Headlines
Loading...
৪০০ বছরের এই পুজোয় বাজে না ঢাক, নেই বিসর্জন - জানতে হলে পড়ুন

৪০০ বছরের এই পুজোয় বাজে না ঢাক, নেই বিসর্জন - জানতে হলে পড়ুন



ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,কালনা:কালনার পাথুরিয়ামহলের মুখোপাধ্যায় পরিবারের জয়দুর্গার পুজোয় বাজে না ঢাক, হয়না বিসর্জন।৪০০ বছর ধরে এই প্রথাই চলে আসছে। এমনকি জয়দুর্গার মহাদশমীর পুজোও হয় না।জানা যায়, প্রথমে এই পুজো কালনার বালিবাজারের চট্টোপাধ্যায় পরিবারের হাতে থাকলেও, পরে এই পুজোই হয়ে যায় মুখোপাধ্যায় পরিবারের। তবে এই বিশেষ প্রথার প্রচলন সম্পর্কে সঠিক কারণ জানা যায়না। বর্তমান মুখোপাধ্যায় পরিবার সূত্রে শোনা যায়, একসময় ঘরের মেয়ে রূপেই উমা পূজিত হতো চট্টোপাধ্যায় পরিবারে। ঘরের মেয়ের বিসর্জন হয় না। তাই উমার যাতে কোনো কষ্ট না হয় তাই তার দেখাশোনার ভার দেওয়া হয়েছিল পূজারীর হাতে। সেই শুরু। দানে পাওয়া জয়দুর্গার অনাদর করেননি পূজারি রামধন মুখোপাধ্যায়। 

ঢাকের তালে শারদোৎসবে যখন সবাই মাতোয়ারা হয়, তখন মুখোপাধ্যায়রা ঢাকের বোলে কোমর দোলান না। জয় দুর্গার পুজোয় ঢাক বাজে না। বাজে না অন্য কোনো বাদ্যযন্ত্র। দশমীতে পুজোও হয় না। তাই জয়দুর্গার পুজোয় বিসর্জনও হয় না।জনশ্রুতি আছে, বোধহয় ঘরের মেয়ে যাতে দূরে না চলে যায় তাই এই ব্যবস্থা। ন’পুরুষের পুজো। একচালার সাবেকি প্রতিমা। টানা চোখ। দেখে মনে হয়, পাথরের মূর্তি। আসলে শাড়ি, গয়না সবই মাটির। ১২ বছর অন্তর প্রতিমার অঙ্গরাগ হয়। মজার ব্যাপার এখানে জয়দুর্গার সঙ্গে কার্তিক-গণেশ পুজো পায় না।

দশমীতে শুধু কলাবউয়ের বিসর্জন হয়। ষাট বছর আগে ছাগল বলি হলেও এখন আখ, চালকুমড়ো, শশা বলি হয়। মুখোপাধ্যায় পরিবারের কেউই পুজোর ক’দিন বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাওয়ার কথা ভাবতেই পারেন না। একসঙ্গে খাওয়া-আড্ডায় জমে ওঠে আনন্দ। আগে বর্ধমানের মহারাজা এই পুজোর খরচ চালাতেন।তবে সময়ে সঙ্গে দিন বদলেছে, এখন পুজো করেন পরিবারের সদস্যরাই।
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});