728x90 AdSpace

Latest News

Wednesday, 31 July 2019

পূর্ব বর্ধমান জেলায় 'দিদিকে বলো' কর্মসূচীতে রীতিমত আতংকে তৃণমূলের বিধায়করা !



ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ তৃণমূল কংগ্রেসের 'দিদিকে বলো' কর্মসূচীর অঙ্গ হিসাবে ২ আগষ্ট থেকে প্রথম দফায় গ্রামে গ্রামে গিয়ে কাজ শুরু করতে চলেছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার সমস্ত তৃণমূল বিধায়করা। মঙ্গলবারই তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি স্বপন দেবনাথ জেলা জুড়ে এই কর্মসূচীর কথা ঘোষণা করেছিলেন। আর বুধবার বর্ধমান উত্তরের বিধায়ক নিশীথ মালিক, রায়নার বিধায়ক নেপাল ঘড়ুই, খণ্ডঘোষের বিধায়ক নবীন বাগ রীতিমত সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তাঁদের কর্মসূচীর কথা ঘোষণা করেছেন। দিদিকে বলো গেঞ্জি,মোবাইলে লাগানোর জন্য বিশেষ লোগো সহ হাজার হাজার ভিজিটিং কার্ড বিলি করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এই কর্মসূচীতে। ২ আগষ্ট থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান চলবে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত। মাঝের এই ১০০ দিনের সমস্ত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতিটি গ্রাম,প্রতিটি বুথে যাওয়া, সেখানে ৫জন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করা, গ্রামে সভা করা প্রভৃতি দলনেত্রীর দেখানো কর্মসূচীকে পালন করবেন। 

খোদ তৃণমূলের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবারই এব্যাপারে প্রথম দফার কিটস্ বিধায়কদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত দলীয় নির্দেশে কেবলমাত্র জনপ্রতিনিধি হিসাবে বিধায়কদেরই এই দায়িত্ব দেওয়া হলেও ধাপে ধাপে অন‌্যান্য জনপ্রতিনিধি তথা ত্রিস্তর গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রেও নির্দেশিকা আসতে চলেছে। এদিকে, বিধায়কদের জন্য এই দিদিকে বলো কর্মসূচীতে যে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে তা নিয়েই রীতিমত চর্চা শুরু হয়ে গেছে খোদ তৃণমূলের অন্দরেই। নির্দেশিকা অনুসারে বিধায়করা কোন কোন গ্রামে যাবেন তা আগে থেকেই ওই কিটস-এ উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাইই নয়, বলে দেওয়া হয়েছে গ্রামের কোন কোন পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করতে হবে তাঁদের নামও। 

আর এখানেই রীতিমত চিন্তায় পড়েছেন তৃণমূলের বিধায়করা। খোদ দলনেত্রী জানিয়েছেন, সবসময়ই যে ওই পাঁচজন নিজেদের দলীয় কর্মীই বা সমর্থক হবেন- এমনটা নাও হতে পারে। এখনও পর্যন্ত দলীয় সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে,বর্ধমান উত্তরের বিধায়ক নিশীথ মালিক, মন্তেশ্বরের বিধায়ক সৈকত পাঁজা, ভাতারের বিধায়ক সুভাষ মণ্ডলের ভাগে যাঁদের নাম এসেছে তাঁদের অনেকের সঙ্গেই তৃণমূল বিধায়কদের বৈঠক করতে গেলে বিপত্তি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব থেকে বড় দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে কাটমানি ইস্যু। এই ইস্যুতে বর্তমানে বহু তৃণমূল নেতাই প্রকাশ্যে সাধারণ মা্নুষের সঙ্গে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন। কমবেশি অধিকাংশ গ্রামেই মাথা চাড়া দিচ্ছে বিজেপি। সেক্ষেত্রে কাদের কাদের সঙ্গে প্রথমে বিধায়করা আলোচনা করবেন এবং সেই সমস্ত ৫ তথাকথিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রামে সভা করবেন – গোটা বিষয়টি নিয়েই ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। 

ইতিমধ্যেই গোটা বিষয়টি নিয়ে বিশেষত সিপিএম এবং বিজেপিও ঘর সাজাতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে। গ্রামসভায় কাটমানি ইস্যু থেকে একাধিক সরকারী প্রকল্পে বঞ্চনা ও স্বজন পোষণ নিয়েও বিজেপি ও সিপিএম সরব হবেন বলে জানা গেছে। ফলে সেক্ষেত্রে অপ্রীতিকর কোনো অবস্থার সৃষ্টি হবে কিনা তা নিয়েও দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। যদিও গোটা বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের একাংশের দাবী, প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ অনুসারে 'দিদিকে বলো' এই কর্মসুচীতে প্রথম ধাপে বেশ কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের ভাগ্যও নির্ধারিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। বিজেপির উত্থানে অনেক তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধেই বিজেপির সঙ্গে তলায় তলায় সম্পর্ক রাখার অভিযোগ রয়েছে। 'দিদিকে বলো' এই কর্মসূচী, গ্রামের ৫ বিশিষ্ট জনের সঙ্গে আলোচনা, গ্রামে সভা করা - এসবই তাই বিধায়কদের কাছে কার্যত এ্যাসিড টেষ্ট। 

দলের একাংশ মনে করছেন, প্রশান্ত কিশোরের বাহিনী সর্বত্রই গোপনে ছড়িয়ে পড়েছে। বিধায়কদের এই কর্মসূচী পালনের প্রতিটি পদক্ষেপের রিপোর্ট তাই খোদ দলনেত্রীর কাছে পৌঁছে যাবার সম্ভাবনা আছে। সেক্ষেত্রে যে সমস্ত বিধায়ক নির্বাচনে জয়লাভ করার পর একদিনের জন্যও গ্রামে যাননি - এই কর্মসূচী রূপায়ন করতে গিয়ে তাঁদের গ্রামে যাওয়া কিভাবে দেখছেন গ্রামের মানুষ, কি বলছেন – সবটাই বিস্তারিতভাবে পৌঁছে যাবে দলনেত্রীর কাছে। যার ওপর ভিত্তি করেই আগামী ২০২১ -এর বিধানসভা ভোটে কারা কারা বাদ পড়বেন কিংবা দলের স্ট্যাটেজি কি হবে - সবটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে। যদিও দলের আরও একটি শ্রেণী মনে করছেন, 'দিদিকে বলো' এই ফোন কলে যেহেতু প্রতিমূহর্তে প্রচুর ফোন যাচ্ছে - যদিও অনেকেই বিচারের আশা নিয়ে ফোন করার চেষ্টা করেও পাচ্ছেন না ,তাই গোটা বিষয়টি শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে না ফেরে তৃণমূলের কাছে - এই আশঙ্কাও করছেন।
পূর্ব বর্ধমান জেলায় 'দিদিকে বলো' কর্মসূচীতে রীতিমত আতংকে তৃণমূলের বিধায়করা !
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top