728x90 AdSpace

Latest News

Saturday, 9 May 2020

কিছু মানুষের দায়িত্বজ্ঞানহীনতাই কি বর্ধমানকে লালের দিকে নিয়ে যাচ্ছে? উঠছে প্রশ্ন


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: অরেঞ্জ ছিলই। সবুজ হওয়ার আশাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে তাতে লাল হয়ে যাবার সম্ভাবনার কথা কেউ উড়িয়ে দিতে পারছেন না। কতিপয় মানুষের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্যই পূর্ব বর্ধমান জেলার এই হাল বলে মনে করছেন অধিকাংশ জেলাবাসী। করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত কয়েকদিনের মধ্যে ৪জনের দেহে করোনা সংক্রমণের খবর প্রকাশিত হতেই এখন এই প্রশ্নটাই রীতিমত চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

খোদ পূর্ব বর্ধমান জেলায় প্রথম এবং দ্বিতীয় করোনা আক্রান্তরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসার পর যখন খোদ জেলাশাসক বিজয় ভারতী ঘোষণা করেন - পূর্ব বর্ধমান জেলাকে গ্রীন জোন ঘোষণা করা কেবল সময়ের অপেক্ষা - কার্যত প্রহর গুনতে শুরু করে জেলাবাসী। আর তখনই একেবারে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিলেন খোদ স্বাস্থ্য দপ্তরের একজন অভিজ্ঞ নার্স এবং অবশ্যই তাঁর পরিবারের লোকজন। কার্যত একের পর এক বর্ধমান জেলায় যে সমস্ত করোনা আক্রান্ত রোগীর খবর পাওয় গেছে তারা কেউই বর্ধমান শহরে ছিলেন না। আবার বর্ধমানে রয়েছেন, বাইরে যাননি - এরকম কারও করোনা আক্রান্তের খবরও এখনো মেলেনি। যদিও খণ্ডঘোষের বাদুলিয়া গ্রামের করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি বাইরে থেকে আক্রান্ত হয়ে আসার পর তাঁর ভাইঝি সংক্রমিত হয়। 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এখনও পর্যন্ত পূর্ব বর্ধমান জেলায় ৫জনের করোনা সংক্রমণ হয়েছে। প্রথম সংক্রমিত হয় বাদুলিয়া গ্রামের এক ব্যক্তি। জানা গেছে, ওই ব্যক্তি লকডাউন চলার মাঝেই গোপনে মোটরবাইক নিয়ে কলকাতার মেটিয়াবুরুজ থেকে বর্ধমানের খন্ডঘোষের গ্রামে আসেন। কিভাবে তিনি এতটা পথ গোপনে এলেন লকডাউনের মাঝে এবং সেক্ষেত্রে পুলিশের নাকাচেকিং-এর বেড়াজাল কিভাবে তিনি ভেদ করে বর্ধমানে ফিরলেন তা নিয়ে এখনও চাপান উতোর চলছে। প্রশ্ন উঠেছে ওই ব্যক্তির সামাজিক ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে। 

বাদুলিয়ার পর যখন কার্যত এই জেলা গুটি গুটি পায়ে অরেঞ্জ থেকে গ্রীণের দিকে এগিয়ে গেছিল, সেই সময় জেলার সবুজ শিরোপার সম্মানকে দ্বিতীয়বারের জন্য নষ্ট করলেন এক অভিজ্ঞ নার্স। স্বাস্থ্যকর্মীর সুবাদ এবং ক্ষমতাকে হাতিয়ার করে এবং তাঁর স্বামীর সরকারী ক্ষমতাকে অপব্যবহার করে দ্বিতীয়বারের জন্য জেলার মানুষকে নতুন করে আতঙ্কিত করে তুললেন। এক্ষেত্রেও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় পাওয়া গিয়েছিল। অভিজ্ঞ নার্স অসুস্থতা বোধ করেছিলেন – তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজন ছিলই। কিন্তু তাঁকে যেভাবে গোপনে এবং সরকারী ক্ষমতা অপব্যবহার করে চিকিৎসা কেন্দ্রের পরিবর্তে তাঁকে সরাসরি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রাখা হয়েছিল – তাতে তিনি যে কেবল তাঁর পরিবারের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছেন তাইই নয়, গোটা এলাকার সঙ্গে গোটা জেলাকেও আতংকে ফেলেছেন। 

