Headlines
Loading...
প্রায় ২ কোটি টাকা সরকারী অর্থ তছরুপের ঘটনায় অভিজুক্তের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ

প্রায় ২ কোটি টাকা সরকারী অর্থ তছরুপের ঘটনায় অভিজুক্তের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ সরকারি অর্থ আত্মসাতে অভিযুক্ত পঞ্চায়েতের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর সুকান্ত পালকে তদন্তের স্বার্থে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করল তাঁর স্ত্রী ঋষিতা পালকে। একইসঙ্গে ধৃতের বাড়ি থেকে অত্যাধুনিক একটি চারচাকা গাড়়ি সহ একাধিক মূল্যবান সামগ্রীও পুলিশ বাজেয়াপ্ত করল। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার ধৃত ঋষিতা পালকে বর্ধমান আদালতে তুলে তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে ১০ দিনের পুলিশী হেফাজতের আবেদন জানান তদন্তকারী অফিসার। ভারপ্রাপ্ত সিজেএম সোমনাথ দাস ৭ দিনের পুলিশী হেফাজত মঞ্জুর করেন। 

উল্লেখ্য,জামালপুর থানার শুঁড়েকালনার কাঁসরা গ্রামের বাসিন্দা সুকান্ত ২০১৮ সালে আঝাপুর পঞ্চায়েতে ডেটা এন্ট্রি অপারেটার হিসাবে কাজে যোগ দেয়। পরে তাকে বেড়ুগ্রাম পঞ্চায়েতে বদলি করা হয়। চলতি বছরের ১৭ থেকে ২৪ জানুয়ারি পঞ্চায়েতে অডিট হয়। অডিটে ইন্দিরা আবাস যোজনা ও ১০০ দিনের প্রকল্পে অর্থ নয়-ছয়ের বিষয়টি সামনে আসে। কোনও রকম বিল, ভাউচার ও অনুমোদন ছাড়াই টাকা দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে অডিট টিমের তরফে পঞ্চায়েতকে চিঠি দেওয়া হয়। পঞ্চায়েত এ ব্যাপারে কৈফিয়ৎ দিতে পারেনি। পঞ্চায়েতের প্রধান অশোক কুমার ঘোষ জামালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাতে তিনি জানান, প্রধান ও ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সহায়কদের ই-টোকেন ব্যবহার করে সরকারি অর্থ তছরুপ করেছে সুকান্ত। ১০০ দিনের প্রকল্পে ৬ লক্ষ ২৫ হাজার ৩০২ টাকা বিভিন্ন স্কিমে বাড়তি পেমেন্ট করা হয়েছে। অন্যের নাম ব্যবহার করে সেই টাকা আত্মসাত করেছে সুকান্ত। হাতিয়ে নেওয়া টাকা সে হুগলিতে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখায় স্ত্রী, নাবালক পুত্র ও নিজের নামে জমা রেখেছে। 

অপরদিকে, বেড়ুগ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে নির্বাহী সহায়ক মলয় চন্দন মুখোপাধ্যায় আরও একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তাতে তিনি জানান ১০০ দিনের প্রকল্পের ভার্মি কম্পোস্টের নামে ২৬ লক্ষ ২০ হাজার টাকা কোনও বিল ও ভাউচার ছাড়া পেমেন্ট করা হয়েছে। এনিয়ে পঞ্চায়েত থেকে কোনও অনুমোদন নেওয়া হয়নি। ইন্দিরা আবাস যোজনাতেও ১১ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা অতিরিক্ত পেমেন্ট করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ১০০ দিনের প্রকল্পে সুপার ভাইজারকে গ্রামে গিয়ে ৪-ক ফর্ম পূরণ করে আনতে বলা হত। ফর্ম পূরণের পর মাস্টার রোল তৈরি করা হত। পরে তা বিডিও অফিস থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হত। মাস্টার রোল তৈরির পুরো বিষয়টি সুকান্ত দেখত বলে জানিয়েছেন নির্বাহী সহায়ক। অডিটে এইসব অনিয়মের বিষয়গুলি সামনে আসে। 

এদিকে, সুকান্ত পালের বিরুদ্ধে এফআইআর করার পরই তিনি বেপাত্তা হয়ে যান। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। গত বৃহস্পতিবার সে নিজেই বর্ধমান আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। যদিও তাঁর দাবী, তিনি ঘটনার শিকার হয়েছেন। তিনি মোটেও দায়ী নন। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান সবমিলিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা তছরূপের অভিযোগ রয়েছে সুকান্ত পালের বিরুদ্ধে। বর্ধমান ছাড়াও হুগলীর ধনিয়াখালি এলাকার ব্যাঙ্কেও সে একাউণ্ট খুলে সেখানে মেয়ে ও স্ত্রীর নামে টাকা রাখে।

0 Comments: