Headlines
Loading...
অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটছে দেশের সার্কাসের কলাকুশলীদের

অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটছে দেশের সার্কাসের কলাকুশলীদের


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: করোনার দাপটে গত প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ গোটা দেশ জুড়েই সার্কাস শিল্প। কিন্তু এখনও কোনো সরকারের পক্ষ থেকেই এই সার্কাস শিল্পীদের নিয়ে কোনো ভাবনাচিন্তাই করা হয়নি বলে আক্ষেপ এখন সার্কাস
শিল্পীদের। এদিকে, এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শো করতে গিয়ে সেখানেই স্থবির হয়ে পড়ে রয়েছেন সার্কাসের কলাকুশলীরা। কার্যত অর্ধাহারেই দিন কাটছে তাদের। অবিলম্বে সরকারের দৃষ্টি দেবার আবেদনও উঠেছে। বাংলার বুকে যে কয়েকটি বড়মাপের সার্কাস এখনও টিঁকে রয়েছে তার মধ্যে অজন্তা সার্কাসের ম্যানেজার মোল্লাক সাদেক রহমান ওরফে হ্যাপি জানিয়েছেন, তাঁদের কষ্ট আর দুঃখের কথা কাউকেই তাঁরা বলতে পারছেন না। 


লকডাউনের জেরে বন্ধ সমস্ত সার্কাস। তিনি জানিয়েছেন, গতবছর ১০ জানুয়ারী তাঁরা বীরভূমের নলহাটিতে শো করেন। এরপর সেখানে থেকে তাঁরা চলে যান সাগরদিঘী। সাগরদিঘীর শো করে তাঁরা ফের তাঁবু ফেলেন সাঁইথিয়ায়। কিন্তু এরপরই শুরু হয়ে যায় লকডাউন। বন্ধ হয়ে যায় সার্কাস। তিনি জানিয়েছেন, অজন্তা সার্কাসের সঙ্গে যুক্ত ২১০জন কলাকুশলী। ফলে কমবেশী প্রায় ১২০০-র কাছাকাছি মানুষ এর ওপর নির্ভরশীল। যার মধ্যে অজন্তা সার্কাসে যে মহিলারা কাজ করেন তাঁদের বেশিরভাগই নদীয়ার করিমপুর, বেতাই এলাকার। কিন্তু করোনার জেরে সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। 


সাদেক রহমান জানিয়েছেন, ২০০০ সাল থেকেই ধাপে ধাপে সার্কাসের জন্তুদের নিয়ে খেলা দেখানো বন্ধ হতে থাকে। ফলে সার্কাসের যে মূল আকর্ষণ ছিল তা ফিকে হতে শুরু করে। তা সত্ত্বেও তাঁরা ভিনদেশী শিল্পীদের নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। কিন্তু করোনা সবকিছু শেষ করে দিল। তিনি জানিয়েছেন, এই সময়কালে গোটা দেশের মধ্যে প্রায় ৪৫টিরও বেশি সার্কাস বন্ধ হয়ে গেছে। সাদেকবাবু জানিয়েছেন, ১৮৮০ সালে প্রথম ভারতবর্ষে সার্কাস আসে ইউরোপ থেকে। তারপর মহারাষ্ট্রে প্রথম সার্কাস পার্টি তৈরী হয়। এরপর আস্তে আস্তে তা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। 


তিনি জানিয়েছেন, সার্কাস মানেই ছিল বাঘ সিংহের খেলা। শুধু তাইই নয়, এই সার্কাসের বাঘেরা প্রতিবছর ৮টি করে বাচ্চা দিত। ফলে তাঁদেরও খেলা দেখাতে সুবিধা হত। কিন্তু আস্তে আস্তে সব শেষ হয়ে গেল। বর্ধমানের নীলপুর এলাকার বাসিন্দা মোল্লা সাদেক রহমান জানিয়েছেন, গত প্রায় দেড় বছর ধরে রোজগারহীন হয়ে তাঁদের দিন কাটছে। তিনি জানিয়েছেন, যাঁরা সার্কাসের শিল্পী তাঁরা অন্য কোনো পেশার কাজও করতে পারছেন না। ফলে সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করছে ক্রমশই। আরও মর্মান্তিক কথা জানিয়েছেন সাদেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, এই লকডাউনের সময় সরকারের পক্ষ থেকে তাঁরা কোনো সাহায্যই পাননি। 


এমনকি তিনি তাঁর বৃদ্ধা মা ও ছেলেকে নিয়ে বারবার জেলা খাদ্য দপ্তরে গেছেন রেশন কার্ডের জন্য। আজও হয়নি। ফলে সরকারী বিনামূল্যে চাল, গম পাওয়া থেকেও তাঁরা বঞ্চিত হয়ে রয়েছেন। যা পেলে দুবেলা দুমুঠো খেয়ে বেঁচে থাকতে পারতেন। কিন্তু সেই সহায়তাও তাঁর কপালে জোটেনি। তিনি জানিয়েছেন, একদিকে, সার্কাস শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা অন্যদিকে সার্কাসের সঙ্গে যুক্ত কলাকুশলীদের বাঁচানোর জন্য সরকার যদি এগিয়ে আসে তবেই সবাই বাঁচবে। নাহলে আস্তে আস্তে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বেন তাঁরা।

0 Comments: