Headlines
Loading...
খণ্ডঘোষে শতবর্ষ প্রাচীন মন্দিরের উপর বালির লরি, ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির, ক্ষোভ গ্রামবাসীদের

খণ্ডঘোষে শতবর্ষ প্রাচীন মন্দিরের উপর বালির লরি, ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির, ক্ষোভ গ্রামবাসীদের


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,খণ্ডঘোষ: প্রায় 400 বছর পুরোনো ঐতিহাসিক শিব মন্দিরের অস্তিত্ব বিপন্ন হতে বসেছে। প্রশাসনের নজরদারি এবং উদাসীনতায় বেপরোয়া বালির লরি যাতায়াতের ফলে ধ্বসে যাচ্ছে মন্দির সংলগ্ন রাস্তা। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে বালি বোঝাই একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে থাকা প্রাচীন এই শিব মন্দিরের উপর হেলে পড়ে। ব্যাপক ক্ষতি হয় মন্দিরের। মন্দিরের নীচে মাটি সরে গিয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে ভীত। আর এরপরেই ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা গ্রাম। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ থানার বনমালিপুর বিচখোড়া মৌজার গোলাহাট গ্রামে।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, অবিলম্বে দামোদর থেকে আসা অবৈধ ভাবে বালির গাড়ির যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ না হলে যেকোনো দিন বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
গোলাহাট গ্রামের বাসিন্দা সিদ্ধেশ্বর পাল, অজিত আঢ্য, স্বপন রায় প্রমুখরা জানিয়েছেন, আনুমানিক সাড়ে তিনশো থেকে চারশো বছরের পুরনো এই শিব মন্দির। ব্রিটিশ আমলে বন্যার জলের উচ্চতা মাপার জন্য এই মন্দিরের গায়ে তৈরি করা হয়েছিল স্কেল। যা আজও দেখতে পাওয়া যায়। এহেন প্রাচীন, ঐতিহাসিক মন্দিরের রক্ষনাবেক্ষন যথাযথ ভাবে হওয়া উচিত।

তাঁরা জানিয়েছেন, এই বিষয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে প্রশাসনের কাছে জানানো হয়েছে। কিন্তু এক শ্রেণীর বালির অবৈধ কারবারীদের মদতে রাস্তার হাল দিনদিন খারাপ হয়ে পড়েছে। আর তারই ফলস্বরূপ রাস্তার ধারে থাকা প্রাচীন এই মন্দিরের অবস্থা সংকটে।
পলেমপুর থেকে মেটেডাঙ্গা যাওয়ার পথে রূপসা, কুমিরখোলা পাড় করে গোলাহাট গ্রাম। আর এই গ্রামের অদূরেই রয়েছে দামোদর নদ। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, একসময় দামোদর অনেক দূরে ছিল। কিন্তু ফি বছর ভাঙনে বর্তমানে গ্রামের কাছাকাছি চলে এসেছে এই নদ। একপ্রকার নদীর ধারে ঝুলছে এই গ্রাম। বর্তমানে নদ-নদী থেকে বালি তোলার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবু প্রতিদিন বেশ কিছু লরি বালি নিয়ে যায়। অন্য সময় এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন গড়ে চারশো থেকে পাঁচশো বালির গাড়ি চলাচল করে।

গ্রামের আরেক বাসিন্দা মদন মোহন সেন জানিয়েছেন, গত দুবছর ধরে এই রাস্তা দিয়ে গাড়িগুলি যাতায়াত শুরু করেছে। এরআগে বালির গাড়ির ধাক্কায় নবকুমার পালের মাটির বাড়ি ভেঙে যায়। হাজরা পাড়ার এক ব্যক্তির বাড়িও বালি বোঝাই গাড়ি ভেঙে দিয়ে চলে যায়। তিনি জানান, পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রান্তে এই গ্রামের ভাল মন্দের খোঁজ কেউ রাখেন না। কিন্তু ভোট আসলেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নানান প্রতিশ্রুতি নিয়ে চলে আসেন হইহই করে।

এদিকে, এই ঘটনা সম্পর্কে খণ্ডঘোষ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অপার্থিব ইসলাম জানিয়েছেন, এব্যাপারে তাঁদের কিছু করণীয় নেই। যা করার প্রশাসনই করবে। অন্যদিকে, খণ্ডঘোষের জেলা পরিষদ সদস্যা তথা পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া জানিয়েছেন, এব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিভাবে এই গাড়ির যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা যায় সে ব্যাপারে খুব শীঘ্রই আলোচনায় বসতে চলেছেন তাঁরা।
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});