Headlines
Loading...
নিজেকে জানো থেকে এক টুকরো লণ্ডন, নাগাল্যাণ্ড সবই ফুটে উঠছে বর্ধমানের ক্লাবে ক্লাবে

নিজেকে জানো থেকে এক টুকরো লণ্ডন, নাগাল্যাণ্ড সবই ফুটে উঠছে বর্ধমানের ক্লাবে ক্লাবে


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: নিজেকে জানো। নিজের অন্তরাত্মাকে জানো - এই বার্তা নিয়েই এবার বর্ধমানের বড়শুল জাগরণীর ৩২তম বর্ষে থিম – অন্তর্লোকে তীর্থযাত্রা। প্রায় ১৬ লক্ষ টাকার পুজোর বাজেটে এই থিমকে ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পী পুলক ঘোষাল। ক্লাবের সদস্যা কবিতা মুখার্জ্জী জানিয়েছেন, চতুর্দিকে হানাহানি রুখতে এখন বড়ই প্রয়োজন নিজেকে জানার। গোটা মণ্ডপকে তিনটি স্তরে ভাগ করে সেই কথাই তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। মণ্ডপসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে থার্মোকল, বাঁশ, তেঁতুলের আঁশ, সিন্থেটিক ফুল, উল, টিনের পাত, ফয়েল প্রভৃতিকে।


বর্ধমানের বড়শুলেই আরও একটি পুজো উদ্যোক্তা বড়শুল ইয়ংমেনস অ্যাসোসিয়েশনের এবার পুজোর থিম তমশো মা জ্যোর্তিগময়ঃ। ২১তম বর্ষে এবারে পুজোর বাজেট প্রায় ১১ লক্ষ টাকা। থিম রচনা করেছেন বিশ্বভারতীর স্নাতক অতনু চট্টোপাধ্যায়। ক্লাবের সদস্য কাজল সরকার জানিয়েছেন, প্রত্যেকটি মানুষ ষড়রিপুর চক্করে ঘুরছেন। যাঁরা মনীষী তাঁরা নিজেদের সাধনা ও যোগবলে এই ষড়রিপুকে জয় করেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ নিজেদের এই ষড়রিপুর মায়াজাল থেকে মুক্ত করতে পারছেন না। তাই একবার তিনি ভাল কাজ করার চেষ্টা করলেও পরক্ষণেই তাঁকে খারাপ কাজ পিছু টানে। এবারের থিমে এই বিষয়গুলিকেই পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হয়েছে। 

বর্ধমানের শক্তিগড় সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির এবারে ৭৭তম বর্ষ। এবারের থিম বেণুর রুপে বঙ্গীয় শিল্পকলা। পুজো উদ্যোক্তা রাহুল সরকার জানিয়েছেন, বাঁশের মাধ্যমে যেমন দেবীর কাঠামো তৈরী হয়, তেমনি সেই বাঁশ দিয়ে মরদেহও বহন করা হয়। আবার সেই বাঁশ দিয়েই নানারকম হাতের কাজ তৈরী করে বহুলোক জীবনধারণ করছেন। তাই মানুষকে এর গুরুত্ব বোঝাতেই শক্তিগড় সাবর্বজনীন দুর্গা পূজা কমিটির ৭৭ তম বর্ষে পরিকল্পনা করেছে বেনুর রূপে বঙ্গীয় শিল্প কলা। সমগ্ৰ মন্ডপকে সাজানো হচ্ছে বাঁশের বেত,কুলো, ঝুড়ি ইত্যাদি দিয়ে। বেনুর এই সৌন্দর্যায়ন এর সাথে সাবেকীয়ানা প্রতিমার এক অপূর্ব চিত্র তুলে ধরা হবে এবারে এই মণ্ডপে।

বর্ধমান শহরের বিগ বাজেটের পুজোর মধ্যে অন্যতম পদ্মশ্রী সংঘের পুজো। এবারে ৬৭তম বর্ষে পদ্মশ্রী সংঘের থিম আদিম নাগা দেশে, মা এলোরে নববেশে। এবারে পুজোর বাজেট প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা। ক্লাব সম্পাদক স্বপন পাল জানিয়েছেন, নাগাল্যাণ্ডের একদা আদিম মানুষ এখন অনেক উন্নত হয়েছেন। তাঁদের সেই জীবনযাত্রাকে তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপসজ্জায়। সেই আদিম জনজাতি থেকে বর্তমান প্রজন্ম দুটোকেই তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপে। গোটা মণ্ডপকেই সাজানো হচ্ছে গাছের ছাল, হোগলা পাতা, কাঠ, বাঁশ প্রভৃতি দিয়ে। এবারে অন্যতম বিগ বাজেটের পুজো সবুজ সংঘের থিম এক টুকরো লণ্ডন। লণ্ডনের বিগ বেনকে তুলে আনা হয়েছে এই থিমে। মণ্ডপকে গড়ে তোলা হয়েছে গীর্জার আদলে। বাজেট প্রায় ৩০ লক্ষ। এই পুজো মণ্ডপেই দেবীকে সাজানো হচ্ছে প্রায় আড়াই কুইণ্টাল সোনার গহনা দিয়ে। প্রায় ৬০ ফুটের বিগবেন টাওয়ার তৈরী করা হচ্ছে। বাঁশ, প্লাই, থার্মোকল, পোড়ামাটির কাজ প্রভৃতি দিয়ে। দেবীকে এখানে বিশাল পরিমাণ সোনার গহনা দিয়ে সাজানো হচ্ছে তাই সেইরকম নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});