728x90 AdSpace

Latest News

Wednesday, 27 November 2019

খণ্ডঘোষে পার্টি অফিস তৈরীকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতে শাসক দল, তীব্র চাঞ্চল্য


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: সরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গার ওপর তৃণমূল কংগ্রেসের পাকা পার্টি অফিস তৈরী করার ঘটনায় খণ্ডঘোষের তৃণমূল বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগের বিরুদ্ধে জেলা শাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন খণ্ডঘোষ গ্রামের বাসিন্দা বিনোদ ঘোষ। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অন্যদিকে এই তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস তৈরীকে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস বনাম প্রশাসন সংঘাত চরমে উঠল। 

মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া, জেলাশাসক বিজয় ভারতী, অতিরিক্ত জেলাশাসক সহ প্রশাসনের একটি দল খণ্ডঘোষ ব্লকে যান। খণ্ডঘোষের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখার পর শশঙ্গা স্কুলে জনতার দরবারে হাজির হন জেলা প্রশাসনের কর্তারা। এই সময় খণ্ডঘোষ গ্রামের বাসিন্দা সিপিএমের জেলা কৃষক সভার সদস্য বিনোদ ঘোষ জেলাশাসকের কাছে অভিযোগ জানান, খণ্ডঘোষ ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জায়গায় এবং খণ্ডঘোষ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনের জায়গায় জোর করে তৈরি করা হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস। আর এই অভিযোগ পাবার পরই জেলাশাসক এবং জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে ওই নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। 

আর এই ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। প্রশ্ন ওঠেছে সভাধিপতির ভূমিকা নিয়েও। এদিকে, মঙ্গলবার জেলাশাসক তথা জেলা প্রশাসনের কর্তারা গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ওই পার্টি অফিস নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেবার পর বুধবার সকালেই জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দেবু টুডু তথা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কো-অর্ডিনেটর ফের পার্টি অফিস নির্মাণের কাজ শুরু করে দিলেন। আর এই ঘটনাতেও ব্যাপক আলোড়ন ছড়িয়েছে। 

উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরেই দেবু টুডুর সঙ্গে শম্পা ধাড়ার ঠাণ্ডা লড়াই চলছিল। এদিন সেই লড়াই শুধু প্রকাশ্যেই এল তাই নয়, একেবারে সংঘাত চরমে পৌঁছালো। এদিন খোদ দেবু টুডু জানিয়েছেন, তিনি দলের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সর্বক্ষণের কর্মী। দলকে বাঁচানোই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। তাই দলের কর্মীদের সবরকমের সমস্যায় তিনি লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত। তাতে কারও কিছু সমস্যা হলে তা তাঁর ব্যক্তিগত সমস্যা। তিনি জানিয়েছেন, ওই জায়গায় দীর্ঘদিন ধরেই খণ্ডঘোষের বিধায়ক নবীন বাগের একটি পার্টি অফিস ছিল। কিন্তু সেটি ছোট হওয়ায় নানাবিধ সমস্যা তৈরী হচ্ছিল। এমনকি সেটি ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকায় সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সম্প্রতি ওই জায়গার মালিক জায়গাটি বিক্রি করে দেয়। তাই দলীয় পার্টি অফিসও বন্ধ হয়ে যায়। এমতবস্থায় এলাকার মানুষের স্বার্থেই একটি ঘরের প্রয়োজন ছিল। আর তাই সরকারী জায়গার ওপরই এই ঘর নতুন করে তৈরী করা হচ্ছে। 

দেবু টুডু এদিন নাম না করেই শম্পা ধাড়ার দিকেই আঙুল তুলে জানিয়েছেন, কেউ কেউ অন্য পার্টির লোকদের দিয়ে অভিযোগ করিয়ে কাজ বন্ধ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সফল হবেন না। তাঁরা এই কাজ করবেনই। তাই মঙ্গলবার যখন প্রশাসনের কর্তারা এসে কাজ বন্ধ করে দিয়ে যান – তখন তাঁদের সম্মানার্থে মঙ্গলবার কাজ বন্ধ করলেও বুধবার তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে তিনি দাঁড়িয়ে থেকে ফের এই নির্মাণের কাজ শুরু করে দিলেন। যদিও এব্যাপারে প্রশাসনের বিরুদ্ধে সংঘাত শুরু হল কিনা সেই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে দেবু টুডু জানিয়েছেন, তিনি দলের নির্দেশেই যা করার করেছেন। প্রশাসন প্রশাসনের কাজ করবে। তিনি দলের কাজ করবেন। 