যদিও বিদ্যুত দপ্তরের গাড়ি ব্যবহার করে তাঁর ফেরাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কে কি শাস্তি পাবে বা আদপেই পাবেন কিনা - সেটা বড় কথা নয়, বরং বর্ধমানের সবুজ হওয়ার আশায় জল ঢেলে দিয়েছে তাঁদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা বলেই মনে করছেন শহরবাসীর একাংশ। তৃতীয় আক্রান্তের খবর মিলেছে এই জেলারই মেমারীর এক যুবকের। জেলাশাসক জানিয়েছেন, মেমারীর ওই যুবকের গত ২৮ এপ্রিল কলকাতার আমরিতে অস্ত্রোপচার করা হয়। সেখান থেকে ৬ মে তিনি মেমারীতে বাড়ি ফেরেন। পরের দিন তার নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয় এবং শুক্রবার তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপরই তাকে দুর্গাপুরে সনকা কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার পরিবারের লোকজনকে কোয়ারেণ্টাইন সেণ্টারে পাঠানো হয়েছে। 

কিন্তু এক্ষেত্রেও সেই একই প্রশ্ন - আমরি কর্তৃপক্ষ তাঁর করোনা পরীক্ষা করিয়েছিলেন কিনা ? একইসঙ্গে তৃতীয় এই করোনা আক্রান্ত যুবক জেলার বাইরে থেকেই এসেছে। এরই পাশাপাশি চতুর্থ যে পজিটিভ কেস মিলেছে সেটি খণ্ডঘোষের বড় গোপীনাথপুর এলাকায়। তিনি কলকাতা হেয়ার স্ট্রীট থানার পুলিশ কর্মী। যদিও গত ২৬ এপ্রিল তিনি খণ্ডঘোষ থেকে ফিরে যান কর্মস্থলে। তাঁর নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ কেস মিলেছে। ইতিমধ্যেই তাঁর পরিবারের ৪জন সহ একজন পরিচারিকা এবং অন্য আরও একজন সহ মোট ৬জনকে কোয়ারেণ্টাইন সেণ্টারে পাঠানো হয়েছে। 

এক্ষেত্রেও করোনার যোগ বাইরের, জেলার অভ্যন্তরে নয়। অন্যদিকে, কলকাতার যাদুঘরে কর্তব্যরত যে সিআইএসএফ সাব ইন্সপেক্টরের করোনায় মৃত্যু হয়েছে তিনি পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা শহরের বাসিন্দা হলেও লকডাউনের আগেই তিনি বাড়ি থেকে চলে যান কর্মস্থলে। যদিও এই ঘটনায় তাঁর পরিবার বা এলাকাগত কোনো উদ্বেগের কারণ ঘটেনি। কারণ পরিবারের সঙ্গে এই পর্যায়ে তাঁর কোনো যোগই ছিল না। বস্তুত, এখনও পর্যন্ত করোনা সংক্রান্ত যে কটি আক্রান্তের খবর মিলেছে তার সবকটিই বহিরাগতদের দ্বারা এবং চুড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং নিরাপত্তার বেড়াজালকে ছিন্ন করে আসা। 

জানা গেছে, ইতিমধ্যেই পূর্ব বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে জেলা পুলিশকে এই কেস হিষ্ট্রি উল্লেখ করে কিভাবে বাইরে থেকে জেলায় ঢুকছেন তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের এক মুখপাত্র রীতিমত খেদোক্তি করেই জানিয়েছেন, তাঁরা দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন। জেলাবাসীকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে তাঁরা সবটুকু উজার করে যখন নিঙড়ে দিচ্ছেন সেই সময় কিছু মানুষের দায়িত্বজ্ঞানহীনতাই তাঁদের সব প্রচেষ্টাকে পণ্ড করে দিচ্ছে। কার্যত, এর জন্যই সুকৌমার্য্য সবুজ পূর্ব বর্ধমান জেলাকে ক্রমশই কমলা রঙে ভরিয়ে তুলে লালের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
কিছু মানুষের দায়িত্বজ্ঞানহীনতাই কি বর্ধমানকে লালের দিকে নিয়ে যাচ্ছে? উঠছে প্রশ্ন
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top