Headlines
Loading...
দেদার চলছে অবৈধ বালিখাদান, চলছে ওভারলোর্ডিংও, ক্ষোভে ফুঁসছে গলসীর গ্রামবাসীরা

দেদার চলছে অবৈধ বালিখাদান, চলছে ওভারলোর্ডিংও, ক্ষোভে ফুঁসছে গলসীর গ্রামবাসীরা


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত অবৈধ বালিখাদান থেকে ওভারলোর্ডিং বালির গাড়ি রুখতে দফায় দফায় অভিযান চালালো গলসী ১নং ব্লকের ঢোলা গ্রামের বাসিন্দারা। মঙ্গলবার রাতেই স্থানীয় তৃণমূল নেতা বদরুদ্দোজা মণ্ডলের নেতৃত্বে তৃণমূল কর্মীরা এই অঞ্চলের শিল্যাঘাটে গিয়ে ওভারলোডিং বালির গাড়ি যাতায়াত বন্ধ করার হুঁশিয়ারী দিয়ে আসেন। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। আর তারপরেই বুধবার সকাল থেকে লাগাতার গ্রামবাসী তথা তৃণমূল সমর্থকরা এব্যাপারে অভিযান চালানোয় ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিল। 

স্থানীয় তৃণমূল নেতা বদরুদ্দোজা মণ্ডল জানিয়েছেন, গলসী ১ ও ২ নং ব্লকের বেশ কিছু জায়গায় দামোদরে চলছে অবৈধ বালিঘাট। প্রতিদিনই শয়ে শয়ে বালির গাড়ি যাতায়াত করছে। এব্যাপারে বিএলআরও দপ্তরকে জানানোও হয়েছে। সম্প্রতি ঢোলাগ্রামে এব্যাপারে অভিযানে এলে বিএলআরও-র ওপর হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় পুলিশ ৪জনকে গ্রেপ্তারও করে। কিন্তু তারপরেও কোনোরকম বন্ধ হয়নি এই অবৈধ বালিঘাট এবং ওভারলোর্ডিং গাড়ির যাতায়াত। তিনি জানিয়েছেন, ওভারলোর্ডিং বালির গাড়ি যাতায়াতের ফলে গ্রামীণ রাস্তা ভয়াবহ রকম ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তাই বারবার জেলা প্রশাসনের কাছে এই ওভারলোর্ডিং বন্ধ করার জন্য জানানোও হয়। 

তিনি জানিয়েছেন, বারবার বালিঘাট কারবারীদের এব্যাপারে জানানো হলেও কোনো লাভ হয়নি। বাধ্য হয়েই তাই বুধবার সকালে গ্রামবাসীরা ওভারলোর্ডিং বালির গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। একইসঙ্গে গোটা বিষয়টি জানানো হয় জেলা প্রশাসনের কাছেও। প্রায় ঘণ্টাখানেক বিক্ষোভ চলার পর গাড়ির মালিকরা ওভারলোর্ডিং না করার জন্য প্রতিশ্রুতি দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিকে, ঢোলা গ্রামে ওভারলোর্ডিং বালির গাড়ি নিয়ে বিক্ষোভের পাশাপাশি গলসী ১ ও ২ অঞ্চলের দামোদর তীরবর্তী গ্রামের বাসিন্দা এমনকি গলসী ১ ও ২ অঞ্চলের পঞ্চায়েত কর্তারাও জানিয়েছেন, অবিলম্বে বন্ধ করা হোক অবৈধ বালি খাদানগুলি। নাহলে তাঁরা প্রতিমুহূর্তে সমস্যার মুখে পড়ছেন। কারণ এই অবৈধ বালিখাদানের জেরে রাস্তাগুলি প্রতিমুহূর্তে ভেঙে যাচ্ছে। অথচ রাস্তা মেরামতি করার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ পঞ্চায়েতে নেই। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের। 

এরই পাশাপাশি গলসী অঞ্চল জুড়ে রয়েছে অসংখ্য ব্রীজ বা সেতু। কোনো কোনোটি ব্রীজ ৬০ বছরেরও বেশি পুরনো। সেই সমস্ত সেতুগুলি দীর্ঘকাল সংস্কারও করা হয়নি। অনেক ব্রীজের গার্ডওয়ালও ভেঙে গেছে। জায়গায় জায়গায় ব্রীজের নিজের পিলারেও দেখা দিয়েছে ফাটল। অথচ তার ওপর দিয়েই প্রতিদিন শয়ে শয়ে বালির ওভারলোর্ডিং গাড়ি যাতায়াত করায় ক্রমশই বিপদের ঝুঁকি বাড়ছে। স্বাভাবিকভাবেই গ্রামবাসীরা চাইছেন প্রশাসন শক্ত হাতে মোকাবিলা না করলে যেকোনো দিন জনরোষ আছড়ে পড়বে। এরই পাশাপাশি গ্রামবাসীরা আরও অভিযোগ করেছেন, এই সমস্ত অবৈধ বালিখাদানগুলির পিছনে রয়েছে শাসকদলের কিছু নেতা থেকে সরকারী আমলা এবং পুলিশের একাংশের মদত। রীতিমত টাকার জোরে চলছে এই অবৈধ বালিখাদানগুলি।
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});