Headlines
Loading...
নিষিদ্ধ পশুপাখির আন্তর্জাতিক চোরাচালান রুখতে বনদপ্তরের সঙ্গে অভিযানে নামছে বর্ধমানের পশুপ্রেমী সংগঠন

নিষিদ্ধ পশুপাখির আন্তর্জাতিক চোরাচালান রুখতে বনদপ্তরের সঙ্গে অভিযানে নামছে বর্ধমানের পশুপ্রেমী সংগঠন


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: ভারতবর্ষে বিক্রি বা পোষার জন্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ কিছু পাখির আর্ন্তজাতিক চোরাচালান রুখতে এবার বনদপ্তরকে সঙ্গে নিয়ে বড়সড় অভিযানে নামতে চলেছে বর্ধমানের পশু প্রেমী সংগঠন ভয়েস ফর ভয়েসলেশের সদস্যরা। ইতিমধ্যেই এই সংগঠনের সভাপতি অভিজিত মুখার্জ্জী বেশ কয়েকটি ঘটনায় পশু পাখি বিক্রি বন্ধের ব্যাপারে উদ্যোগী ভূমিকা নেওয়ায় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হল। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। 

সম্প্রতি বর্ধমান শহরের বড়নীলপুর বাজারে দুই ব্যক্তি প্রায় ২০টি বিভিন্ন প্রজাতির টিয়াপাখি বিক্রি করতে আসায় তাদের হাতেনাতে ধরেন তিনি। এরপর বনদপ্তরের হাতে সেই সমস্ত পাখিগুলিকে তুলে দেওয়া হয়। খোদ অভিজিত মুখার্জ্জী অভিযোগ তোলেন, এই পাখি চোরাচালানে যুক্ত রেলের কিছু কর্মী। আর এরপরেই তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এব্যাপারে অভিজিতবাবু জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই তিনি প্রশাসনিক সমস্ত জায়গায় মৌখিকভাবে সবকিছু জানিয়েছেন। 

অপরদিকে, ভারতীয় বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কিভাবে এই নিষিদ্ধ পশু পাখির কেনাবেচা চলছে তা নিয়েই এবার বনদপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে অভিযানে নামতে চলেছে এই সংগঠন। জানা গেছে, ইতিমধ্যেই এব্যাপারে বাংলাদেশের সরাসরি যোগের সূত্র মিলেছে। সূত্রের খবর, বাংলাদেশের 'মামা' নামে এক ব্যক্তি এই চক্রের মূল মাথা। তিনিই দেশী বিদেশী পশু পাখিকে বিভিন্ন দেশে এজেণ্টের মাধ্যমে বিক্রি করেন। সেক্ষেত্রে বর্ডার ম্যানেজ করার মত সবরকমের আঁটঘাট বাঁধা রয়েছে তাঁর। সূত্রের খবর, পশ্চিমবাংলায় মামার এজেণ্ট হিসাবে কাজ করছেন 'বড়দা' নামে এক ব্যক্তি। বড়দার অধীনে রয়েছে প্রতিটি জেলায় জেলায় একজন করে এজেণ্ট। জেলাস্তরের সেই এজেণ্টরা বিভিন্ন এলাকায় দুজন করে এজেণ্ট নিয়োগ করে রেখেছেন। তাঁরাই বিভিন্ন পশুপাখি বিক্রির দোকানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। বর্ধমান শহরের ক্ষেত্রেও দুজন এজেণ্টের হদিশ মিলেছে। সেক্ষেত্রে যে সমস্ত পশু পাখি বেচাকেনায় কোনো সে ধরণের বাধা নেই (যেমন কুকুর ইত্যাদি) তার আড়ালেই চলছে দেদার এই নিষিদ্ধ পশু পাখি কারবার। 

সূত্রের খবর, মাঝে মাঝেই চাহিদা অনুসারে মামা এই রাজ্যে এই সমস্ত পাখি বা পশু সরবরাহ করেন। সেক্ষেত্রে এক একবারে প্রায় ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকার কাছাকাছি কারবার হয়। জানা গেছে, বাজারে রীতিমত চাহিদা রয়েছে আলেকজাণ্ডার টিয়া, হিল ময়না প্রভৃতি গোত্রের পাখি। এছাড়াও অত্যন্ত ছোট মাপের এ্যাকোরিয়ামে রাখার জন্য কচ্ছপ, প্যাঙ্গোলিন বা বন রুই-এর চাহিদাও তুঙ্গে। অভিজিতবাবু জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই এব্যাপারে পূর্ব বর্ধমান জেলা বনাধিকারিকের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে। এই কারবার বন্ধ করার জন্য অভিযানে নামতে চলেছেন তাঁরা।
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});