728x90 AdSpace

Latest News

Tuesday, 5 November 2019

অবৈধ বালির গাড়ির দাপটে গলসী অঞ্চলের একাধিক ব্রীজের হাল বেহাল, নির্বিকার প্রশাসন


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান:  কলকাতার পোস্তা ব্রীজ ভেঙে কয়েকজনের মৃত্যুর পরই টনক নড়েছিল সরকারের। গোটা রাজ্যের বিভিন্ন ব্রীজের কি অবস্থা তাও উঠে আসছিল সংবাদ মাধ্যমের বিভিন্ন খবরে।কিন্তু এতকিছুর পরেও পূর্ব বর্ধমানের গলসী থানা এলাকার একাধিক ব্রীজের অবস্থা এতটাই খারাপ যে যেকোনো মুহূর্তেই বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে গেলেও অবাক হবার মত কিছু থাকবে না। ফলে ক্রমশই আতংক ছড়াচ্ছে গলসী অঞ্চল জুড়ে। 

জানা গেছে, গলসী থানা এলাকার জুজুটি, সাঁকো, ভুঁড়ি প্রভৃতি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রয়েছে ডিভিসি ক্যানেল এবং বাঁকা নদীর উপর একাধিক সেতু। কোনো ব্রীজের বয়স প্রায় ৭০ বছর আবার কোনো ব্রীজের বয়স প্রায় ৫০বছরের অধিক। এর মধ্যে বেশ কিছু ব্রীজ রয়েছে যেগুলিতে এখনো রয়েছে লকগেটও। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, ব্রীজগুলি তৈরী হওয়ার পর দীর্ঘকাল হয়ে গেলেও তার কোনো সংস্কার হয়নি। ফলে সংস্কারের অভাবে এবং কালের নিয়মে একটু একটু করে ব্রীজগুলি ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়ছে। এরসঙ্গে রয়েছে ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ। 


প্রতিদিনই বড়বড় ভারী গাড়ি এবং বিশেষত শয়ে শয়ে ওভারলোড বালির লরি ও ট্রাক্টর এই ব্রীজের ওপর দিয়ে যাওয়ায় ক্রমশই ব্রীজগুলি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। যা নিয়ে বাস্তবে কোনো হেলদোল নেই প্রশাসনের, এমনটাই অভিযোগ করছেন গ্রামবাসীরা। যদিও এব্যাপারে ভুঁড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সুবোধ ঘোষ স্বীকার করেছেন ব্রীজগুলির বিপদজনক অবস্থান নিয়ে।


তিনি জানিয়েছেন, কিছু ব্রীজ নিয়ে সত্যিই তাঁরা আতংকিত হয়ে রয়েছেন। অবিলম্বে এই ব্রীজগুলির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং দ্রুত ব্রীজগুলির মেরামত করার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। নাহলে যেকোনো দিনই দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, যেভাবে প্রতিদিনই শয়ে শয়ে বালির গাড়ি যাতায়াত করছে তাতে অবিলম্বে প্রশাসন সদর্থক ভূমিকা না নিলে অচিরেই বড়সড় বিপদের আশংকা করছেন তাঁরা। যদিও তিনি জানিয়েছেন, সম্প্রতি ইরিগেশন দপ্তর থেকে গলসী অঞ্চলের ব্রীজগুলির মাটি পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু তারপর আর কোনো কাজ এগোয়নি। 

বস্তুত, গলসী অঞ্চলের সাঁকো, ভুঁড়ি প্রভৃতি অঞ্চলের মানুষজনের অভিযোগ, দামোদর নদ থেকে অবৈধভাবে বালি পাচারের জন্যই দ্রুত ব্রীজগুলির অবস্থা খারাপ হচ্ছে। দামদরের ওপারে খণ্ডঘোষের কয়েকটি বালি ঘাটের চালান নিয়ে এপারে বেআইনি ভাবে কয়েকজন নদী থেকে বালি তুলে পাচার করছে। কিন্তু স্থানীয় পুলিশ ও ভূমি দপ্তরের সঙ্গে অশুভ আঁতাতের জেরে এই কারবার বন্ধ হচ্ছে না। আর এই অশুভ আঁতাতের জেরে এখন প্রাণ সংশয়ের মুখে গলসী অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ।
অবৈধ বালির গাড়ির দাপটে গলসী অঞ্চলের একাধিক ব্রীজের হাল বেহাল, নির্বিকার প্রশাসন
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top