728x90 AdSpace

Latest News

Tuesday, 7 July 2020

পূর্ব বর্ধমানে ১০০ দিনের প্রকল্পে ঘাস ছিঁড়েই মিলছে টাকা, সরব বিরোধীরা


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বাংলার সমস্ত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেবার প্রকল্প নিয়েছেন। একইসঙ্গে যাঁরা কাজ করতে ইচ্ছুক তাঁদের প্রত্যেককে বিশেষত যে সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকরা ১০০ দিনের প্রকল্পে কাজ করতে চাইবেন তাঁদের দ্রুত জবকার্ড দেবার নির্দেশও দিয়েছেন। করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২ মাস ধরে ঘরবন্দি থাকার পর রাজ্যের আর্থিক অবস্থা তথা উন্নয়নকে দ্রুততর করতে ১০০ দিনের প্রকল্পে জোড় দেবার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর তাঁর সেই নির্দেশ পাবার পরই গোটা রাজ্য জুড়েই ১০০ দিনের কাজ হু হু করে চলছে।


কিন্তু এবার সেই ১০০ দিনের কাজ নিয়েই উঠতে শুরু করে দিল প্রশ্ন। জায়গায় জায়গায় ১০০ দিনের প্রকল্পে কেবলমাত্র ঘাস ছিঁড়েই মিলছে কাজের মজুরী - এমনটাই অভিযোগ করতে শুরু করেছেন বিরোধীরা। পূর্ব বর্ধমান জেলা যুব কংগ্রেস সভাপতি গৌরব সমাদ্দার জানিয়েছেন, ১০০ দিনের প্রকল্পে মানুষকে কাজ দেওয়া হচ্ছে এটা অত্যন্ত ভাল উদ্যোগ হলেও কি কাজ করা হচ্ছে এবং কি কাজের বিনিময়ে জবকার্ডধারীদের অর্থ প্রদান করা হচ্ছে সেটাও লক্ষ্য রাখা উচিত ছিল সরকার তথা প্রশাসনের। 

তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকা থেকেই তাঁরা খবর পাচ্ছেন এক একটি এলাকায় প্রায় শতাধিক কর্মী লাগিয়ে চলছে কেবলমাত্র রাস্তার ধারে ঘাস ছেঁড়ার কাজ। এক একজন শ্রমিক কেবলমাত্র হাতের নাগালের মধ্যেই সামান্য কিছু (কোথাও কোথাও এক ঝুড়িও নয়) ঘাস ছিঁড়েই তাঁর কাজ সাঙ্গ করছেন। এভাবে সরকারী অর্থের কার্যত অপচয় হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, চলতি সময়ে সাধারণ মানুষের কাছে এই ১০০ দিনের কাজ পাওয়া অত্যন্ত জরুরী। কারণ দীর্ঘ লকডাউনের জেরে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস শুরু হয়েছে। অনেকেই কাজ হারিয়ে বাড়িতে বসে রয়েছেন। এমতবস্থায় তাঁদের কাছে ১০০ দিনের কাজ নিয়মিত পাওয়াটা অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু সরকারী অর্থ ব্যয় করে কেবলমাত্র ঘাস ছেঁড়ার কাজ করা হলে - তা সরকারী অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। 


এদিকে, শুধু কংগ্রেসই নয়, ১০০ দিনের কাজ নিয়ে এভাবে সরকারী অর্থের অপচয় নিয়ে সরব হচ্ছে বিজেপিও। বিজেপির বর্ধমান জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দী জানিয়েছেন, যাঁরা ঘাস ছিঁড়ছেন এখানে তাদের কোনো দোষ বা অন্যায় নেই। যাঁরা তাঁদের ঘাস ছেঁড়াচ্ছেন এটা তাঁদের অন্যায়। তিনি জানিয়েছেন, সঠিক পরিকল্পনা না থাকার জন্যই এই ধরণের হাস্যকর ঘটনা ঘটছে। তিনি জানিয়েছেন, এই প্রকল্পে সম্পদ সৃষ্টিই প্রশাসনের লক্ষ্য হওয়া উচিত – ঘাস ছেঁড়া নয়। তিনি জানিয়েছেন, এব্যাপারে তাঁরা জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাবেন। 

এদিকে, ১০০ দিনের কাজ নিয়ে সম্প্রতি সরকারীভাবে বেশ কিছু নতুন গাইড লাইন প্রকাশিত হয়েছে। কি কি কাজ করা যাবে, কি কি কাজ করাই যাবে না তাও সুষ্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই গাইড লাইন অনুযায়ী কোথাও কোথাও ক্যানেল, নালা সংস্কার জাতীয় কাজ, বৃক্ষরোপন প্রভৃতি কাজ করাও হচ্ছে। কিন্তু জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকেই অভিযোগ আসতে শুরু করেছে রাস্তার পাশে ঘাস ছিঁড়তে ব্যবহার করা হচ্ছে ১০০ দিনের প্রকল্পকে। 


এদিকে, এব্যাপারে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া জানিয়েছেন, গোটা রাজ্যের পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও ১০০ দিনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। কিন্তু ঘাস ছেঁড়া হচ্ছে - এরকম কোনো অভিযোগ তাঁরা এখনও পাননি। এরকম অভিযোগ এলে অবশ্যই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানিয়েছেন, প্রতি সপ্তাহেই তিনি এবং জেলাশাসক বিভিন্ন ব্লকে গিয়ে ১০০ দিনের কাজ খতিয়ে দেখছেন। কিন্তু এই ধরণের কোনো বিষয় তাঁদের চোখে পড়েনি।
পূর্ব বর্ধমানে ১০০ দিনের প্রকল্পে ঘাস ছিঁড়েই মিলছে টাকা, সরব বিরোধীরা
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top