728x90 AdSpace

Latest News

Thursday, 9 January 2020

পূর্ব বর্ধমান জেলার বৈধ বালিঘাট মালিক দের সঙ্গে বৈঠকে এক গুচ্ছ নির্দেশ জেলা প্রশাসনের


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলায় অবৈধ বালির কারবার রুখতে ফের আরও একবার দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারী দিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কোঅর্ডিনেটর তথা জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দেবু টুডু। বৃহস্পতিবার জেলাশাসকের ডাকে দু দফায় জেলার কালনা, কাটোয়া, বর্ধমান উত্তর ও বর্ধমান দক্ষিণ মহকুমার মোট প্রায় ১৫০ বৈধ বালিঘাট মালিকদের নিয়ে বৈঠকে বসা হয়। ওই বৈঠকে হাজির ছিলেন সংশ্লিষ্ট মহকুমার মহকুমা শাসক, ব্লক ভূমি দপ্তরের আধিকারিক সহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া, সহকারী সভাধিপতি দেবু টুডু, জেলাশাসক বিজয় ভারতী এবং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরাও।

এদিন সভার শুরুতেই বৈধ বালি ঘাট মালিকদের উদ্দেশ্যে দেবু টুডু বলেন, অবৈধ বালি পাচার হচ্ছে কেন? কেন বালির কারবার নিয়ে তাঁদের প্রতিমূহূর্তে আইন নিয়ে পড়ে থাকতে হবে। এদিন তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যদি কোনো বালিঘাটের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো নেতা জড়িত থাকেন তাহলে দল তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেবে। বালিঘাট মালিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কোনো মতেই অবৈধ বালির কারবার, ওভারলোর্ডিং করা যাবে না। এব্যাপারে যে ঘাট মালিক জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসী, জামালপুর সহ অজয় নদে মঙ্গলকোট ব্লকে বহু তৃণমূল নেতাই এই বালি কারবারের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিন দেবু টুডু বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাঁদেরই সমঝে দেবার চেষ্টা করেছেন বলে মনে করছেন ওয়াকিবহল মহল। যদিও এই ধরণের হুঁশিয়ারী এর আগেও তিনি দিয়েছেন। কিন্তু তারপরেও কোনো অবস্থার উন্নতি হয়নি। গলসী অঞ্চলে এই বালিঘাটের দখলদারী এবং বালির কারবার চালানো নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের মধ্যেই চাপান উতোর ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে।

অপরদিকে, এদিন জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া জানিয়েছেন, বালিঘাটগুলিতে সিসিটিভি লাগানো, ড্রোন দিয়ে নজরদারী চালানোর পাশাপাশি নজরদারী টিমের কাছে ক্যামেরা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নদীর বুকে বাঁধ দিয়ে বালি তোলার বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মেশিন লাগিয়ে বালি তোলা হলে মেশিন বাজেয়াপ্ত করা হবে। 

অপরদিকে, জেলাশাসক বিজয় ভারতী জানিয়েছেন, প্রত্যেক বালিঘাট মালিককে স্ট্যাণ্ডার্ড অপারেটিং প্রসেস বা এসওপি মেনে চলার ব্যাপারে এদিন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। না মানলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদী বাঁধের ওপর দিয়ে ৬চাকার বেশি কোনো বালির গাড়ি যাতায়াত করতে পারবে না। এমনকি বালির গাড়ি জনবহুল এলাকা দিয়ে যাবার ক্ষেত্রেও বিধি নিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।

একইসঙ্গে বালির গাড়ির জন্য রাস্তাঘাট খারাপ হলে সংশ্লিষ্ট বালিঘাট মালিকের সঙ্গে জেলা প্রশাসন যৌথভাবে যাতে রাস্তা মেরামতের কাজ করতে পারে সেজন্য এদিন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও অবৈধ বালির গাড়িকে ই-লক করার প্রথা চালু করা হচ্ছে। যদিও এদিন বালিঘাট মালিকরা জানিয়েছেন, প্রশাসনিকভাবে কিছু নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে। তাঁরা খুশী।

খণ্ডঘোষ এলাকার দীর্ঘদিনের সরকারি অনুমোদন প্রাপ্ত বালি ব্যবসায়ী যোগেন্দ্র বর্মন জানিয়েছেন, এদিন আলোচনা যথাযথ হয়েছে। তিনি জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওভার লোডিং করে বালি নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়াও নদী বাঁধ ব্যবহার করে বালির গাড়ির যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়েও প্রত্যেক বালি ঘাট মালিম কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যোগেন্দ্র বর্মন জানান, সরকারি সমস্ত নিয়ম কানুন মেনে যাতে সবাই নদ নদী থেকে বালি উত্তোলন করেন সেটা সকলকেই লক্ষ্য রাখতে হবে। যদিও তিনি এদিন অভিযোগ করেছেন, পূর্ব বর্ধমানের বহু রাস্তা দিয়ে অনান্য জেলার বালির গাড়ি রীতিমত যাতায়াত করছে। সেক্ষেত্রে সেই সব জেলার নিয়ম অনুযায়ী ছ'শ ষাট সিএফটি পর্যন্ত বালি গাড়িতে লোড করতে পারছে। কিন্তু এই জেলার ক্ষেত্রে মাত্র চার'শ পঞ্চাশ সিএফটি বালি লোড করা যায়। এই বৈষম্য দূর করার প্রয়োজন। তিনি জানান এই বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

অপরদিকে, গত ১ জানুয়ারী গভীর রাতে গলসীর শিকারপুরে বালির গাড়ি উল্টে একই পরিবারের মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধ করে দেওয়া বালিরঘাটগুলিকে ফের চালু করার বিষয়ে জেলাশাসক জানিয়েছেন, এব্যাপারে বিএলআরওকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাবার পরই সেগুলি চালু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পূর্ব বর্ধমান জেলার বৈধ বালিঘাট মালিক দের সঙ্গে বৈঠকে এক গুচ্ছ নির্দেশ জেলা প্রশাসনের
  • Title : পূর্ব বর্ধমান জেলার বৈধ বালিঘাট মালিক দের সঙ্গে বৈঠকে এক গুচ্ছ নির্দেশ জেলা প্রশাসনের
  • Posted by :
  • Date : January 09, 2020
  • Labels :
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top