Headlines
Loading...
আজ নয়, প্রথা মেনে পরেরদিন দোলৎসব পালন করেন বর্ধমানবাসী

আজ নয়, প্রথা মেনে পরেরদিন দোলৎসব পালন করেন বর্ধমানবাসী


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্কঃ,পূর্ব বর্ধমান: প্রথা মেনে আজ গোটা দেশ মহাধুমধামে আর জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে মেতে উঠেছে দোল উৎসবে। যদিও গোটা দেশে যেদিন দোল উৎসব পালিত হয় বর্ধমান শহরে তা হয় না। পুরনো রাজপ্রথা মেনে বর্ধমান শহরে বর্ধমানে দোল উৎসব পালিত হয় পরের দিন। তাই আগামী মঙ্গলবার বর্ধমান শহরের দোল নিয়ে যাতে কোনোরকম অশান্তি না হয় তার জন্য এই প্রথম বর্ধমানের কে বি এস কিং নামে একটি সংস্থার পক্ষ থেকে রবিবার শোভাযাত্রা করা হল। 

এদিন জেলখানা মোড় থেকে টাউন হল পর্যন্ত এই শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বসন্ত উৎ সবকে প্রকৃত অর্থেই পালন করার আহ্বান জানানো হল। দোলকে ঘিরে যাতে কোনোরকম অশান্তি না হয়, বা দোলের রং ব্যবহার নিয়েও যাতে কোনোরকম বাড়াবাড়ি না হয় সেজন্য এদিন বর্ধমানবাসীর কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে। 

উল্লেখ্য, বর্ধমান শহরে দোলের পরের দিন দোল উৎসব পালনের পিছনে রয়েছে বর্ধমান রাজ পরিবারের একটি কাহিনী। যা আজও পালিত হলেও ক্রমশই সেই প্রথা ভাঙতেও শুরু করেছে। গোটা দেশের সঙ্গে যেমন সোমবারও কিছু মানুষ রং খেলবেন তেমনি পরের দিনও জমিয়ে রং খেলবেন। বর্ধমানের ইতিহাস থেকে জানা যায়, বর্ধমানের রাজ পরিবার বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত ছিলেন। তাঁরা শিবেরও পরম ভক্ত ছিলেন। তার জেরেই গোটা জেলা জুড়ে একাধিক মন্দির গড়ে তোলা হয়েছিল বংশ পরম্পরায়। 

জানা যায়, রাজবাড়িতে সেইসময় রাজকুলদেবতা লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর মন্দিরে পুজোর পরই শুরু হত দোল উৎসব। কিন্তু অনেকসময়ই এই পুজো শেষ হতে বেলা গড়িয়ে যেত, ফলে সেভাবে প্রজারা রং খেলতে পারতেন না। তাই ১৮৩৪ সালে তৎকালীন মহারাজা মহতাবচাঁদ নিয়ম করে দেন, প্রথম দিন লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর পুজোর পরের দিন রাজপরিবার এবং প্রজারা একসঙ্গে রং খেলবেন। আর তারপর থেকেই বর্ধমানে এই নিয়ম চলে আসছে। 

উল্লেখ্য, এবছর করোনা ভাইরাসের জেরে দোলে রং ব্যবহার নিয়েও রীতিমত সমস্যা দেখা দিয়েছে। বাজারে যে সমস্ত রং বিক্রি হচ্ছে তা নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে রীতিমত আতংক দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই সোস্যাল মিডিয়ায় চীনা রং ব্যবহার না করার জন্য আবেদন জানানো হচ্ছে। ফলে রীতিমত বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কোন রং কেমিক্যাল, কোন রং ভেষজ আবার কোন রং চীন থেকে এসেছে তার পার্থক্য করা নিয়েও রীতিমত বিভ্রান্তির শিকার ব্যবসায়ীরাও। 


ফলে সোমবার রাত পোহালেই বর্ধমানে যে দোল উৎসব তার জন্য কেনাকাটায় এখনও সেভাবে বাজার জমেনি রং ব্যবসায়ে। যদিও শনিবার থেকেই বর্ধমান শহর জুড়ে বিভিন্ন সংস্থা নানান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বসন্ত উৎসব পালন করতে শুরু করেছে। উল্লেখ্য, এবছর শান্তিনিকেতনে বসন্ত উৎসব বাতিল হয়ে যাওয়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর বহু মানুষ শহর কেন্দ্রিক হোলির অনুষ্ঠানগুলিতেই বসন্ত উৎসবের আমেজ নিচ্ছেন।

0 Comments: