Headlines
Loading...
বর্ধমানে ব্রিটিশ আমলে তৈরি ত্রাণ শিবির এখন গ্রামের মানুষের ঘুঁটে দেবার জায়গা

বর্ধমানে ব্রিটিশ আমলে তৈরি ত্রাণ শিবির এখন গ্রামের মানুষের ঘুঁটে দেবার জায়গা


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: গলসী ২নং ব্লকের ভূঁড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের জুজুটি এলাকায় বন্যা কবলিত মানুষকে আশ্রয় দেবার জন্য তৈরী হওয়া ত্রাণশিবির এখন গ্রামবাসীদের ঘুঁটে দেবার আদর্শ জায়গা হয়ে উঠেছে। 

জানা গেছে, স্বাধীনতার পর দুঃখের নদ দামোদরের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হতে থাকে এই সমস্ত এলাকা। সেজন্য একদিকে যেমন বাঁকানদী ও দামোদর নদের মাঝে তৈরী হয় লকগেট, তেমনি তৈরী হয় দুটি স্থায়ী ত্রাণ শিবির। পুরনো লকগেটের পাটা গেছে চুরি হয়ে। তাই নতুন করে অন্য জায়গায় তৈরী হয়েছে লক গেট। আর যেহেতু এখন বন্যা নিয়ন্ত্রিত, তাই ওই দুই ত্রাণ শিবির এখন গ্রামবাসীদের ঘুঁটে দেবার, গোবর রাখার আদর্শ জায়গা হয়ে উঠেছে।


গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, রাতের অন্ধকার নামতে না নামতেই ওই পরিত্যক্ত ঘরগুলিতে চলে দেদার মদের আড্ডা। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, বন্যার সময় ইরিগেশন দপ্তরের কর্মীরা থাকতেন ওই ঘরগুলিতে। বন্যা কবলিত মানুষকেও দেওয়া হত আশ্রয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ওই পরিত্যক্ত ঘর দুটি এখন কেবলই কালের সাক্ষী হয়ে এবং গ্রামবাসীদের ঘুঁটের বাড়ি হয়েই টিকে রয়েছে।


যদিও গোটা বিষয়টি সম্পর্কে ভুঁড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সুবোধ ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁদের কাছেও বিষয়টি এসেছে। তিনি জানিয়েছেন, এই ত্রাণশিবির লাগোয়াই সম্প্রতি ১০০ দিনের কাজ করতে গিয়ে উদ্ধার হয় দুটি মন্দিরের চুড়ো। প্রত্নতাত্ত্বিক দপ্তর এসে খোঁড়াখুঁড়িও করে। কিন্তু তারপরেই সবকিছু থমকে যায়। ইতিমধ্যে কেন্দ্র সরকার ১০০ দিনের কাজের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম লাগু করেন। ফলে ১০০ দিনের কাজ করানোর ক্ষেত্রে কিছু বাধা এসে খাড়া হয়েছে।


তিনি জানিয়েছেন, পঞ্চায়েতের উদ্যোগেই এই এলাকাকে ঘিরে পার্ক তৈরীর পরিকল্পনা নিয়েছেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই সেখানে ঢালাই রাস্তা, বিভিন্ন গাছ লাগানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই লাগানো হবে একটি সুদৃশ্য গেটও। একই সঙ্গে পরিত্যক্ত ওই দুটি ত্রাণ শিবির এবং মন্দিরকে ঘিরে গোটা এলাকাকে সাজিয়ে তোলার কাজ শুরু হবে। এব্যাপারে তাঁরা একটি খসড়া পরিকল্পনাও তৈরী করেছেন।
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});