটা বাংলা জুড়ে যে নিরবচ্ছিন্ন উন্নয়ন চলছে সেটা সহ্য করতে পারছে না বলেই এই সব মিথ্যা অভিযোগ করছে। তিনি বলেন, দেশ তথা গোটা দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষ যে সমস্ত সমস্যায় প্রতিদিন নাজেহাল হচ্ছেন সেই সমস্ত সমস্যা সমাধানে নজর দিক। সাধারণ মানুষের উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধিকার, কর্তব্য। 

0 Comments: