Headlines
Loading...
পূর্ব বর্ধমান জেলার ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতে টোল ট্যাক্স বসিয়ে টাকা তোলার অভিযোগ, রাজ্যে অভিযোগ জানাতে চলেছে জেলা প্রশাসন

পূর্ব বর্ধমান জেলার ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতে টোল ট্যাক্স বসিয়ে টাকা তোলার অভিযোগ, রাজ্যে অভিযোগ জানাতে চলেছে জেলা প্রশাসন


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রায় ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত রাস্তায় টোল বসিয়ে আদায়কৃত টোলের টাকার যথাযথ হিসাব দিতে না পারায় ১৫টি পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তরে রিপোর্ট পাঠাচ্ছেন জেলাশাসক বিজয় ভারতী। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ওই ১৫টি পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের আধিকারিক পর্যায়ের একটি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় পূর্ব বর্ধমান জেলার এসআরডি দপ্তরের অধীন প্রায় ৯৫ কিমি রাস্তার কাজ না হওয়ায় রীতিমত ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জেলার রাস্তাঘাটের কাজ কেন হয়নি তার কৈফিয়ত তলব করেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই ক্ষোভের পরই জেলাশাসকের পৌরোহিত্যে দফায় দফায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অপরদিকে, খোদ জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দেবু টুডুকে এক সপ্তাহের মধ্যে ওই ৯৫ কিমি রাস্তার রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। 


মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনেই একদিকে সহকারী সভাধিপতি অন্যদিকে খোদ সভাধিপতি শম্পা ধারা রীতিমত ঝাঁপিয়ে পড়েন বন্ধ থাকা রাস্তার কাজ সম্পন্ন করার জন্য। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের আধিকারিক পর্যায়ে রোড সেফটি নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়। আর সেই বৈঠকেই উঠে আসে জেলার গ্রামীণ রাস্তাঘাটের করুণ চিত্র। জানা গেছে, এই বৈঠকে জেলাশাসক বিজয় ভারতী ছাড়াও হাজির ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া, জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমা শাসক সহ শশঙ্গা, রামনগর, ভেদিয়া, অমরপুর, লোদনা, বিল্লেশ্বর, নতু এবং হিজলনা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। উপস্থিত ছিলেন জামালপুর, আউশগ্রাম ২, বর্ধমান ২, মেমারী ১ এবং কেতুগ্রাম ২ এর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিরাও। 


জেলাশাসক জানিয়েছেন, গ্রামীণ পঞ্চায়েতের অধীন তথা জেলা পরিষদের অধীনে থাকা রাস্তায় পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে টোল ট্যাক্স বসানো হয়েছে। নিয়মানুযায়ী আদায়কৃত টোলবাবদ অর্থের ৫০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট রাস্তার কাজেই এবং বাকি অর্থ অন্যান্য রাস্তার কাজে ব্যবহার করতে হয়। আর তা যদি করা হয় তাহলে গ্রামীণ রাস্তা এতটা খারাপ হওয়ার কোনো কারণ থাকতে পারে না। জানা গেছে, এরপরই দেখা যায় দক্ষিণ দামোদরে কয়েকটি, গলসী সহ জেলার প্রায় ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত তাঁদের আদায়কৃত টোলের অর্থ যথাযথ খরচ করেনি। আর এরপরেই জেলাশাসক রীতিমত হুঁশিয়ারী দিয়ে জানিয়েছেন, এই ১৫টি পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে তিনি রাজ্যের পঞ্চায়েত দপ্তরে রিপোর্ট পাঠাবেন।


অন্যদিকে, বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির বিরুদ্ধে আইনানুগ সমস্ত রকম ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। এব্যাপারে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া জানিয়েছেন, বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত রকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই পাশাপাশি জানা গেছে, কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েত যে রাস্তার টোল আদায় করেছেন সে ব্যাপারে যথাযথ নিয়ম তাঁরা মানেননি। জানানো হয়নি জেলা পরিষদকে। পঞ্চায়েতের বোর্ড মিটিং ডেকেই টোল ট্যাক্স আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং তা কার্যকর করা হয়েছে। এমনকি জেলাপরিষদের টোল নয় এমন টোল থেকেও জেলাপরিষদের নামে স্লিপ কেটে টোলের টাকা আদায়ের  অভিযোগ  এসেছে। ফলে এবার গ্রামীণ রাস্তায় টোলের টাকা অবৈধ ভাবে তোলা বন্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের রাস্তায় হাটতে চলেছে জেলা পরিষদ বলে জানা গেছে।
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});