এদিন এই নির্মাণস্থলে দাঁড়িয়েই খণ্ডঘোষ তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি তথা জেলা পরিষদের সদস্য অপার্থিব ইসলামকে দেবু টুডু দ্রুত এই নির্মাণ কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। অপার্থিব ইসলাম এদিন জানিয়েছেন, গত ৩৫ বছর ধরে সিপিএমের যে সমস্ত পার্টি অফিসগুলি তৈরী হয়েছে তার সিংহভাগই সরকারী জমির ওপর। শুধু সিপিএমই নয়, সমস্ত রাজনৈতিক দলের পার্টি অফিসই তৈরী হয়েছে সরকারী জায়গার ওপর। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিধায়কের কাছে আসেন। কিন্তু তাঁদের দাঁড়িয়ে থাকার মত কোনো ঘর ছিল না। তাই একটা ঘরের আশু প্রয়োজন ছিলই। 

অন্যদিকে, এদিন এ ব্যাপারে বারবার শম্পা ধাড়ার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোনের সুইচ বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, জেলাশাসক বিজয় ভারতী জানিয়েছেন, তিনি কোনো নির্মাণ কাজ বন্ধের কোনো নির্দেশই দেননি। এমনকি তিনি নির্দিষ্টভাবে ওই নির্মাণ কাজ দেখতেও যাননি। মঙ্গলবার তিনি খণ্ডঘোষ স্বাস্থ্যকেন্দ্র সহ ২৫টি সরকারী চালু প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখতে খণ্ডঘোষে গেছিলেন। কিন্তু তাঁকে ওই নির্মাণ নিয়ে কেউ কোনো অভিযোগই জানাননি। জেলাশাসক জানিয়েছেন, তিনি যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন বলে বলা হচ্ছে - তার কোনো অর্ডার তাঁকে দেখানো হোক। 

জেলাশাসক জানিয়েছেন, ওই জায়গা কার, বিএমওএইচ, সিএমওএইচ নাকি পূর্ত দপ্তরের সে ব্যাপারেও তিনি কিছু জানেন না। প্রসঙ্গত, উল্লেখ্য, মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের এই খণ্ডঘোষ কর্মসূচীতে এলাকার পঞ্চায়েত প্রধান, উপপ্রধান প্রমুখরা কেউই অংশ নেননি। অভিযোগ উঠেছে, পার্টি অফিস নির্মাণের কাজ বন্ধ করার জন্যই তাঁরা প্রশাসনিক ওই বৈঠকে হাজির হননি। এব্যাপারে জেলাশাসক জানিয়েছেন, তিনি আশা করেছিলেন তাঁরা আসবেন। কিন্তু কেন তাঁরা এলেন না, তা তিনি জানেন না। গোটা বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছেন। তবে তিনি শুনেছেন কারও বদলী সংক্রান্ত বিষয়ে বিবাদের জেরেই তাঁরা প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির হননি। এই ব্যাপারটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

অপরদিকে, প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, আদপেই সরকারী জায়গায় কি দলীয় পাকাপোক্ত পার্টি অফিস জোর করে তৈরী করা যায়? ইতিমধ্যেই স্থানীয় সিপিএমের পক্ষ থেকে এব্যাপারো জোরদার প্রচারও শুরু করা হয়েছে। ফলে গোটা বিষয়টি যাতে আইনী জটিলতার ফাঁসে আটকে না যায় সেজন্য শাসকদলও দ্রুততার সঙ্গে ভবন তৈরীর কাজ সম্পন্ন করতে চাইছেন।
খণ্ডঘোষে পার্টি অফিস তৈরীকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতে শাসক দল, তীব্র চাঞ্চল্য
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top