Headlines
Loading...
কালনায় বিয়ের তিন বছর পরেও সন্তান না হওয়ায় গৃহবধূকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ, আটক স্বামী

কালনায় বিয়ের তিন বছর পরেও সন্তান না হওয়ায় গৃহবধূকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ, আটক স্বামী


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,কালনাঃ বছর তিনেক হয়ে গিয়েছিল বিয়ের, কিন্তু সন্তানের মুখ দেখতে পায়নি শ্বশুর বাড়ির পরিবার। আর এই নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দিনের পর দিন লাঞ্ছনা সহ্য করেই চলতো হতো গৃহবধূকে। এ ব্যাপারে নিজের বাপের বাড়ির লোকজনদেরও নালিশ জানিয়েছিল গৃহবধূ। শেষমেশ শশুর বাড়িতেই সেই গৃহবধূর অগ্নিদদ্ধ হয়ে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল কালনার বেলকুলি এলাকায়। 

মৃতের পরিবার পুলিশের কাছে দাবি করেছে, সন্তান না হওয়ায় সংযুক্তা বিশ্বাস(২২) নামে ওই গৃহবধূকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে তাঁর শ্বশুর বাড়ির লোকজন। যদিও শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ঘটনায় কালনা থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে মৃতার স্বামী রঞ্জন বিশ্বাসকে আটক করেছে কালনা থানার পুলিশ। ময়না তদন্তের পরেই মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আপাতত মৃতার স্বামীকে জিজ্ঞসাবাদ করছে তদন্তকারি পুলিশ আধিকারিকরা।

মৃতের মা প্রতিমা বেড়া জানান, পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারির সাতগাছিয়ার বাসিন্দা তাঁরা। বছর তিনেক আগে কালনার বেলকুলির রঞ্জিত বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁদের মেয়ে সংযুক্তার বিয়ে দেন। শুরুতে ঠিক ঠাকই চলছিল মেয়ে জামাইয়ের সংসার। কিন্তু বিয়ের এক বছর পর থেকেই মাঝে মধ্যে মেয়ের সন্তান না হওয়ায় মেয়ের উপর অত্যাচার শুরু করে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। আর সেই সব ঘটনার কথা সংযুক্তা কয়েকবার তাঁর মায়ের কাছেও জানিয়েছিল। তাঁরা বেশ কয়েকবার সংযুক্তাকে চিকিৎসকের কাছেও নিয়ে যান। আর সেটা নিয়েও অশান্তি লেগেছিল পরিবারে। তারপর শুক্রবার সকালেই সংযুক্তার স্বামী রঞ্জিত বিশ্বাস তাঁদের ফোন করে জানান, সংযুক্তার গায়ে আগুন লেগেছে। 

মৃতার মা জানান,তারপরে আবার তাঁকে সংযুক্তার স্বামী ফোন করে বলেন কালনা হাসপাতালে চলে আসতে। সেখানেই তাঁরা তাঁকে ভর্তি করেছেন। তারা তড়িঘড়ি কালনা হাসপাতালে চলে আসেন। কিন্তু কালনা হাসপাতালে এসে শ্বশুর বাড়ির লোকজনদের কাউকে দেখতে পাননি বলে দাবি করেছেন মৃতার বাপের বাড়ির লোকজন। তখনই তাঁরা জানতে পারেন গায়ে আগুন লেগে মৃত্যু হয়েছে সংযুক্তার। 

হাসপাতালে সূত্রে জানা গিয়েছে, অগ্নিদদ্ধ অবস্থায় সংযুক্তাকে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতার পরিবার এটি খুনের ঘটনা বলেই দাবি করেছে। এদিন মৃতার বাবা সমীর বেরা দাবি করেন," মেয়ে বলেছিল সে কখনও আত্মহত্যা করবে না। আমাদের অনুমান সে আত্মহত্যা করেওনি। ওর গায়ে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়েছে।"
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});