728x90 AdSpace

Latest News

Saturday, 8 May 2021

বর্ধমান শহরের পীরবাহারাম ডাঙাপাড়া এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা, তৃণমূল নেতার বাড়ি ঘেরাও


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: সামনেই ঈদ। আর পবিত্র ঈদকে সামনে রেখেই খুনের পলাতক আসামিরা ফের ঘরে ঢোকার চেষ্টা করছে। এই অভিযোগে শনিবার বর্ধমান শহরের পীরবাহারাম ডাঙাপাড়া এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। উল্লেখ্য গত ১৫ ফেব্রুয়ারী তৃণমূল নেতা তথা স্থানীয় পীরবাহারাম ডাঙাপাড়া জোনাকি সংঘের সম্পাদক  মহম্মদ আকবর ওরফে কালো (৪৬)  খুন হন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ক্লাব দখলকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের একটি গোষ্ঠীর হাতে খুন হন কালো। ওই ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল নেতা সেখ মুন্না সহ প্রায় ৯ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান সেখ মুন্না সহ দুটি পরিবারের প্রায় ৯জন। শনিবার সকালে মুন্নার পরিবারের দুই মহিলা বাড়িতে ফেরত আসতে গেলে তাতে বাধা দেন স্থানীয়রা। 


অভিযোগ, সেই সময় ১৯ নং ওয়ার্ডের তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলার সেখ সাহাবুদ্দিন ঈদের দোহাই দিয়ে তাঁদের বাড়িতে ঢুকতে দেবার নির্দেশ দেন। আর এরপরই শুরু হয় গোটা এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এলাকাগতভাবে তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অভিযুক্তদের পাড়ায় কোনোভাবেই থাকতে দেওয়া হবে না। কিন্তু তারপরেও এদিন প্রাক্তন কাউন্সিলার তাঁদের বাড়িতে ঢুকতে দেবার নির্দেশ দেওয়ায় কার্যত ক্ষীপ্ত হয়ে ওঠেন এলাকার মানুষজন। এই ঘটনায় কয়েকশো মহিলা ও পুরুষ এদিন ওই কাউন্সিলারের বাড়ি চড়াও হন। কিন্তু তার আগেই সেখ সাহাবুদ্দিন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁকে না পাওয়ায় ফেরত চলে যান বাসিন্দারা। যদিও তাঁরা ফের আসার হুঁশিয়ারী দিয়েছেন। ফলে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে গোটা এলাকায়। 


খবর পেয়ে এদিন ঘটনাস্থলে আসে বর্ধমান থানার পুলিশও। এদিকে, এরই মাঝে অভিযুক্তদের একটি বাড়িতে আগুন লাগায় বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কেউ বলেছেন শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে, আবার কেউ বলেছেন আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে, ফলে তা নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন করে উত্তেজনা। উল্লেখ্য, পুরনো বিবাদের জেরে ক্লাব দখল এবং তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদের জেরে ১৫ ফেব্রুয়ারী রাতে নৃশংস্যভাবে খুন হন মহম্মদ আকবর ওরফে কালো (৪৬)। তিনি এলাকার তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার সাহাবুদ্দিন খানের ঘনিষ্ট বলে পরিচিত ছিলেন।


 এলাকার মানুষজন জানিয়েছেন, ওইদিন ক্লাব দখলকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজিও করা হয়। এলাকার এই জোনাকি সংঘের সম্পাদক ছিলেন মহম্মদ আকবর ওরফে কালো। প্রায় একবছর আগে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। নতুন সম্পাদক করা হয় সেখ মুন্নাকে। জানা গেছে, কালোর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তারপর গত কয়েকমাস ধরে ক্লাবের কোনো উন্নয়ন না হওয়ার অভিযোগে ফের কালোকেই সম্পাদক পদে ফিরিয়ে আনার দাবীতে সোচ্চার হন একটি গোষ্ঠী। তা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা চলছিল। এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারী রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে কালোকেই সম্পাদক পদে বসানো হয়। এমনকি রীতিমত হাজার খানেক টাকার বাজি ফাটিয়ে তাঁকে ক্লাবে ঢোকানো হয়।


 ক্লাবের সদস্যদের একাংশ এই উপলক্ষে রাতে একটি পিকনিকের আয়োজন করেন। রাতের পিকনিকের খাবারের আয়োজনে ব্যস্ত ছিলেন কালো। এই সময় সেখানে সেখ মুন্নার দলবল সশস্ত্র অবস্থায় হাজির হন। কালোকে এলোপাথাড়ি মারধর করার পর চপার জাতীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর ঘাড়ে কোপানো হয়। এই সময় তাঁকে বাঁচাতে ছুটে আসেন জসিমউদ্দিন নামে এক যুবক। তাঁকেও মারধর করা হয়। এদিকে, আচমকা এই হামলার খবর পেয়েই এলাকার মানুষ ছুটে আসলে মুন্নার দলবল ব্যাপকহারে বোমাবাজি করে। 


এই সময় উত্তেজিত জনতা একজনকে ধরে ফেলে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় কালো এবং জসিমউদ্দিনকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই রাতে মৃত্যু হয় কালোর। এই ঘটনার পরই গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার পরই মুন্না সহ অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার মাস তিনেক কেটে যেতেই পবিত্র ঈদকে সামনে রেখেই ফের তাঁরা বাড়ি ঢোকার চেষ্টা করেন এদিন সকালে। আর তারপরেই নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে গোটা এলাকায়।
বর্ধমান শহরের পীরবাহারাম ডাঙাপাড়া এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা, তৃণমূল নেতার বাড়ি ঘেরাও
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top