728x90 AdSpace

Latest News

Monday, 20 January 2020

এনআরসির আতংক রুখতে এবার বর্ধমানে উৎসবকেও হাতিয়ার করল কমিটি , হাজির করা হচ্ছে মনীষীদের


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: এবার নিখাদ নাচগান, মেলার আনন্দের মাঝেও কাঁটা হয়ে গেল এনআরসি আতংক। আর সাধারণ মানুষের মধ্যে সেই আতঙ্ক কাটাতে এবার খোদ বর্ধমান শহরের জনপ্রিয় একটি উৎসব কমিটি তাদের থিম তৈরি করেছেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তাকে সামনে রেখে। 

উল্লেখ্য, বর্ধমান শহর এলাকায় গত কয়েকবছর ধরেই এক একজন শাসকদলের নেতাদের সরাসরি উদ্যোগে শুরু হয়েছে বিভিন্ন মেলার। বর্ধমান শহরের কাঞ্চননগরে স্থানীয় তৃণমূল নেতা খোকন দাসের উদ্যোগে কাঞ্চন উৎসব, বর্ধমান টাউন হলে তৃণমূল নেতা পরেশ সরকারের উদ্যোগে মাঘ উৎসব, বর্ধমান হাটগোবিন্দপুরে তৃণমূল বিধায়ক নিশীথ মালিকের উদ্যোগে হাটগোবিন্দপুর উৎসব, বর্ধমানের হটুদেওয়ানে তৃণমূল নেতা নুরুল হাসানের উদ্যোগে উত্তর বর্ধমান উৎসব, প্রাক্তন কাউন্সিলার প্রদীপ রহমানের উদ্যোগে বাঁকা উৎসব, জনপ্রিয় তৃণমূল নেতা উত্তম সেনগুপ্তের তত্ত্বাবধানে বিধান উৎসবের পাশাপাশি বাজেপ্রতাপপুরে তৃণমূল নেতা এবং প্রাক্তন কাউন্সিলার মহম্মদ আলির সহায়তায় পৌষালী মেলা তার মধ্যে অন্যতম।


কিন্তু এই সমস্ত মেলার মধ্যে রীতিমত ব্যতিক্রমী ভূমিকা নিচ্ছে বাজেপ্রতাপপুরের পৌষালী মেলা। আজ মঙ্গলবার এই পৌষালী মেলার উদ্বোধন হতে চলেছে। আর মেলা উপলক্ষ্যে নজর কেড়েছে হিন্দু মুসলিম সম্প্রীতি রক্ষায় মডেলের প্রদর্শনী। রবিবারই এই মডেলকে নিয়ে গোটা এলাকা জুড়ে করা হয়েছে একটি পদযাত্রাও। গোটা দেশ জুড়ে এনআরসি নিয়ে যে বিভ্রান্তি ও আতংক ছড়িয়েছে তার জন্য এলাকার শান্তি শৃঙখলা রক্ষায় এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন মেলা কমিটির সম্পাদক নুরুল আলম। 

তিনি জানিয়েছেন, এবারে তাঁদের এই মেলার মূল শ্লোগান - না রাম, না যীশু, না আলী সম্প্রীতির উৎসব পৌষালী। তিনি জানিয়েছেন, মেলা মানেই নামীদামী শিল্পীদের নিয়ে এসে নাচগানই কেবল নয়, তাঁরা এই মেলার মাধ্যমে জনসেবামূলক কাজও করছেন গত ৩ বছর ধরে। এবার ৪র্থ বছরেও তাঁরা গত ৩ বছরের মতই দশ জন ছাত্রীকে দত্তক নিচ্ছেন। তাদের পড়াশোনার জন্য সমস্ত রকম আর্থিক সহযোগিতা করছেন তাঁরা। এছাড়াও এবারেও এলাকার ৪০টি ক্লাবকে তাঁরা ক্রীড়া সরঞ্জাম দিচ্ছেন। এলাকার দুঃস্থ ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন কুড়ি জনকে দেওয়া হলে সহায়ক যন্ত্র। সর্বোপরি এবছর পৌষালী মেলা কমিটির পক্ষ থেকে চালু করা হয়েছে একটি এ্যাম্বুলেন্স এবং একটি স্বর্গরথ। 

নুরুল আলম জানিয়েছেন, বাজেপ্রতাপপুর এলাকার মানুষের কাছে সব থেকে বড় অন্তরায় এখন রেলওয়ে ওভারব্রীজ। এই ওভারব্রীজের জন্য অ্যাম্বুলেন্স আসা যাওয়ায় সমস্যা দেখা দেয়। ফলে এলাকার মানুষ সমস্যায় পড়লে কেবলমাত্র এ্যাম্বুলেন্সের অভাবে তাঁদের প্রাণহানির মত ঘটনাও ঘটছে। সম্প্রীতি এরকমই একটি ঘটনা মেলা কমিটির সদস্যদের নাড়িয়ে দেয়। আর তার পরেই এই অ্যাম্বুলেন্স চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নুরুল আলম জানিয়েছেন, বাজেপ্রতাপপুর এলাকা দিয়ে গেছে বর্ধমান কাটোয়া রোড। গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তা সারাদিনই যানবাহন বহুল থাকে। প্রায়ই এই রাস্তায় ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটে। এমনকি প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটে যায়। তাই পৌষালি মিলন উৎসবের পক্ষ থেকে এবার রাস্তার দুধারে যাত্রী সচেতনতায় প্ল্যাকার্ড, পোষ্টার লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নুরুল আলম জানিয়েছেন, গোটা দেশ জুড়ে হিন্দু মুসলিম সম্প্রীতিকে নষ্ট করার চক্রান্ত চলছে। বাজেপ্রতাপপুর এলাকায় হিন্দু ও মুসলিম গায়ে গা ঠেকিয়েই এতদিন বসবাস করে এসেছেন। একে অন্যের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি এনআরসি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাই এই মেলাকেই তাঁরা প্রচারের হাতিয়ার করেছেন। যেহেতু মেলা মানেই বহু লোকের সমাগম। তাই এই মেলায় এবার স্বামী বিবেকানন্দ, বি আর আম্বেদকর, নেতাজী, ভগিনী নিবেদিতা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ মনীষীদের মডেল তাঁরা হাজির করছেন। যাঁরা ভারতের অখণ্ডকে বজায় রাখতে ঐক্যের বার্তা দিয়েছিলেন। কখনও বিভাজনের মদত দেয়নি। সেই মনীষীদের স্মরণ করার জন্য আবেদন জানানো হচ্ছে পৌষালী মেলা কমিটির পক্ষ থেকে।
এনআরসির আতংক রুখতে এবার বর্ধমানে উৎসবকেও হাতিয়ার করল কমিটি , হাজির করা হচ্ছে মনীষীদের
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top