728x90 AdSpace

Latest News

Thursday, 23 January 2020

বর্ধমানের স্কুলে নেতাজীর জন্মদিনের আগেই জন্মদিন পালন, ২৩শে ব্যাপক উত্তেজনা স্কুলে


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,জামালপুর: ২৩ জানুয়ারীর বদলে ২২ জানুয়ারী নেতাজীর জন্মদিন পালন করা এবং ২৩ জানুয়ারী নেতাজীর জন্মদিন পালন না করে স্কুলে ছুটি দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটল বর্ধমানের জামালপুর থানার কোলসরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অভিযোগ উঠেছে, স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা এবং এক শিক্ষককে স্কুল থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। 

কোলসরা গ্রামের বাসিন্দা অরুণাভ পাল জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন ধরেই কোলসরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠেছেন। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরে অভিযোগও জানানো হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেছেন, এর আগেও ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দুই ছাত্রকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেবার অভিযোগ উঠেছিল। অরুণাভ পাল জানিয়েছেন, এদিন নেতাজীর জন্মদিন থাকলেও স্কুলের পক্ষ থেকে তা পালন করা হয়নি। উপরন্তু ছাত্রছাত্রী দের এদিন স্কুলে আসতে হবে না বলেও আগের দিনই জানিয়ে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, আগের দিন বুধবার ২২ জানুয়ারী নেতাজীর জন্মদিন পালন করে ২৩ জানুয়ারী স্কুলে ছুটি ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনা জানার পরই তাঁরা স্কুলে আসেন। 
নিজেরাই উদ্যোগী হন স্কুলের ভিতরে নেতাজির জন্মদিবস পালন করার। অভিভাবকরা উদ্যোগী হয়ে নেতাজির জন্মদিন পালন করা হচ্ছে শুনে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ইন্দিরা লাহা ও একজন সহ শিক্ষক সোমনাথ দাস তড়িঘড়ি স্কুলে আসেন। 

অরুণাভ বাবু জানিয়েছেন, স্কুলে ঢোকার পরেই উপস্থিত অভিভাবকরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তাঁদের দেখে। রীতিমতন ধাক্কাধাক্কি করতে থাকেন তারা সৌমেন দাস কে স্কুল থেকে বেড়িয়ে যাবার জন্য। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা কারুর সঙ্গেই কোন কথা বলতে চাননি। ঘটনার খবর পেয়ে সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা গেলে তাদের সঙ্গে র্দুব্যবহার করেন। অভিযোগ, এমনকি নিজের নামও বলতে অস্বীকার করেন তিনি।

অরুণাভ পাল জানিয়েছেন, গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে তাঁরা এই ঘটনার বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে চলেছেন। যদিও এব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ইন্দিরা লাহা জানিয়েছেন, বুধবার তাঁরা স্কুলের পক্ষ থেকে নেতাজীকে শ্রদ্ধা জানাতে ছেলেমেয়েদের নিয়ে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠান করেছেন। কিন্তু বুধবার তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকায় তিনি ডিআই অফিসে ব্যস্ত ছিলেন। তাই বৃহস্পতিবারের প্রোগ্রাম নিয়ে ঠিকমত ব্যবস্থা নিতে পারেননি। 


প্রধান শিক্ষিকা জানিয়েছেন, বিষয়টি ভুল হয়েছে বুঝতে পেরেই তিনি এদিন স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকদের স্কুলে আসার জন্য নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে তিনি নিজেও স্কুলে আসেন সাড়ে দশটা নাগাদ। এমনকি তিনিই এলাকার ছেলেমেয়েদের ডেকে নিয়ে আসেন স্কুলে নেতাজীর জন্মদিন পালন করবেন বলেই। 

কিন্তু তার আগেই কিছু মানুষ এসে স্কুলে জড়ো হয়। তারাই অনুষ্ঠান করতে বাধা দেয়। এমনকি তাঁকে কার্যত ঠেলতে ঠেলতে স্কুল থেকে বাইরে বার করে দেওয়া হয়। এরই পাশাপাশি সোমনাথ দাস নামে এক শিক্ষককে কার্যত ঘাড় ধাক্কা দিয়ে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাঁর মোটরবাইকটিকেও ভাঙচুর করার চেষ্টা করেন তাঁরা। তিনি বারবার ওই ব্যক্তিদের গোটা বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করলেও তাঁর কথা কেউ শোনেননি।

জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়্যারম্যান অচিন্ত্য চক্রবর্তী এই ঘটনার বিষয়ে বলেন, ‘আমরা পরিস্কার করেই নির্দেশ দিয়েছি ২৩ জানুয়ারি প্রতিটি স্কুলে নেতাজির প্রতিকৃতিতে মালা দিয়ে জাতীয় পতাকা তুলতে হবে। কেন এই স্কুল তার অন্যথা করলেন সেটা খোঁজ নিচ্ছি।’
বর্ধমানের স্কুলে নেতাজীর জন্মদিনের আগেই জন্মদিন পালন, ২৩শে ব্যাপক উত্তেজনা স্কুলে
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top