Headlines
Loading...
বিয়ের পর ১০০টা গাছ লাগিয়ে তবেই শ্বশুরবাড়িতে পা দিলেন নব বধূ

বিয়ের পর ১০০টা গাছ লাগিয়ে তবেই শ্বশুরবাড়িতে পা দিলেন নব বধূ


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ আগামি ১৪ জুলাই থেকে জেলা জুড়ে শুরু হচ্ছে অরণ্য সপ্তাহ। মূলত যেভাবে দ্রুত ভূগর্ভস্থ পানীয় জলের স্তর হু হু করে নেমে গিয়ে রীতিমত মানব সমাজের কাছে বড় প্রশ্ন চিহ্ন খাড়া করেছে - সেই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে একমাত্র দ্রুততার সঙ্গে গাছ লাগানোকেই পথ বলে মনে করছেন সমাজবিদরা। আর এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে গোটা বিশ্ব জুড়ে চলছে গাছ লাগাও, জল বাঁচাও-এর ডাক। এ যে শুধু তত্ত্ব কথা নয়, একেবারেই নিজের মত করে তা গ্রহণ করার বিষয় তা আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন মেমারীর মামুদপুরের কৌশিক ঘোষ এবং তাঁর নববধূ মৌমিতা।

রবিবার মামুদপুরের বাসিন্দা কৌশিকের সঙ্গে বিয়ে হয় মেমারীর কানপুরের বাসিন্দা মৌমিতা সরকারের। সোমবার সকালেই তাঁরা বিয়ে করে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু বিয়ের আচারের সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা স্থাপন করলেন দৃষ্টান্ত। এদিন নববধু বাড়িতে ঢোকার আগে লাগালেন ফুল ও ফলের ১০০টি গাছ। আর তাঁদের এই আচারে এগিয়ে এলেন পাল্লারোডের পল্লীমঙ্গল সমিতি। এদিন সমিতির সদস্যরাই ব্যবস্থা করলেন গাছ লাগানোর জায়গা।


নব্য বর কৌশিক ঘোষ জানিয়েছেন, পৃথিবী জুড়ে উষ্ণায়ণের এই সমস্যার মোকাবিলায় তিনিও কিছু করতে চাইছিলেন। ভেবেও ছিলেন এই গাছ লাগানোর বিষয়টি। কিন্তু কোথায় গাছ লাগাবেন, কিভাবে তার পরিচর্যা হবে? এই সব প্রশ্নই যখন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল সেই সময় এগিয়ে এলেন পল্লীমঙ্গল সমিতি। তাঁরাই পার্থেনিয়ামে ভরা একটি জায়গা রীতিমত পরিষ্কার করে গাছ লাগানোর উপযুক্ত করে দেয়। তারাই এগিয়ে এসে কৌশিক ঘোষ ও মৌমিতা ঘোষের এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের পাশে দাঁড়ান। এখন থেকে তাদের সঙ্গে পল্লীমঙ্গল সমিতিও এই সমস্ত গাছ পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন পল্লীমঙ্গল সমিতির সম্পাদক সন্দীপন সরকার। 

কৌশিকবাবু জানিয়েছেন,তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য যে খরচ হয়েছে তার মাত্র ১ শতাংশেরও কম খরচ হয়েছে এই গাছ লাগানোর কর্মসূচিতে। কিন্তু ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা ভেবেই খুব আনন্দ হচ্ছে। অন্যদিকে, এদিন পল্লীমঙ্গল সমিতির সম্পাদক সন্দীপন সরকার জানিয়েছেন,কৌশিকবাবুর এই ভাবনার কথা শুনেই তাঁরা এগিয়ে এসেছেন। যেহেতু তাঁরা সামাজিক কাজ করে থাকেন তাই তাঁরাও এই কাজে অংশীদার হতে পেরে তাদের খুব ভাল লাগছে। অপরদিকে, বর্ধমানের গাছ মাষ্টার অরূপ চৌধুরী জানিয়েছেন, এ একেবারেই নজীরবিহীন সিদ্ধান্ত। প্রত্যেকেই যদি এভাবে এগিয়ে আসে তাহলে গোটা পৃথিবীর সামনে যে বিপদ ঘনিয়ে আসছে তা এড়ানো সহজ হবে।
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});