728x90 AdSpace

Latest News

Saturday, 2 November 2019

হুগলির এক প্রৌঢ়াকে খুন করে পালিয়ে যাবার সময় বর্ধমান স্টেশনে ধরা পড়লো অভিযুক্ত

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,হুগলি ও বর্ধমান: শুক্রবার রাতে হুগলি স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এক মহিলাকে খুন করে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ালো। নৃশংস এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে।ঘটনার পরই অভিযুক্ত প্রথমে পালিয়ে গেলেও শনিবার সকালে বর্ধমান স্টেশনে জিআরপির হাতে ধরা পড়ে যায় অভিযুক্ত। বর্ধমান জিআরপি থানার ওসি দীপ্তেস চ্যাটার্জি জানিয়েছেন, সঞ্জয় রাজবংশী নামে এক ব্যক্তিকে বিশেষ তথ্যের ভিত্তিতে বর্ধমান স্টেশন থেকে আটক করা হয়েছিল। পরে দুপুরের দিকে চুচুড়া থানার পুলিশ এসে ধৃত ওই ব্যক্তিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত লক্ষ্মী কর্মকার (৫২) ও অভিযুক্ত সঞ্জয় রাজবংশী দুজনেরই বাড়ি হুগলি স্টেশন সংলগ্ন লোহারপাড়ায়। এই ঘটনায় উত্তেজনা থাকায় এলাকায় র‍্যাফ টহল দিচ্ছে।

পুলিশসূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাতে হুগলি স্টেশনের কাছে প্রৌঢ় লক্ষী কর্মকার ও সঞ্জয় রাজবংশীর মধ্যে বচসা হয়। এরপরেই সঞ্জয় ওই প্রৌঢ়কে লক্ষ্য করে ইট ছুঁড়ে মারে। তখন ব্যান্ডেল জিআরপির একটি গাড়ি সেখানে এলে সঞ্জয় ছুটে পালিয়ে যায়। লক্ষ্মীর সঙ্গে কথা বলে পুলিশ চলে যায়। রাত বারোটা নাগাদ এই ঘটনার ছবি পুরোটাই স্টেশনের সামনের সাইকেল গ্যারাজে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পরে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জিআরপির ওই গাড়িটি চলে যেতেই ফিরে আসে সঞ্জয়। হুগলি স্টেশনের সামনে একটি পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে থাকত লক্ষ্মী। সেখান থেকে তাকে টেনে বের করে মারধর করতে করতে স্টেশন রোডে নিয়ে যায়। এরপর ভারী কিছু দিয়ে মাথায় আঘাত করে খুন করে তাকে। এরপর পাশের খড়কাটা কল থেকে খড় নিয়ে এসে আগুন জ্বালিয়ে লক্ষ্মীর দেহ পুড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় তখন মৃতের শরীর সম্পুর্ন দগ্ধ হয়ে গেছে।

ঘটনার পর অভিযুক্ত সঞ্জয় ব্যান্ডেল স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে বর্ধমানে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে জম্বু তাওয়াই এক্সপ্রেসে উঠে পালানোর সময় বর্ধমান স্টেশন থেকে তাকে গ্রেফতার করে বর্ধমান জিআরপি। শনিবার সকালে চুঁচুড়া থানার একটি দল বর্ধমান পৌঁছে অভিযুক্ত সঞ্জয় কে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ফিরে যায়। সঞ্জয়ের মা ও ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মৃত লক্ষ্মীর দাদা অমল কর্মকারের অভিযোগ, কালীপুজোর দিন তাঁর ভাইকে শাসিয়েছিল সঞ্জয়। পায়ে সমস্যা থাকায় লাঠি নিয়ে চলাফেরা করত লক্ষ্মী। কাজকর্ম কিছু ছিল না। তাই চেয়েচিন্তেই খাবার জোগাড় করতেন তিনি। মাঝে মধ্যে দাদার কাছেও থাকতেন তিনি। অমল বাবু জানান, কালীপুজোর দিন লক্ষ্মীর কাছে থাকা সত্তর টাকা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সঞ্জয়। না পেরে হুমকি দেয়। তিনি জানান,  হুগলি স্টেশনের কাছে লোহারপাড়াতে বাড়ি সঞ্জয়ের। এলাকার দুষ্কৃতীদের সঙ্গে মেলামেশা ওর। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অনেককেই ভয় দেখিয়ে টাকা তুলত। অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকার বাসিন্দারাই একবার পিটিয়ে সঞ্জয়ের হাত পা ভেঙে দিয়েছিল। কিন্তু তাতেও শোধরায়নি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, হুগলি স্টেশন চত্বরে রাত নামলেই চলে যায় দুষ্কৃতীদের দখলে। মদ খেয়ে রীতিমত তাণ্ডব চালায় তারা। পুলিশ টহল দিলেও খুব একটা কাজ হয় না। অপরাধ ঠেকাতে সিসিটিভি ক্যামেরাও বসানো হয়েছে।

চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দারা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন। একজনকে খুন করে জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা কি হঠাৎ ঘটে যাওয়া, নাকি পরিকল্পিত? সঞ্জয় একাই ছিলো, নাকি তার সঙ্গে আরও কেউ ছিল? এই সবেরই অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। তাঁরা জানান, সঞ্জয় রাজবংশীর নামে একাধিক অভিযোগ রয়েছে পুলিশের খাতায়। হুগলি স্টেশন এলাকার পরিচিত দুষ্কৃতী সৌমিত্র কর্মকার ওরফে ফাটার সাগরেদ হিসাবে কাজ করত সঞ্জয় বলে স্থানীয় এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
হুগলির এক প্রৌঢ়াকে খুন করে পালিয়ে যাবার সময় বর্ধমান স্টেশনে ধরা পড়লো অভিযুক্ত
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top