Headlines
Loading...
দিদিকে বলো - ফোনেই পাওয়া যাচ্ছে না কাউকে, অভিযোগ সাধারণ মানুষের

দিদিকে বলো - ফোনেই পাওয়া যাচ্ছে না কাউকে, অভিযোগ সাধারণ মানুষের


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ সোমবার নজরুল মঞ্চ থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায় জন সংযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে যে গুচ্ছ কর্মসূচী ঘোষণা করেছেন, মঙ্গলবার থেকেই তার প্রস্তুতি শুরু করে দিল পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। মঙ্গলবার এব্যাপারে জেলার কর্মসূচী ঘোষণা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ।

বর্ধমানে তৃণমূল জেলা অফিস থেকে এদিন এই কর্মসুচী ঘোষণায় হাজির ছিলেন জেলা কমিটির নেতৃত্বরাও। কার্যতই বিজেপিকে ঠেকাতে এবং সাম্প্রতিক সময়ে সিপিএমের মতই তৃণমূলের নেতারাও যে সাধারণ মানুষ থেকে ক্রমশই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন এই কর্মসূচীর মাধ্যমে সেই ড্যামেজ কন্ট্রোলের পথে পদক্ষেপ করলো বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। পাশাপাশি এই পদক্ষেপ কতটা সফল হবে তা নিয়েও মঙ্গলবার থেকে গোটা জেলা জুড়ে শুরু হয়ে গেল তরজা।

তৃণমূল বিরোধী বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএমের পাশাপাশি তৃণমূলের পক্ষে জনসমর্থন কতটা তা নিয়েও এদিন চায়ের দোকানে রীতিমত উত্তপ্ত আলোচনা চলেছে। স্বপনবাবু এদিন জানিয়েছেন, দলনেত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী জেলার ১৮ টি ব্লক ও ৫ টি পুরসভার মোট ৩১ লক্ষ ৫৬ হাজার ভোটারদের কাছে তাঁরা পৌঁছাতে চাইছেন। সেই লক্ষ্যে সমস্ত জনপ্রতিনিধিদেরই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই কর্মসূচি রূপায়ণের জন্য স্টিকার, 'দিদিকে বলো' লোগো দেওয়া গেঞ্জি চলে এসেছে জেলায়। কার্যত মঙ্গলবার থেকেই তৃণমূল সুপ্রিমোর নির্দেশ মেনে জেলা জুড়ে শুরু হয়ে গেল জনসংযোগ যাত্রার নতুন কর্মসূচি।


কিন্তু আদপেই কি 'দিদিকে বলো'র ঘোষিত ফোন নং-এ সাধারণ মানুষের কোনো সুরাহা হবে - এই প্রশ্নই এদিন মঙ্গলবার দুপুর থেকে ঘুরে বেড়ালো গোটা শহর জুড়ে। বর্ধমান শহরের পারবীরহাটা এলাকার বাসিন্দা ইতিহাসে এম.এ. করা এক ছাত্রীকে বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে পুলিশে কর্মরত এক সাব ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে। ওই ইন্সপেক্টরের বাড়ি বর্ধমানের মেমারী থানা এলাকায় হলেও বর্তমানে তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের একটি থানায় কর্মরত। ইতিমধ্যেই ওই যুবতী জেলা পুলিশ থেকে মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সর্বত্র ওই সাব ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু আজও কোনো সুরাহা পাননি। সম্প্রতি তিনি রাজ্য মহিলা কমিশনের কাছেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রায় ২ বছর ধরেই তিনি বিচারের আশায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ওই যুবতী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার তিনি মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী ওই নাম্বারে ফোন করেছেন বারকয়েক। কিন্তু ফোনই পাননি।

শুধু ওই যুবতীই নন, বর্ধমানের হাটশিমূল এলাকার এক গৃহবধু ২০১৬ সালে যাঁর ওপর অকথ্য অত্যাচার নামিয়ে আনা হয়েছিল, যা নিয়ে গোটা রাজ্য জুড়েই শোরগোল সৃষ্টি হয়, সেই গৃহবধুও এদিন ফের অশান্তির আশঙ্কায় মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দেওয়া ওই নাম্বারে ফোন করে ব্যর্থ হন। তিনিও জানিয়েছেন, বার কতক তিনি ফোন করেছিলেন কিন্তু কোনো উত্তর মেলেনি ওই ফোন নং থেকে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে দিদিকে বলো ওই ফোন নাম্বার আদপেই কতটা সূফল নিয়ে আসবে তা নিয়ে।

এদিকে, এরই পাশাপাশি 'দিদিকে বলো'র এই কর্মসূচী নিয়েও এদিন শুরু হয়েছে ব্যাপক তর্ক বিতর্ক। উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনে পূর্ব বর্ধমান জেলায় দুটি লোকসভা আসনের যে ফলাফল তাতে সিপিএম দুটি আসনে মোট ভোট পায় ৩ লক্ষ ৩৭ হাজার ২৭৯টি। বিজেপি পায় ১১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৮৯৯ ভোট। আর এই দুই আসনে শাসকদল তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ১২ লক্ষ ৩৬ হাজার ৭৭১ ভোট। কার্যত, রাজ্যের শাসক দলের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে বিজেপি এই জেলাতেও। চলতি জুলাই মাসের পাশাপাশি আগামী ১১ আগষ্ট পর্যন্ত চলছে বিজেপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান।

বিজেপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এখনও পর্যন্ত বর্ধমান জেলা বিজেপির (৯টি বিধানসভায়) অধীনে জুলাই মাস পর্যন্ত খাতায় কলমে সদস্য সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। যা নিয়ে রীতিমত উত্ফুল্ল গেরুয়া শিবির। আর এই পরিস্থিতিতে 'দিদিকে বলো' এই জনসংযোগ যাত্রার সফলতা নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে স্বাভাবিকভাবেই। বিশেষত, পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে কাটমানি ইস্যু নিয়ে। এখন গ্রাম গ্রামাঞ্চলের বহু নেতাই আতংকে সাধারণ মানুষের থেকে দূরত্ব বজায় রেখেই চলছেন। সেক্ষেত্রে সমস্ত মানুষের সঙ্গে মেলামেশা, গ্রামে বসে বৈঠক করার মত প্রস্তাবগুলি দলের নেতারা কতটা পালন করতে পারবেন তা নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

0 Comments: