Headlines
Loading...
অবৈধভাবে পশুপাখী পাচার ও বিক্রির বিরুদ্ধে সোচ্চার হলো বর্ধমানের পশুপ্রেমী সংগঠন, বিক্রেতা সহ আটক ২০টি টিয়াপাখি

অবৈধভাবে পশুপাখী পাচার ও বিক্রির বিরুদ্ধে সোচ্চার হলো বর্ধমানের পশুপ্রেমী সংগঠন, বিক্রেতা সহ আটক ২০টি টিয়াপাখি



ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: হাওড়া এবং শিয়ালদহ স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন কলকাতা থেকে গোটা রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অবৈধভাবে পশুপাখি পাচার ও বিক্রির উদ্দ্যেশ্যে কিছু অসাধু ব্যক্তি কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। এব্যাপারে খোদ রেলকর্মীরা সরাসরি যুক্ত বলেও অভিযোগ করলেন ভয়েস ফর ভয়েসলেশ নামে বর্ধমানের একটি পশুপ্রেমী সংগঠন। কলকাতা হাট থেকে পশুপাখি নিয়ে এসে তা অবৈধভাবে বিক্রির করার ঘটনায় বর্ধমান শহরের নীলপুর বাজার এলাকায় এক ব্যক্তিকে রবিবার আটক করল এই সংগঠনের সদস্যরা।

সংগঠনের সভাপতি অভিজিত মুখার্জ্জী জানিয়েছেন, রবিবার সকালে তাঁরা খবর পান, নীলপুর বাজারে বিক্রি হচ্ছে দুষ্প্রাপ্য প্রজাতির কিছু টিয়াপাখি। খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ২০টি পাখি সহ পাখি বিক্রেতাকে আটক করেন। খবর দেওয়া হয় বর্ধমান বনবিভাগে। বনবিভাগের কর্মীরা সেখানে পৌঁছে বাজেয়াপ্ত করে টিয়াপাখিগুলিকে। অভিজিতবাবু জানিয়েছেন, এই ধরণের পাখি বিক্রি সম্পূর্ণ অবৈধ। এই অবৈধ কারবারে যুক্ত রয়েছেন কলকাতার টালা ট্যাঙ্ক এলাকার কিছু ব্যবসায়ী সহ রেলের কিছু কর্মীও। 

অভিজিতবাবু জানিয়েছেন, এদিন আটক করা পাখিগুলি অসুস্থ ছিল।সাধারণ টিয়া ছাড়াও ফুলটুসি টিয়া প্রজাতির ২০টি পাখি এই অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে পাওয়া গেছে। তার মধ্যে একটি পাখি মারাও যায়। তিনি জানিয়েছেন, ধৃত ব্যক্তি মহম্মদ গুড্ডু জানিয়েছেন, কলকাতা থেকে ট্রেনে বর্ধমানে সে পাখিগুলিকে বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছিল। অভিজিতবাবু জানিয়েছেন, কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই এভাবে রেলে যাতায়াত করার জন্য রেলের কর্মীরাও যুক্ত বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। এব্যাপারে রেলের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁরা অভিযোগ জানাচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, রেলের কিছু কর্মী এই সমস্ত পশুপাখি বিক্রেতাদের সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করছেন। এজন্য তাঁদের সঙ্গে একটা অশুভ আঁতাতও তৈরী হয়েছে এইসব বিক্রেতাদের। 

পাশাপাশি পশু পাখি নিয়ে অবৈধ এই ব্যবসা বন্ধের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছেও তাঁরা আবেদন জানাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের কাছেও তাঁরা আবেদন জানাচ্ছেন, কোনোরকম বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কেউ যেন কোনো পশু পাখি কেনাবেচা না করেন। একইসঙ্গে পশু পাখির ওপর অত্যাচার হলে তাঁরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সেক্ষেত্রে তাঁরা এফআইআরও করবেন। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই রবিবার থেকে এই সংগঠনটি পুজোর নামে পশুবলি বন্ধ করার জন্য আন্দোলনে নেমেছেন। বিশেষ একটি ট্যাবলোর মাধ্যমে তাঁরা এব্যাপারে প্রচারও শুরু করেছেন।
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});