Headlines
Loading...
বন্দুকের গুলি ছুঁড়ে সন্ধিপুজো শুরু হয় ৪৫০ বছরের পুরনো গুসকরার চোংদার বাড়িতে

বন্দুকের গুলি ছুঁড়ে সন্ধিপুজো শুরু হয় ৪৫০ বছরের পুরনো গুসকরার চোংদার বাড়িতে


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: প্রায় ৪৫০ বছরের পুরনো বর্ধমানের গুসকরার চোংদার বাড়ির দুর্গাপুজো। একচালার প্রতিমার বিশেষত্বের মধ্যে রয়েছে এখানে সিংহের গড়ন খানিকটা ঘোড়ার মত। অসুরের রং সবুজ। জমিদারিত্বের জৌলুস না থাকলেও ঐতিহ্য আর পরম্পরাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন এই পরিবারের বর্তমান সদস্যরা। 

জানা যায়, গুসকরার জমিদার চতুর্ভুজ চোংদারের হাত ধরেই এই পুজো শুরু হয়েছিল। জমিদার বাড়ির কেন্দ্রস্থলেই রয়েছে বিরাট দোতলা ঠাকুর দালান। চোংদার পরিবারের গৃহবধু মল্লিকা চোংদার জানিয়েছেন, পরিবারের মঙ্গল কামনায় দশমীর দিন ঘট বিসর্জন করা হয় না। পরিবারের রেওয়াজ মেনে অষ্টমীর দিন কুমারী পূজো হয়। পাশাপাশি জমিদার বাড়ির প্রথা মেনে পরিবারের মহিলা সদস্যরাই পুজোর ভোগ রান্না ও পূজার জোগাড়ের কাজ করে থাকেন। এছাড়াও পুজো চারদিন ধরে প্রদীপ জেলে রাখার রেওয়াজ আছে। 

তিনি জানিয়েছেন, আগে চোংদার বাড়ির পুজোয় কামান দাগা হত এবং তারপরেই বলিদান করা হতো। পরবর্তীকালে কামান দাগা বন্ধ হয়ে গেলে বন্দুকের গুলি ছুঁড়ে সন্ধি পুজো শুরু করা হয়। শাস্ত্র মতে পুজো হয় এই বাড়িতে। বলি প্রথা এখনও চালু রয়েছে। পুজোর সময় ৫১ থালার ভোগ রান্না হয়। বাড়ির মহিলারাই ভোগ রান্না করেন। পুজোর কটাদিন পরিবারের সদস্যরা সহ এলাকার মানুষদের নিয়ে পাত পেড়ে চলে খাওয়ার আয়োজন। দশমীর দিন সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন বাড়ির মহিলারা। 

মল্লিকাদেবী জানিয়েছেন, এক সময় কলকাতার নামী কোম্পানির যাত্রাপালার আসর বসতো এখানে। এখন আর সে সব হয় না। জমিদারবাড়ির ঠাকুর দালানের বারান্দার পলেস্তারা খসে পড়লেও পুজোর নিষ্ঠা আর ঐতিহ্যে কোনো ভাটা পড়েনি। ধুমধাম আর জাঁকজমকের সঙ্গে এখনও পুজোর চারটে দিন মেতে ওঠে পরিবার-সহ এলাকার মানুষরা। পুজোর চারদিনই হোম যজ্ঞ হয়। সাধারণ রীতি অনুযায়ী দশমীতে ঘট বিসর্জন করা হলেও, কিন্তু চোংদার বাড়িতে এইদিনই ঘট প্রতিষ্ঠা করা হয়। রেখে দেওয়া হয় এক বছর। পরের বছর ষষ্ঠীর দিন সেই ঘট বিসর্জন হয়।
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});