728x90 AdSpace

Latest News

Wednesday, 13 November 2019

স্কুলে নেই সীমানা প্রাচীর, বহিরাগতদের অসামাজিক কাজকর্মে আতঙ্কিত ছাত্রছাত্রীরা


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,গলসি: পূর্ব বর্ধমানের গলসী ২নং ব্লকের সাটিনন্দী গ্রামে সাটিনন্দী হাইস্কুল এবং স্কুল লাগোয়া গ্রন্থাগারকে ঘিরে কোনো সীমানা প্রাচীর না থাকায় বহিরাগতদের উৎপাতে আতংকিত হয়ে পড়েছেন স্কুলের ছাত্রছাত্রী,অভিভাবক থেকে শিক্ষক শিক্ষিকারাও। স্কুলের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, ১৯৬০ সালে এই হাইস্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রায় ৪০০ ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে এই স্কুলে।

শিক্ষক থেকে অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলের নিজস্ব বিশাল জায়গা রয়েছে। কিন্তু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা না থাকায় স্কুল ছুটির পর কিংবা স্কুল বন্ধ থাকলে বহিরাগতদের উৎপাত বাড়ছে স্কুলে। প্রায়শই স্কুল চত্বরে মিলছে মদের বোতল থেকে নানা ধরণের বিষয়। এমনকি স্কুল চলাকালীনও স্কুলের আশপাশে দেখা মেলে অশালীন, বখাটে ছেলেমেয়েদের। যা নিয়ে রীতিমত উৎকণ্ঠিত স্কুলের অভিভাবকরাও। ছাত্র ও ছাত্রীর যৌথ স্কুল হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষভাবে চিন্তিত শিক্ষক, অভিভাবক থেকে খোদ ছাত্রীরাও।


স্কুলের অশিক্ষক কর্মী বাসুদেব ঘোষ জানিয়েছেন, স্কুলের সীমানায় প্রাচীরের জন্য জেলা প্রশাসনের সর্বস্তরে জানানো হয়েছে। এমনকি এলাকার বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁয়ের কাছেও সাংসদ কোটায় এই প্রাচীর করে দেবার জন্য আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনও শিকে ছেঁড়েনি। ফলে তাঁরা সমস্যার মধ্যেই আছেন। স্কুলের এক শিক্ষক জানিয়েছেন, স্কুলের এই জায়গার মধ্যেই রয়েছে যাদবেন্দ্র স্মৃতি পাঠাগার। যা তৈরী হয় ১৯৫৩ সালে। পাঠাগার এবং স্কুলের সম্পত্তির পৃথকীকরণ না হওয়ায় কিছু সমস্যা রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁরা প্রশাসনের কাছে ছাত্রছাত্রীদের অসুবিধা এবং স্কুলের নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে যত দ্রুত সম্ভব স্কুলের সীমানাকে প্রাচীর দিয়ে ঘেরার আবেদন করা হয়েছে।

যাদবেন্দ্র স্মৃতি পাঠাগারের গ্রন্থাগারিক স্বপন কুমার দত্ত জানিয়েছেন, এই লাইব্রেরীতে রয়েছে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি বই। থাকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকাও। কিন্তু এখন আর সেভাবে পাঠক হাজির হন না। কয়েকজন বেকার মাঝে মাঝে আসেন। চাকরী সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে। আর প্রায় নিয়মিত আসে কিছু ছাত্রছাত্রী।

এদিকে, লাইব্রেরী ভবনটি দীর্ঘদিনের হওয়ায় ক্রমশই ভাঙছে। ছাদ চুঁইয়ে পড়ছে বৃষ্টির জল। নষ্ট হতে বসেছে মূল্যবান বই। ঘরের দেওয়ালে দেওয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল। মেঝেতেও দেখা দিচ্ছে ধ্বস। আশপাশের এলাকা জঙ্গলে ভরে গেছে। ফলে প্রায়ই দেখা মিলছে সাপের। তিনিও জানিয়েছেন, স্কুলের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরাও চাইছেন গোটা এলাকাকে প্রাচীর দিয়ে ঘিরে দেওয়া হোক। একইসঙ্গে এই পুরনো গ্রন্থাগারকে মডেল গ্রন্থাগার হিসাবে গড়ে তোলা হোক। যাতে পাঠকরা গ্রন্থাগারমুখী হতে পারে। নাহলে আস্তে আস্তে এই গ্রন্থাগারও ধ্বংস হয়ে যাবে।
 স্কুলে নেই সীমানা প্রাচীর, বহিরাগতদের অসামাজিক কাজকর্মে আতঙ্কিত ছাত্রছাত্রীরা
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top