728x90 AdSpace

Latest News

Monday, 16 March 2020

করোনা নিয়ে কড়া সতর্কতা জেলায়, ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতির মুখে বিভিন্ন সংস্থা


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: করোনা ভাইরাস নিয়ে সতর্কতায় আরও কয়েকধাপ এগোলো পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। এদিনই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জেলা প্রশাসনের ভিডিও কনফারেন্সে করোনা ভাইরাস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাও হয়েছে। অন্যদিকে, করোনার প্রভাব পড়েছে বর্ধমানে জেলা প্রশাসনের এদিনের বৈঠকেও। নিজের অফিসে এদিন মুখে মাস্ক পরে একের পর এক বৈঠক করলেন পূর্ব বর্ধমানের জেলা শাসক বিজয় ভারতী। জেলা শাসকের দেখাদেখি অন্যান্য আধিকারিকরাও রুমাল দিয়ে মুখ ঢাকার চেষ্টা চালান।

নিজে সতর্ক থাকার পাশাপাশি অন্যান্যদের সতর্ক করতেই জেলা শাসক মুখে মাস্ক লাগিয়ে বৈঠক করছেন বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিন জেলাশাসক বিজয় ভারতী জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতই তাঁরা কাজ করে চলেছেন। মঙ্গলবার থেকে বর্ধমান, কালনা এবং কাটোয়া ষ্টেশনে স্ক্রিনিং চালু হচ্ছে। বর্ধমান ষ্টেশনে এই যাত্রীদের এই স্ক্রিনিং এবং হেল্প ডেস্ক চালু করা হচ্ছে। সাধারণ যাত্রীদের করোনা সংক্রান্ত যাবতীয় জিজ্ঞাসার উত্তর দেওয়া হবে এখান থেকেই। এরই পাশাপাশি এদিনই মাস্ক নিয়ে কালোবাজারি রুখতে সোমবার রাত থেকেই বিভিন্ন এজেন্সীগুলিতে হানা দেবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জেলাশাসক এদিন জানিয়েছেন। 
জেলাশাসক জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত জেলায় মোট ৬৬জনকে পূর্ব বর্ধমান জেলায় নজরদারীর মধ্যে রাখা হয়েছিল। তার মধ্যে ইতিমধ্যেই ৬জন নির্দিষ্ট সময়সীমা পার করে নিরাপদে রয়েছে। বাকিদের ক্ষেত্রেও কোনো করোনা আক্রান্তের পজিটিভ কেস পাওয়া যায়নি। যদিও এরই মাঝে আউশগ্রাম ১ ব্লকের রামনগর জিপির হাটমাধবপুর এলাকার বাসিন্দা দীনেশ মন্ডলের ছেলে আনন্দ মন্ডল সম্প্রতি কেরালা থেকে বাড়ি আসেন। আর তারপরই তাঁকে জ্বর, সর্দি,কাশি নিয়ে বননবগ্রাম স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসক তাঁর পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর করোনার লক্ষণ রয়েছে বলে প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ করে এবং বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেন। এই ঘটনায় রীতিমত আলোড়ন সৃষ্টি হয়। 

গোটা বিষয়টি নিয়ে জেলাশাসকের কাছে খবর আসার পর তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও এব্যাপারে এই ব্যক্তি আদপেই করোনা আক্রান্ত কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ দেখা দিয়েছে। জেলাশাসক জানিয়েছেন, এদিনই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আইসিডিএস কেন্দ্রগুলি বন্ধ থাকলেও এককালীন অঙ্গনওয়াড়ির শিশু ও মায়েদের খাবার তাঁদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে। বেসরকারী স্কুল কিছু এদিনও খোলা থাকায় তা বন্ধের বিষয় নিয়েও এদিন জেলাশাসক জানিয়েছেন, এব্যাপারে বেসরকারী স্কুলগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হবে। 

