728x90 AdSpace

Latest News

Wednesday, 22 January 2020

স্কুলের বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকে বন্ধ করে ব্লকের আদিবাসী মেলা, চাঞ্চল্য, বিতর্ক তুঙ্গে


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: স্কুলের বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বন্ধ করে সেখানে আদিবাসী মেলা করাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক দেখা দিল পূর্ব বর্ধমানের মেমারী থানার পাহাড়হাটি গোলাপমণি হাইস্কুলে। এই ঘটনায় রীতিমত ক্ষুব্ধ স্কুলের অভিভাবক থেকে ছাত্রছাত্রীরাও। অভিযোগ উঠেছে মেমারী ২নং ব্লক প্রশাসন রীতিমত হুইপ জারী করেই স্কুলের শুরু হওয়া বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকে বন্ধ করে দিয়ে সেখানে আদিবাসী মেলা করা হচ্ছে। যদিও এব্যাপারে কেউই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজী না হলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমত নিন্দার ঝড় বয়ে গেছে। 

স্কুল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছরের মত এবারও এই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মোট ৪৩টি ইভেণ্টে প্রায় ৩৫০জন ছাত্রছাত্রী অংশ নেয়। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসুচী অনুযায়ীই যথারীতি এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার তালিকাও তৈরী হয়। মঙ্গলবার থেকেই শুরু হয় প্রতিযোগিতা। মঙ্গলবারই কিছু ইভেণ্টের ফাইনাল হয়ে যায়। বুধবার ছিল চুড়ান্ত ফাইনাল পর্বের প্রতিযোগিতাগুলি। 

স্কুল সূত্রে খবর, প্রত্যেকবারই এই স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ফাইনাল পর্ব রীতিমত জাঁকজমক পূর্ণভাবেই করা হয়। এবারও তার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু আচমকাই মঙ্গলবার সকালে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই গোটা মাঠে আদিবাসী মেলার জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে সেই সমস্ত মেলার সরঞ্জাম সরিয়ে মঙ্গলবারের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হয়। কিন্তু বুধবার রীতিমতো পুরো ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকেই বাতিল করে দিতে হয় এই আদিবাসী মেলার জন্য। কার্যতঃ ছাত্রছাত্রীরা খেলার জন্য স্কুলে এসেও রীতিমতো হতাশ হয়ে ফিরে যায়। 

এদিকে এদিন এই আদিবাসী মেলার উদ্বোধন করেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দেবু টুডু। আদিবাসী মেলার জন্য স্কুলের বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকে আচমকা বাতিল করার ঘটনা সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন, এরকম ঘটনার কথা তিনি শোনেননি। অন্যদিকে, স্কুলের প্রধান শিক্ষক সেখ আমির আলি চুড়ান্ত ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানিয়েও বলেছেন, আদিবাসী মেলার জন্য আগে থেকেই স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। যেহেতু মেলা চলবে ২২ থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত, তাই ২২ তারিখের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ফাইনাল পর্বটি ২৫ তারিখে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি জানিয়েছেন, এ নিয়ে তাঁর কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। প্রায় একই কথা বলেছেন মেমারী ২নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মামণি মূর্মূ। তিনি জানিয়েছেন, অনেক আগে থেকেই এ ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। তাই স্কুলের ছেলেমেয়েদের ক্ষতি করে কোনো কিছু করা হয়নি। 

এদিকে, প্রশাসনিক স্তরে একথা জানানো হলেও অভিভাবকরা জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ব্লক প্রশাসন রীতিমত আগের দিন হুইপ জারী করে স্কুলের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যত নিয়ে খেলা করেছে। অভিভাবকদের একাংশের দাবী, তাঁরা স্কুল সূত্রে জেনেছেন, সোমবার রাতে ব্লক প্রশাসন থেকে জানানো হয় এই স্কুলের মাঠেই আদিবাসী মেলা হবে। অভিভাবকদের দাবী, যদিও এই স্কুলের কাছেই কালীতলায় কিংবা কুচুট স্কুল মাঠেও এই আদিবাসী মেলা অনায়াসেই হতে পারত। কিন্তু ব্লক প্রশাসন কার্যত গোলাপমণি হাইস্কুলের ছাত্রদের বলি করেছেন, তাঁদের ভবিষ্যত নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন। এমনকি কেউ জানতে চাইলে বিষয়টিকে লঘু ভাবেই দেখানোর কথা জানানোর জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্কুল কতৃপক্ষ কে জানানো হয়েছে বলেও অভিবাবকদের একাংশ অভিযোগ করেছেন।

কয়েকজন অভিভাবক জানিয়েছেন, যেখানে খোদ মুখ্যমন্ত্রী স্কুলের ছেলেমেয়েদের খেলাধূলাকে বাধ্যতামূলক করছেন চলতি বছর থেকেই, সেখানে স্কুলের চিরাচরিত একটি বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পূর্ব নির্ধারিতভাবে চালু হয়ে যাবার পর সেখানে গায়ের জোরে এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদর্শন করে এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকে অন্ধকারের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। স্কুল সূত্রে জানা গেছে, এই আদিবাসী মেলার জন্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ফাইনাল পর্ব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আদৌ কবে তা হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। 
কারণ ২৪ তারিখ থেকেই স্কুলের এই মাঠে জোন পর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এরপরে রয়েছে মেমারী বইমেলা। তারপরে সরস্বতী পুজো। ফলে সবমিলিয়ে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই ফাইনাল পর্বের প্রতিযোগিতা হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে চুড়ান্ত অনিশ্চয়তা। 
স্কুলের বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকে বন্ধ করে ব্লকের আদিবাসী মেলা, চাঞ্চল্য, বিতর্ক তুঙ্গে
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top