728x90 AdSpace

Latest News

Wednesday, 5 February 2020

বর্ধমানে রেলওয়ে ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে আচমকাই পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞায় চরম জটিলতা


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: বর্ধমান শহরের নতুন চতুর্মুখী ফ্লাইওভার দিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালো। গত কয়েকদিন ধরেই আচমকা সকাল ৭ টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত রেলওয়ে ওভারব্রীজ দিয়ে নো এন্ট্রি করে দেওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন বাজেপ্রতাপপুর সহ শহরের ব্যবসায়ীরা।কারণ ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় পণ্যবহণকারী ট্রাকগুলিকে আর এই ব্রীজ দিয়ে যাতায়াত করতে দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে গত কয়েকদিন ধরেই ব্যবসাদাররা চরম সমস্যায় পড়েছেন। সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন কাটোয়া রোড এলাকার ব্যবসাদাররা। কারণ এই কাটোয়া রোডের ধারেই রয়েছে একাধিক বড় কারখানা, বড় বড় ব্যবসায়ী, বিভিন্ন কোম্পানীর ক্লিয়ার এণ্ড ফরওয়ার্ডিং এজেণ্টগুলি। 

ব্যবসাদারদের অভিযোগ, সম্প্রতি আচমকাই  জেলাশাসকের পক্ষ থেকে একটি নোটিশ জারী করে ২০১০ সালের একটি নিয়মকে ফের লাগু করা হয়। এরফলে গত প্রায় ৪ দিন ধরে চরম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। কোনো পণ্যবাহী গাড়ি ঢুকতে না পারায় ব্যবসাদাররা লোকসানের মুখে পড়েছেন। একইসঙ্গে এই কাজে যুক্ত শ্রমিকরাও কাজ না পাওয়ায় তাঁরাও চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। বর্ধমান ১নং ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি কাকলী গুপ্ত জানিয়েছেন, গত ৪দিন ধরেই আচমকাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাটোয়া রেলওয়ে ওভারব্রীজ দিয়ে পণ্যবাহী গাড়ি যাতায়াতে নো এন্ট্রি করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বর্ধমান ষ্টেশনের গুডসেড থেকে কোনো ট্রাক বার হতে পারছে না।


সকাল ৭টা থেকে রাত্রি ১০টা পর্যন্ত এই নো এন্ট্রি করায় সমস্যায় পড়েছেন যাঁরা রেক খালি করেন সেই শ্রমিকরাও। তিনি জানিয়েছেন, শহর লাগোয়া দুটি পার্কিং জোন রয়েছে। একটি দেওয়ানদিঘীতে এবং অন্যটি তালিত এলাকায়। কিন্তু গত ৪দিন ধরে কোনো পণ্যবাহী গাড়িকে দিনের বেলায় ঢুকতে না দেওয়ায় শ্রমিকরা তা খালিও করতে পারছেন না। এরই পাশাপাশি বাজেপ্রতাপপুর থেকে দেওয়ানদিঘী পর্যন্ত রাস্তার ভয়াবহ অবস্থা থাকায় সমস্যা আরও বেড়েছে। 

কাকলি গুপ্ত জানিয়েছেন, এব্যাপারে এদিন জেলাশাসক বিজয় ভারতীর কাছে তাঁরা পুরনো নিয়ম অর্থাৎ সকাল ৬টা থেকে ৮টা, দুপুর ১২টা থেকে ৩টে এবং রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত এই নো এন্ট্রি তুলে দেওয়ার বিষয়ে আবেদন জানানো হয়েছে।একইসঙ্গে আবেদন জানিয়েছেন, বাজেপ্রতাপপুর থেকে দেওয়ানদিঘী রাস্তাকে দ্রুত মেরামত করা হোক। উল্লেখ্য, উদ্ভূত এই সমস্যার জন্য এদিন জেলাশাসকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন এলাকার জনপ্রতিনিধি কাকলী গুপ্ত এবং বর্ধমান ৪নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার মহম্মদ আলি, ব্যবসায়ী এবং লেবার এ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি হিসাবে সুভাষ মোদক ও নুরুল আলম, সিএনএফের পক্ষে হাজির ছিলেন সুজিত মণ্ডল ও অভয় লাহা এবং গুডসেড ট্রাক এ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে শ্যামল ঘোষ। 

এদিন এই প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এদিন তাঁরা জেলাশাসকের কাছে সকাল ৬টা থেকে ৮টা, দুপুর ১২টা থেকে ৩টে এবং রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত এই নো এন্ট্রি তুলে নেওয়ার ব্যাপারে আবেদন জানিয়েছেন। পরিবর্তে তাঁরা চান সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এবং দুপুর ৩টে থেকে রাত্রি ৮টা পর্যন্ত বজায় থাকুক নো এন্ট্রি। এরই পাশাপাশি এদিন ব্যবসাদাররা জানিয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০১০ সালের যে নিয়মকে পুনরায় লাগু করা হয়েছে তার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারণ ২০১০ সালে কাটোয়া রেলওয়ে ওভারব্রীজ যা নতুন করে তৈরী করা হয়েছে তা তখন তৈরী হয়নি। 

এমনকি ২০১০ সালের যানজটের চিত্রের সঙ্গে বর্তমান যানজটের চিত্রের অনেক ফারাক রয়েছে। সব মিলিয়ে ২০১০ সালের এই নিয়মকে তুলে নেওয়ার আর্জি জানানো হয় এদিন জেলাশাসকের কাছে। এব্যাপারে জেলাশাসক জানিয়েছেন, ব্যবসাদাররা কিছু সমস্যার কথা বলেছেন। তিনি জানান, কোনো বড় শহরেই শহরের মধ্যে দিয়ে পণ্যবাহী গাড়ি যাতায়াত করতে দেওয়া হয়না। এব্যাপারে তাঁরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। অফিস টাইমে কি কি অসুবিধা সবকিছু যাচাই করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

অপরদিকে, জানা গেছে, কাটোয়া রেলওয়ে ওভারব্রীজ দিয়ে গাড়ি যাতায়াত নিয়ে ইতিমধ্যেই ডিএসপি (হেড কোয়ার্টার) শৌভিক পাত্র একটি পরিকল্পনা জমা দিয়েছেন জেলাশাসকের কাছে। সেখানে বেশ কয়েকটি জায়গায় গাড়ি চালকদের জন্য আগাম সতর্কতা বোর্ড দেবার নির্দেশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ওই বোর্ডেই কোন কোন রাস্তা দিয়ে যাওয়া যাবে না, বা কোন রাস্তা দিয়ে যাওয়া যাবে সে বিষয়ে উল্লেখ রাখার পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে। এরফলে গাড়ি চালকরা বিশেষত পণ্যবাহী ট্রাকের চালকরা অনেক আগে থেকেই নিজেরা প্রস্তুতি নিতে পারবেন। 
বর্ধমানে রেলওয়ে ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে আচমকাই পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞায় চরম জটিলতা
  • Title : বর্ধমানে রেলওয়ে ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে আচমকাই পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞায় চরম জটিলতা
  • Posted by :
  • Date : February 05, 2020
  • Labels :
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top