Headlines
Loading...
দুর্গাপুর ব্যারেজের গেট ভেঙে পড়ায় আসন্ন বোরো চাষ নিয়ে আশংকায় পূর্ব বর্ধমানের চাষীরা

দুর্গাপুর ব্যারেজের গেট ভেঙে পড়ায় আসন্ন বোরো চাষ নিয়ে আশংকায় পূর্ব বর্ধমানের চাষীরা


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক, পূর্ব বর্ধমান: দুর্গাপুর ব্যারেজের ৩১ নং লকগেট ভাঙার জন্য পূর্ব বর্ধমান জেলার বিশেষ করে দামোদরের দুই পাড়ের কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া। তিনি জানিয়েছেন, সমগ্র পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাাশি, সেচ দপ্তর সূত্রে এদিনই জানানো হয়েছে, আগামী ৪৮ঘন্টার মধ্যে ভাঙা গেট মেরামতি করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।


উল্লেখ্য, শুক্রবার ৩১নং গেটটি ভেঙে যাওয়ায় বিপত্তি শুরু হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর ব্যারেজের জল অধিকাংশই ছেড়ে দিতে হচ্ছে ধাপে ধাপে এই গেট মেরামতের জন্য। মোট ৮ হাজার একর ফিট জল ছাড়া হচ্ছে। ধাপে ধাপে ১৯ হাজার কিউসেক করে জল ছাড়া হচ্ছে। শম্পা ধাড়া জানিয়েছেন, এই পরিমাণ জলে দামোদরের তীরবর্তী মানুষের কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই সেচ দপ্তরের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দামোদরের কয়েকটি সেচ ক্যানেলের মাধ্যমে কিছু জল সেচের 
কাজে ব্যবহার করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে, দুর্গাপুর ব্যারেজের ৩১নং গেট ভেঙে যাওয়া এবং প্রায় সমস্ত জল ছেড়ে দেওয়ায় আগামী বোরো চাষে ভয়াবহ জল সংকট দেখা দেবার আশংকা তৈরী হয়েছে। চাষীরা জানিয়েছেন, বোরোতে যদি দামোদরের জল পাওয়া না যায় তাহলে কৃষি ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে বাধ্য। এমনিতেই চলতি বছর জুড়েই করোনা আবহে কমবেশি কৃষিতেও ক্ষতি হয়েছে। অনেকেই তাই অনেক আশা নিয়ে বোরোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু দুর্গাপুর ব‌্যারেজের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যদি বোরোয় জল পাওয়া না যায় তাহলে শস্য ভাণ্ডার বর্ধমানে চাষ হবেনা। উপরন্তু দামোদরের জল পাওয়া না গেলে সাবমার্শিবলের ব্যবহার হু হু করে বেড়ে যাবে। ফলে ভূগর্ভস্থ পানীয় জলের সংকট আরও তীব্রতর হতে বাধ্য। 


উল্লেখ্য, দুর্গাপুর ব্যারেজের জল সঞ্চয় নির্ভর করে আপার ক্যাচমেণ্টের বৃষ্টির ওপর। কিন্তু চলতি পরিস্থিতি এবং ঠাণ্ডা পড়তে শুরু করে দেওয়ায় বৃষ্টির সম্ভাবনাও প্রায় নেই। এমতবস্থায় ৩১নং গেট ভেঙে যাওয়ায় কার্যতই গোটা জেলায় বোরো চাষ মুখ থুবড়ে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। সভাধিপতি জানিয়েছেন, এই বিষয়টি নিয়েও চিন্তাভাবনা করছেন। আলোচনা চলছে কিভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়। 


0 Comments: