728x90 AdSpace

Latest News

Monday, 18 November 2019

কলকাতার পর এবার বর্ধমানে নার্সিং কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: কলকাতার পর এবার বর্ধমানে এক নার্সিং প্রথম বর্ষের ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ালো। মৃতের নাম রিয়া দে (১৯)। বাড়ি বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর থানা এলাকায়। সম্প্রতি সে সংশোধিত সহায়ক নার্সিং ধাত্রীবিদ্যার কোর্সে ভর্তি হয়েছিল। গত অক্টোবর মাস থেকেই তার ক্লাস শুরু হয়েছিল। সোমবার সকালে বর্ধমান শহরের ছোটনীলপুর জগতবেড় প্রোমোটিস ট্রেনিং স্কুলে তার ঘর থেকে ওড়নার ফাঁসে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। 

কলেজের সিনিয়র সিস্টার টিচার রীতা চ্যাটার্জ্জী জানিয়েছেন, কোনো দিন রিয়ার আচার আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়নি। সোমবার সকালে যথারীতি অন্যান্য ছাত্রীরা ক্লাসে এলেও রিয়া না আসায় তার সহপাঠীরা তাকে ডাকতে তার ঘরে গিয়ে দেখে দরজা বন্ধ। এরপর সহপাঠীরা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে এলাকার স্থানীয় মানুষজন এসে দরজা ভেঙে দেখে রিয়ার ঝুলন্ত দেহ। বর্ধমান থানাকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃতের ঘর থেকে রিয়ার একটি সুইসাইডাল নোট উদ্ধার হয়েছে। ওই নোটে সে তার বাবা-মার উদ্দেশ্যে লিখেছে - রিয়ার বোন যেন ভাল থাকে। জীবনে বড় হয়, বাবা-মার মুখ উজ্জ্বল করে। একইভাবে সে লিখেছে - তার ভাইও যেন জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এরপরই রিয়া তার সুইসাইডাল নোটে লিখেছে, সরকার যেভাবে তপশীলি জাতি, উপজাতি সম্প্রদায়ের জন্য সুযোগ দিচ্ছে সেভাবে সুযোগ পাচ্ছে না সাধারণ ক্যাটাগরির ছেলেমেয়েরা। আর তাই বাধ্য হয়েই এভাবেই হার মানতে হচ্ছে তাদের। রিয়া লিখেছে, সে প্রথমে ভূগোল বিভাগে ভর্তি হয়েছিল। পরে জিএন এম কোর্সেও সুযোগ পায়। কিন্তু সেই কোর্স না করে সে সহায়ক নার্সিং ধাত্রীবিদ্যা কোর্সে বর্ধমানে ভর্তি হয়। 

এদিকে, কলকাতার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের নার্সিংএর ছাত্রী সমাপ্তি রুইদাসের অস্বাভা্বিক মৃত্যুর পর কার্যত সরকারী পরিকাঠামো এবং সরকারী সিস্টেমের প্রতিবাদ করে রিয়া দে-র এই আত্মহত্যার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে এদিন নার্সিং কলেজে ছুটে যান বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেপুটি সুপার ডা. অমিতাভ সাহাও। তিনি জানিয়েছেন, কিভাবে এই ঘটনা ঘটল এবং কেন ঘটল তা খতিয়ে দেখা হবে। 


অন্যদিকে, স্থানীয় প্রতিবেশী যুবক আরবি ইসলাম জানিয়েছেন, তাঁরা ওই নার্সিং কলেজের পাশের মাঠে খেলা করছিলেন। প্রায় আধঘণ্টা ধরে তাঁরা চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ পাচ্ছিলেন। এরপরই তাঁরা ছুটে যান। তাঁদের সামনেই কলেজের কেয়ারটেকার দরজার ছিটকিনি ভেঙে ঘরে ঢোকেন। এরপর তিনিই রিয়ার ঝুলন্ত দেহ নামান। আরবি এদিন অভিযোগ করেছেন, ওই কেয়ার টেকার রিয়ার ডায়রি থেকে তার সুইসাইড নোটটি ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করছিলেন। তারাই বাধা দিয়ে তার হাত থেকে নোটটি কেড়ে নেন। পরে সেই কেয়ারটেকারই জানায়, সে কেয়ারটেকার নয় কলেজের পিওন। আরবি আরও অভিযোগ করেছেন, এতবড় একটা ঘটনার পরও কলেজের ইনচার্জ রীতা চ্যাটার্জ্জী নিশ্চিন্ত মনে নিজের চেম্বারে বসেছিলেন। একবারের জন্যেও দেখতে যাননি। এই ঘটনায় তারা বিস্মিত হয়েছেন। শুধু তাইই নয়, এই ঘটনার পর সমস্ত ছাত্রীদের একটি ক্লাসের মধ্যে ঢুকিয়ে যাতে তারা কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতে না পারেন সেজন্য তাদের সাবধানও করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবী করেছেন আরবি ইসলাম। 

অপরদিকে, রিয়ার সঙ্গী ছাত্রীরা জানিয়েছেন, এদিন সকালে যথারীতি রিয়া ছাতু খায়। তারপর তারা ক্লাসে আসার কথা বললে সে জানায়, পরে যাবে। কিন্তু তারপরেও ক্লাসে আসেনি। ইতিমধ্যে শিক্ষিকা কলেজের একটি ফি-এর জন্য টাকা আনার কথা বললে তারা রুমে গিয়ে দেখেন ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। এরপর তারা চিৎকার চেঁচামেচি করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। অন্যদিকে, এই ঘটনার খবর পেয়ে অপরাপর ছাত্রীদের অভিভাবকরাও আতংকে ছুটে আসেন কলেজে। তাঁরাও জানিয়েছেন, রিয়ার কথাবার্তা বা আচার আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা তাঁরা লক্ষ্য করেননি। এমনকি যেহেতু এবারেই প্রথম কোর্স চালু হয়েছে। তাই পড়াশোনার ক্ষেত্রেও তেমন কোনো চাপ ছিল না। সবেমাত্র ক্লাস শুরু হয়েছিল। 

উল্লেখ্য, এদিন রিয়ার এক মামা এবং এক খুড়তুতো দাদা জানিয়েছেন, তাঁরা রিয়ার অসুস্থতার খবর পেয়ে এসে এই ঘটনা দেখেন। কিভাবে ঘটল তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না। তবে রিয়া বেশ কিছুদিন ধরেই কলেজের পরিকাঠামো নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছিল। অপরদিকে, এই ঘটনায় ডা. অমিতাভ সাহা জানিয়েছেন, কলকাতার পর বর্ধমানেও এই ঘটনা ঘটায় তাঁরা ছাত্রীদের কাউন্সিলিং করানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন। একই কথা বলেছেন জেলা মুখ্য স্বাস্থ‌্যাধিকারিক ডা. প্রণব রায়ও। তিনি জানিয়েছেন, তাঁরা এই নার্সিং কলেজের ছাত্রীদের নিয়ে কাউন্সিলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একইসঙ্গে কিভাবে এই ঘটনা ঘটল সে সম্পর্কে তদন্ত করে দেখা হবে।
কলকাতার পর এবার বর্ধমানে নার্সিং কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top