728x90 AdSpace

Latest News

Saturday, 30 November 2019

বর্ধমান মেডিকেলে দেড়বছরের শিশুর হৃদযন্ত্র থেকে বার করা হল হাড়ের টুকরো


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: রীতিমত ঝুঁকির এবং রাজ্যে প্রথমবার অস্ত্রোপচার করে দেড়বছরের শিশুর ফুসফুসে আটকে যাওয়া একটি হাড়ের টুকরোকে বার করল বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা। শনিবার সকালে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের অপারেশন থিয়েটারে দেড় বছরের ওই শিশুকন্যা কুরিনা খাতুনের সফল অস্ত্রোপচার করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরামবাগ থেকে এদিনই বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় কুরিনা খাতুনকে। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ এবং বিপদমুক্ত বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি সার্জেণ্ট ডা. গণেশ গাইন জানিয়েছেন, ওই শিশুর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে শিশুটির দাদু ভাত খাচ্ছিল। সেই সময় ছোট্ট শিশুটি তার পাশেই ছিল। হঠাতই শিশুটি কিছু একটা খেয়ে ফেলে এবং রীতিমত শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকে। দ্রুত শিশুটিকে স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। এই সময় অত্যন্ত সাহসিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে শিশুটির বাবা শিশুর মুখের ভিতর ক্রমাগত হাওয়া দিতে শুরু করেন। ওই অবস্থায় তাকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় ইএনটি বিভাগে। ডা. গাইন জানিয়েছেন, শিশুটির অবস্থা দেখে দ্রুত তাঁরা হাসপাতালের ডেপুটি সুপার ডা. অমিতাভ সাহাকে গোটা ঘটনা জানান।

এরপর ডেপুটি সুপারের উদ্যোগে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে শিশুটির অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অপারেশনের জন্য ডা. গণেশ গাইন ছাড়াও ছিলেন ডা. ঋতম রায় সহ কয়েকজনের মেডিকেল বোর্ড। ডা. গাইন জানিয়েছেন, ব্রঙ্কোস্কোপি করে শিশুর হৃদযন্ত্রের বাম দিকে আটকে যাওয়া একটি হাড়ের টুকরো এবং তার সঙ্গে আরও কিছু মাংস তাঁরা বার করেন। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ হলেও তাকে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: কৌস্তভ নায়েকের তত্ত্বাবধানে শিশু বিভাগে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। 

পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, এই ধরণের দ্রুত অপারেশন একমাত্র গোটা রাজ্যের বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই করা হল। রাজ্যের অন্য কোথাও এত দ্রুততার সঙ্গে এত ছোট শিশুর এই ধরণের অস্ত্রোপচারের কোনো নজীর নেই। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, গোটাটাই সম্ভব হয়েছে শিশুটির বাবার উপস্থিত বুদ্ধি এবং অসীম সাহসের জন্যই। তিনি যেভাবে একটানা শিশুটির মুখে মুখ লাগিয়ে হাওয়া দিয়ে গেছেন তার ফলেই শিশুটি জীবিত ছিল। নাহলে বড় কোনো অঘটন ঘটতে পারত।
বর্ধমান মেডিকেলে দেড়বছরের শিশুর হৃদযন্ত্র থেকে বার করা হল হাড়ের টুকরো
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top