Headlines
Loading...
জামালপুরের কোলসরা গ্রামে সিদ্ধেশ্বরী কালীর জন্য কোনো বাড়িতেই নেই কালীর মূর্তি

জামালপুরের কোলসরা গ্রামে সিদ্ধেশ্বরী কালীর জন্য কোনো বাড়িতেই নেই কালীর মূর্তি

ফোকাস বেঙ্গল নিউজ ডেস্ক:  এবছর বর্ধমানের জামালপুরের কোলসরা গ্রামের ঘোষাল বাড়ির কালীপূজো প্রায় ৪৭৯ বছরে পা দিল। প্রাচীন এই পুজোকে ঘিরে রয়েছে নানান নির্দেশ ও ইতিহাস। 

জামালপুরের কোলসরা গ্রামে কালীরূপী কোনো বহুরুপীকেই ঢুকতে দেওয়া হয়না। কোলসরা গ্রামের কোনো বাড়িতে কোনো কালী প্রতিমা এমনকি কালীর কোনো ক্যালেণ্ডারও রাখা নিষেধ। আর এই সমস্ত নিষেধাজ্ঞার পিছনে রয়েছে কোলসরা গ্রামের জাগ্রতা দেবী সিদ্ধেশ্বরী।

ঘোষাল পরিবারের বর্তমান বংশধর সমীর ঘোষাল জানিয়েছেন, ১৫৪০ খ্রীষ্টাব্দে ঘোষাল পরিবারের তৎকালীন পুরুষ দিগম্বর ঘোষাল সম্রাট শের শাহের নির্দেশে গ্রাণ্ড ট্রাঙ্ক রোড বা বর্তমানের জি টি রোড তৈরীর কাজ দেখাশোনা করতে আসেন বাংলায়। কংস নদীর পথে তিনি একদিন কোলসরা গ্রামে রাত কাটান। সেইদিনই দেবী সিদ্ধেশ্বরী তাঁকে স্বপ্নাদেশ দিয়ে প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ দেন। পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দিগম্বর ঘোষাল তাঁর স্বপ্নাদেশের কথা জানান সম্রাট শের শাহকে। অন্য ধর্মের প্রতি সমান সহানুভূতিশীল সম্রাট শের শাহ দিগম্বর ঘোষালকে সঙ্গে সঙ্গে ৫০০ বিঘা সম্পত্তি দান করে দেবীকে প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ দেন। নিজের পাঞ্জা খচিত তাম্রফলকে তিনি এই জমি প্রদান করেন দেবীর নামে। এরপর ওই বছর থেকেই শুরু হয় সিদ্ধেশ্বরী কালীর পূজো। 

সমীরবাবু জানিয়েছেন, কোলসরা গ্রামের দেবী সিদ্ধেশ্বরীর নির্দেশ মত ওই গ্রামে আর কোনো কালীপূজো হয় না। এমনকি কোনো বাড়িতে অন্য কোনো কালীমূর্তিও রাখা হয় না। গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হয় না কোনো কালীরূপী বহুরুপীকেও। দেবীকে এখানে পঞ্চমুণ্ডের ওপর স্থাপন করা হয়েছে। একটি ত্রিশূলকে বেষ্টন করে মূর্তিটি রয়েছে। তাই কোনো কারণে বিসর্জনের প্রয়োজন হলে পাঁচজন পুরোহিত এসে প্রতিমাকে খণ্ড খণ্ড করে ঝুড়িতে ভরে তা বিসর্জন করেন। 

সমীরবাবু জানিয়েছেন, বেশ কিছুকাল আগে শের শাহ প্রদত্ত ওই তাম্রফলকটি চুরি হয়ে যায়। কিন্তু আজও তা উদ্ধার হয়নি। ফলে তাঁদের পরিবার সহ গোটা গ্রামের মানুষই তাতে অসন্তুষ্ট। সেটি খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});