Headlines
Loading...
স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই সাপের উতপাৎ, আতঙ্কে গলসীর সাটিনন্দী গ্রামের মানুষজন

স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই সাপের উতপাৎ, আতঙ্কে গলসীর সাটিনন্দী গ্রামের মানুষজন


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: স্বাস্থ্যকেন্দ্র। কিন্তু সেখানেই সাপের ভয়ে আতংকে রয়েছেন সকলেই। হঠাত হঠাতই দেখা মিলছে বিষধর সাপের। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা বর্ধমানের গলসী থানার সাটিনন্দী গ্রামের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। গ্রামবাসী প্রদীপ পাত্র জানিয়েছেন, গলসী ২নং ব্লকের সাটিনন্দী এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল আশপাশের নয়নয় করেও প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষ। কিশোরকণা, সাটিনন্দী, খানো, হিট্টা, জামাড়, চান্না, দেপাড়া, জয়কৃষ্ণপুর, তারানগর, বড়মুড়িয়া, ঝাপটা প্রভৃতি গ্রামের মানুষের হাতের নাগালের মধ্যে রয়েছে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। কিন্তু এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ঘিরেই একাধিক অভিযোগ দেখা দিয়েছে।


প্রদীপবাবু জানিয়েছেন, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গড়ে প্রতিদিন ১৫০-২০০ রোগী আসেন। কিন্তু থাকেন না প্রতিদিন কোনো চিকিৎসক। যে চিকিৎসক এখানে নিযুক্ত রয়েছেন, তিনি কোনো সপ্তাহে ২দিন আসেন, আবার কখনও ৪দিন আসেন। গ্রামবাসীরা চাইছেন ডাক্তারবাবু থাকুন ৭দিনই। প্রদীপবাবু জানিয়েছেন, যে চিকিৎসক আসেন তিনি ভাল চিকিৎসা করেন। কিন্তু তাঁর আসা যাওয়ার ঠিক না থাকায় রোগীরা এসে ফেরত চলে যান। 

এদিকে, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ইনডোর চালু না হওয়ায় বা ডাক্তারবাবু না থাকায় এলাকার মানুষকে প্রায় ১৫ কিমি দূরে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এই সমস্যা দূর করতে সাটিনন্দী গ্রামের এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিকেই আধুনিক ভাবে সাজিয়ে তোলার আবেদন জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। শুধু তাই নয়, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবী, এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চালু হোক আউটডোরও। চালু হোক বেডও। কিন্তু এখনও সেই আশা পূরণ হয়নি।


অন্যদিকে, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মী কল্পনা পাত্র জানিয়েছেন, মাঝে মাঝেই সাপ বের হয়। কয়েকদিন আগেই একটি বড় বিষধর সাপ দেখতে পান তিনি। অনেক কষ্টে তাকে বার করা হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কেমিষ্ট সুভাষ বোস জানিয়েছেন, মাঝে মাঝেই সাপ বের হয়। তাঁরা আতংকিতই থাকেন। 

জানা গেছে, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়কালে সাটিনন্দী গ্রামে রাস্তার ধারে বিশাল এলাকা জুড়ে তৈরী হয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। কিন্তু কালের নিয়মে একটু একটু করে ভাঙতে থাকে পুরনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবন। ফলে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন করে তৈরী হয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন। কিন্তু পুরনো সেই ভেঙ্গে পড়া বাড়িই এখন বিষাক্ত পোকামাকড় আর সাপের নিশ্চিত আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। ফলে মাঝে মাঝেই বিষাক্ত সাপের দেখা মেলে। গ্রামবাসী থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীরা চাইছেন সরকারীভাবে পুরনো ওই ভেঙে পড়া বাড়িগুলিকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হোক।
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});