এদিকে, করোনা ভাইরাসের জেরে ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে এসে দাঁড়াতে শুরু করল বেশ কিছু সংস্থা। বর্ধমানের বিশিষ্ট ট্রাভেলস ক্লাবের কর্ণধার অনির্বাণ আবেদিন জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসের জেরে হু হু করে বুকিং বাতিল হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই যাঁরা এই গরমের শুরুতেই বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যাবার জন্য তৈরী হয়েছিলেন। গত দুদিনে তা বাতিলের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ফলে তাঁরা চুড়ান্ত অর্থনৈতিক সংকটের মুখে এসে পড়েছেন।  

এদিকে, চলতি করোনা ভাইরাসের জেরে মুরগীর দাম হু হু করে নামতে শুরু করায় আতংকও আরও বাড়তে শুরু করেছে। এদিনই বর্ধমান শহরের বেশ কয়েকটি জায়গায় ১০০ টাকায় ৪টি মুরগী বিক্রি হওয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এদিন বর্ধমানের অন্যতম ক্যাটারিং সংস্থার কর্ণধার সত্যজিত দত্ত জানিয়েছেন, বিয়েবাড়ি বা ব্যক্তি বিশেষের অনুষ্ঠানে কোথাও কোনো প্রভাব তাঁরা এখনও পাননি। বিয়ের অনুষ্ঠানগুলিতেও মুরগীর মাংসের চাহিদা মোটেও কমেনি। কিন্তু সরকারী বিভিন্ন সংস্থা করোনা ভাইরাসের জেরে অনুষ্ঠান বাতিল করায় তাঁরা অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, খোদ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়েই চলতি সময়ে বেশ কয়েকটি অর্ডার তাঁদের বাতিল করা হয়েছে করোনা ভাইরাসের জেরে। অথচ তার জন্য তাঁদের প্রস্তুতি সারা হয়ে গিয়েছিল। ফলে সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। 

এদিকে, করোনা ভাইরাসের জেরে যখন জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছে সেই সময় খোদ জেলাশাসকের দপ্তর থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে দেখা গেছে জড়িবুটি বিক্রেতাকে ঘিরে অসংখ্য মানুষের ভিড়। যদিও প্রকাশ্যে এব্যাপারে কেউ মুখ না খুললেও করোনার হাত থেকে রক্ষা পেতেই অনেকে বিভিন্ন গাছের মূল ধারণ করছেন বলে জানা গেছে। 

অন্যদিকে, করোনা ভাইরাস বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বয়স্কদের ওপর প্রভাব বিস্তার করায় বিশেষত বৃদ্ধাশ্রমগুলিতেও এর নজরদারীর দাবী উঠেছে। বর্ধমানে সম্প্রতি কাঞ্চননগরে যে বৃদ্ধাশ্রম উদ্বোধন করা হয়েছে বর্তমানে সেখানে রয়েছেন ৪২জন। আগামী এপ্রিল মাস থেকেই তা বেড়ে দাঁড়াতে চলেছে ৬০জনে। এদিন বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তোলার মূল কারিগর প্রাক্তন কাউন্সিলার খোকন দাস জানিয়েছেন, করোনার জন্য আলাদা করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এই বৃদ্ধাশ্রমে। তিনি জানিয়েছেন, নিয়মানুযায়ী প্রতিদিনই এই বৃদ্ধাশ্রমে চিকিৎসক আসেন এবং তিনি শারীরিক পরীক্ষা করে যান। পাশাপাশি এখানে বাইরের কাউকে ঢুকতেও দেওয়া হয়না এবং বৃদ্ধাশ্রম থেকে বাইরেও কেউ যান না। তাই তাঁরা সম্পূর্ণ নিরাপদই রয়েছেন। এরই পাশাপাশি এদিন বর্ধমান শহরে বিজেপি নেতা শ্যামল রায়ের নেতৃত্বে সাধারণ মানুষের মধ্যে মাস্ক বিলি করা হয়েছে। 
করোনা নিয়ে কড়া সতর্কতা জেলায়, ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতির মুখে বিভিন্ন সংস্থা
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top