Headlines
Loading...
বর্ধমানে বেঙ্গল ফেথ মেডিকায় বিরল অস্ত্রোপচার, কেটে পড়া হাতের ৩টি হাতের আঙুল জোড়া লাগলেন চিকিৎসক

বর্ধমানে বেঙ্গল ফেথ মেডিকায় বিরল অস্ত্রোপচার, কেটে পড়া হাতের ৩টি হাতের আঙুল জোড়া লাগলেন চিকিৎসক



ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: হাত থেকে কেটে আলাদা হয়ে গিয়েছিল বাঁ হাতের তিনটি আঙ্গুল, আর সেই কাটা আঙুলগুলোকেই অস্ত্রোপচারের পর ফের পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিয়ে বর্ধমানে বিরল নজির সৃষ্টি করলেন বেঙ্গল ফেথ মেডিকা হাসপাতালের চিকিৎসক।


বর্ধমান শহরের কাঞ্চননগর রথতলা এলাকার বাসিন্দা পেশায় কাঠমিস্ত্রি পঙ্কজ বিশ্বাসের কেটে যাওয়া ৩টি আঙুলকে নিখুঁত ভাবে জোড়া লাগিয়ে শুধুমাত্র যে বর্ধমান জেলার ক্ষেত্রেই নজীর গড়লেন এই বিশ্বমানের হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাইই নয়, রাজ্যের মধ্যেও রীতিমত কৃতিত্বের নজীর গড়লেন তাঁরা।


এই হাসপাতালের সেন্টার হেড সঞ্জয় সিংহ মহাপাত্র জানিয়েছেন, গত ২০ জুন পঙ্কজ বিশ্বাস নামে ওই প্রবীণ ব্যক্তি নিজের বাড়িতে কাঠের কাজ করতে থাকার সময় আচমকাই তাঁর বাঁ হাতের ৪টি আঙুলের ওপর দিয়ে ধারালো করাত চলে যায়। সঙ্গে সঙ্গেই একটি আঙুল কেটে পড়ে যায়। আরও দুটি আঙুল কেটে ঝুলতে থাকে। আচমকা এই দুর্ঘটনায় ভয় না পেয়ে রীতিমত মনের জোর নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে কাটা জায়গায় গামছা দিয়ে চেপে ধরেন তিনি।


পঙ্কজবাবু জানিয়েছেন, প্রথমে তাঁরা জাতীয় সড়কের ধারে রেনেসাঁর একটি বেসরকারি হাসপাতালে গেলেও সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি জানিয়েছেন, এরপরই তাঁর ছেলে প্রকাশ বিশ্বাস তাঁকে নিয়ে চলে আসেন এই বেঙ্গল ফেথ মেডিকা হাসপাতালে। দুপুর আড়াইটে নাগাদ হাসপাতালে আসার পরই তাঁর কোভিড পরীক্ষা করা হয়। হাসপাতালের প্লাষ্টিক সার্জেন ডা. কুশল পি আনন্দ দ্রুতই পঙ্কজবাবুর হাতের অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।


ডা. কুশল জানিয়েছেন, দুপুর প্রায় ৩টে নাগাদ তিনি অপারেশন থিয়েটারে ঢোকেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অনাসথেটিক ডাক্তার গোলাম আহমেদ, আর এম ও ড. ইলিয়াস মোল্লা, টেকনিশিয়ান সুইটি ভট্টাচার্য্য সহ ও.টি স্টাফ হরিশ, আবদুল, অঙ্কুশ। প্রায় ১২ ঘণ্টা অপারেশনের পর পঙ্কজবাবুর কেটে যাওয়া ৩টি আঙুলকে জোড়া লাগানো হয়। মঙ্গলবার ডা. কুশল জানিয়েছেন, এই অস্ত্রোপচার সফল। তাঁরা আশা করছেন আগামী কয়েকমাসের মধ্যেই ফের পঙ্কজবাবু স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারবেন।

হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের চিকিৎসক লীলাবতী ঠাকুর জানিয়েছেন, পঙ্কজবাবুর সঙ্গে যে ভয়ানক ঘটনা ঘটেছে এই বয়সে, তারপরেও কেটে পড়া আঙুলকে সঙ্গে নিয়ে যেভাবে তাঁদের কাছে তিনি স্বাভাবিক ভাবে আসেন - এটা অত্যন্ত প্রশংসার যোগ্য। তাঁর এই বয়সে ধৈয্য, সহ্যশক্তি এবং উপস্থিত বুদ্ধিই তাঁকে ফের স্বাভাবিক আঙুলে কাজ করতে সাহায্য করেছে।


পঙ্কজবাবু জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে তিনি কেটে পড়ে যাওয়া তথা জোড়া লাগানো আঙুল অল্প নাড়াতেও পারছেন। তার থেকেই তিনি বুঝতে পারছেন তিনি তাঁর কাঠের কাজে আবার স্বাভাবিকভাবেই ফিরতে পারবেন। এদিন সঞ্জয় সিংহ মহাপাত্র জানিয়েছেন, বর্ধমান জেলায় এই ধরণের সফল অস্ত্রোপচারের ঘটনা এর আগে তাঁরা শোনেননি। ঘটনা ঘটার প্রায় পাঁচ ঘন্টা অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও এই সফলতা তথা প্লাষ্টিক সার্জেন ডা. কুশলের দক্ষতা, পারদর্শিতায় বেঙ্গল ফেথ মেডিকা জেলার তথা পাশাপাশি অন্যান্য জেলার কাছে এই স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের নাম উজ্জ্বল করবে।

যদিও সঞ্জয় বাবু জানিয়েছেন, এই বিরল এবং জটিল অস্ত্রোপচার করার ক্ষেত্রে সব থেকে বড় ভূমিকা নিয়েছে তাঁদের এই হাসপাতালে থাকা অতি উন্নতমানের মাইক্রোস্কোপ। এই যন্ত্র না থাকলে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম শিরা উপশিরার এই অস্ত্রোপচার সম্ভব হত না।
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});