Headlines
Loading...
পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের অভিনব উদ্যোগ - রাজ্যে প্রথম মিড ডে মিলের রান্না হবে মেশিনের মাধ্যমে

পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের অভিনব উদ্যোগ - রাজ্যে প্রথম মিড ডে মিলের রান্না হবে মেশিনের মাধ্যমে




ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ মিড ডে মিলের খাবার নিয়ে ওঠে প্রায়শই নানান অভিযোগ। কখনও পোকাধরা বা নিম্নমানের চাল ডাল দিয়ে রান্না কিংবা কখনও খাবারের গুণগত মান নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। আর তাই মিড ডে মিলের এই সমস্ত সমস্যা দূরীকরণে অভিনব পন্থা বের করে ফেললো পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। এবার রাজ্যের মধ্যে প্রথম এই জেলায় বসতে চলেছে উন্নতমানের খাবার তৈরীর মেশিন।

পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে,রাজ্যের মধ্যে প্রথম এই ধরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এর লক্ষ্য একদিকে মিড ডে মিলের মাল নিয়ে যে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তা যেমন রোধ করা পাশাপাশি খাবারের মানকে আরও ভাল করা। উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রাথমিক স্কুলের মিড ডে মিলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য বরাদ্দ (চাল বাদে) মাথাপিছু ৪টাকা ৪৮ পয়সা এবং উচ্চ প্রাথমিকের জন্য ৬ টাকা ৭১ পয়সা। বর্তমানে গোটা জেলায় মিড ডে মিল পরিষেবা পাচ্ছে ৫ লক্ষ ৮৫ হাজার পড়ুয়া। জানা গেছে, পূর্ব বর্ধমান জেলার নতুন জেলাশাসক হিসাবে আসার পরই এব্যাপারে মিড ডে মিলের পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেন জেলাশাসক বিজয় ভারতী। এরপরই পরীক্ষামূলকভাবে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার কিষাণমাণ্ডিতে নতুন এই প্রকল্পের চিন্তাভাবনা করেন।

জেলাশাসক জানিয়েছেন, খুব দ্রুততার সঙ্গে এই প্রকল্প রূপায়নের কাজ করার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী আগষ্ট মাসের মধ্যে কিংবা সেপ্টেম্বর মাসের প্রথমেই এই প্রকল্প চালু হতে চলেছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এজন্য অন্য রাজ্য থেকে আনা হচ্ছে উন্নত ধরণের মেশিন। যে মেশিনে একসঙ্গে ২ হাজার জনের জন্য প্রয়োজনীয় রান্না তৈরী করা যাবে।

জেলা প্রশাসনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন,প্রথম ধাপে জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্প চালু হচ্ছে ভাতার গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। এর মাধ্যমে ১৬টি প্রাথমিক স্কুল এবং ৪টি এসএসকের মোট প্রায় ২ হাজার ছাত্রছাত্রী এবং গর্ভবতী মহিলার কাছে খাবার পৌঁছানো যাবে। গোটা প্রকল্পই পরিচালনা করবেন স্বয়ম্ভর গোষ্ঠী। যাঁরা এই সমস্ত স্কুলে রান্নার কাজ করতেন তাঁরাই পর্যায়ক্রমে এই মেশিনের মাধ্যমে খাবার তৈরী ও সরবরাহের দায়িত্বে থাকবেন। প্রথম ধাপে ইকো রিক্সার মাধ্যমে ভাতার কিষাণ মাণ্ডি থেকে তৈরী হওয়া খাবার টিফিন বাক্সের মাধ্যমে তা স্কুলে স্কুলে পাঠানো হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই অত্যাধুনিক ওই মেশিনের জন্য টেণ্ডার ডাকা হয়েছে। গোটা প্রকল্পে খরচ পড়তে পারে ১৫ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে এই প্রকল্প সফলতা লাভ করলে তা জেলার সমস্ত পঞ্চায়েত এলাকাতেই করা হবে। একইসঙ্গে কেবলমাত্র প্রাথমিক বা এসএসকে নয়, সেক্ষেত্রে উচ্চ বিদ্যায়গুলিতেও এই প্রকল্প রূপায়িত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

0 Comments: