Headlines
Loading...
বর্ধমান ট্রাক্টরের ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যুতে প্রশাসনিক গাফিলতি ও উদাসীনতাকেই দায়ী করল যুব কংগ্রেস

বর্ধমান ট্রাক্টরের ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যুতে প্রশাসনিক গাফিলতি ও উদাসীনতাকেই দায়ী করল যুব কংগ্রেস


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: বুধবার রাত 10 টা নাগাদ বর্ধমান শহরের কার্জনগেট চত্বরে জিটি রোডের উপর দুরন্ত গতির একটি আলু বোঝাই ট্রাক্টরের ধাক্কায় মৃত্যু হয় 14 বছর বয়সী এক কিশোরের।  মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় রাতের বর্ধমান শহরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র আতঙ্কগ্রস্থ শহরবাসী। শহরবাসীর একাংশ মত প্রকাশ করেছেন, রাতে নির্দিষ্ট সময়ের পর শহরের প্রাণকেন্দ্র কার্জন গেট এলাকার সমস্ত ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি রাত থেকে সকাল 6 টা পর্যন্ত থাকে না কোনো ট্রাফিক পুলিশও।আর এই সুযোগে বেপরোয়া ভাবে যাতায়াত করতে শুরু করে ভারি যানবাহন গুলো। স্বাভাবিকভাবেই জি টি রোড দিয়ে সাধারণ মানুষকে একপ্রকার প্রাণ হাতে নিয়েই এই সময় যাতায়াত করতে হয়।

অনেকেই জানিয়েছেন, অতীতেও এই এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন একাধিক ব্যক্তি। শহরবাসী অনেকেই জানিয়েছেন, একটি উন্নত শহরের মাপকাঠির অন্যতম হলো সেই শহর কতটা যানজট মুক্ত এবং নিয়ন্ত্রিত। তাহলে বর্ধমান শহরে কি ভাবে রাত সাড়ে 9 টা বাজলেই ট্রাফিক সিগন্যাল নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়? তাঁরা অনেকেই এই প্রশ্নও তুলছেন, যেখানে জি টি রোডের ওপর দিয়ে টোটো চলাচলে দিন রাত প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে, সেখানে রাত বাড়লেই কি ভাবে অবাধে টোটো চলাচল করছে সেই জি টি রোড দিয়েই? শহরবাসীর একাংশের অভিযোগ, প্রশাসনের উদাসীনতাই এর জন্য দায়ী।

উল্লেখ্য, বুধবারের দুর্ঘটনার পর স্থানীয় অনেকেই জানিয়েছেন যে, এই দুর্ঘটনার জন্য একটি টোটোই দায়ী। কারণ টোটোর সঙ্গে ধাক্কা লাগার পরেই সাইকেল আরোহী কিশোরটি ট্রাক্টরের সামনে পরে যায়।

অন্যদিকে, এই দুর্ঘটনায় মৃত কিশোর সেখ রোহিতের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার। রোহিতের বাবা প্রতিবন্ধী। মা লোকের বাড়িতে কাজ করেন। সংসারের স্বাচ্ছন্দ্য আনতে ছেলেকে বিসিরোডে একটি ফলের দোকানে কাজে ঢুকিয়েছিলেন। আচমকাই ছেলের মৃত্যু সংবাদে গোটা পরিবারে নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার। বুধবার রাতে এই খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার জেলা যুব কংগ্রেস সভাপতি গৌরব সমাদ্দার মৃত কিশোরের বাড়িতে যান। তিনি জেলা প্রশাসনের কাছে ওই পরিবারের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানিয়েছেন। পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ সুপারের কাছে জি টি রোডে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের আর্জি জানিয়ে লিখিত দরখাস্ত জমা করা হয়েছে দলের পক্ষ থেকে।


গৌরব সমাদ্দার জানিয়েছেন, পুলিশ সুপার কে তাঁরা লিখিত ভাবে জানিয়েছেন যে, প্রশাসন অবিলম্বে অবৈধ টোটো চলাচলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। পাশাপাশি পূর্বের ট্রাফিক ওসি যেভাবে কড়া হাতে নিয়মভঙ্গকারী টোটো সহ অন্যান্য যানবহনের ওপর নিয়ন্ত্রণ জারি রেখেছিলেন, সেই ব্যবস্থা পুনঃবহাল করা । তিনি পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া আবেদনপত্রে জানিয়েছেন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকারী অফিসার কে পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হোক। যাতে সরকারি নিয়মভঙ্গকারী যানবাহন এবং চালকদের সঙ্গে সরকারি নিয়ম মেনে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। 
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});