728x90 AdSpace

Latest News

Tuesday, 2 April 2019

বর্ধমান দুর্গাপুর আসনে দুই বন্ধুর লড়াই ঘিরে চর্চা তুঙ্গে




ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ  লক্ষ্য এক, কিন্তু আদর্শগত ফারাক রয়েছে দীর্ঘদিনের দুই বন্ধুর। আর দুই বন্ধুর লড়াইকে ঘিরেই জমে উঠেছে বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা আসনে ১৭তম লোকসভা নির্বাচন। একেবারে ছাত্র জীবন থেকেই দুই বন্ধুই বামপন্থায় বিশ্বাসী। পড়াশোনাও করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে একইসঙ্গে। একজন এবার বর্ধমান দুর্গাপুর আসনে সিপিএমের প্রার্থী আভাষ রায় চৌধুরী এবং অন্যজন এই আসনেই এসইউসিআই(সি) প্রার্থী সুচেতা কুণ্ডু।

দুজনেরই বয়স প্রায় ৫১ বছর। দুজনেই ছাত্র জীবন থেকেই সরাসরি বাম আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান। ১৯৯৩ সালে দুজনেই এম এ পাস করেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। দুজনেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম ফিল করেন। আরও একটি মিল রয়েছে দুজনের। দুজনেই ভোটের লড়াইয়ে মোটেও নবাগত নন। এর আগে আভাষ রায় চৌধুরী বারাবণী থেকে বিধানসভার টিকিটে লড়াই করে হেরেছেন। সুচেতা কুণ্ডু দুর্গাপুর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের নির্বাচনে পরপর ৩বার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তিনিও হেরেছেন। এবার দুজনেই ফের লড়াইয়ে নেমেছেন। কিন্তু এবার সরাসরি প্রতিদন্দ্বি। দুজনেরই এবার লক্ষ্য দিল্লীর পার্লামেন্ট হাউস।


মঙ্গলবার এসইউসিআই (সি) সমর্থিত নির্দল প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করে সুচেতা জানিয়েছেন, বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা আসনের মধ্যে যেমন রয়েছে কৃষি অঞ্চল, তেমনি রয়েছে শিল্পাঞ্চলও। শিল্পাঞ্চলের সমস্যা এবং কৃষি অঞ্চলের সমস্যা ভিন্ন। তাই দুই সমস্যা নিয়েই জোরদার লড়াইয়ে নেমেছেন দুই বন্ধু। পরিসংখ্যান অনুসারে গত লোকসভা নির্বাচনে এই আসনে এসইউসিআই এর প্রার্থী সুনীল কুমার পুরকায়েত পেয়েছিলেন ৭৫৭৪টি ভোট। যদিও সিপিএমের প্রার্থী সাইদুল হক পেয়েছিলেন ৪,৪৭, ১৯০টি ভোট। উল্লেখ্য, এই আসনেই না ভোট পড়েছিল ১৬,৮৮৬টি।স্বাভাবিকভাবেই এই বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা আসনে ১২ লক্ষ ২৯ হাজার ৩৫৭জন ভোটারের মধ্যে দুই বন্ধুর লড়াইয়ে কে কতগুলি ভোট পান - এখন সেটাই দেখার বিষয়।

যদিও এদিন মনোনয়নপত্র দাখিল করে সুচেতা কুণ্ডু জানিয়েছেন, গত ৩৪ বছরে ক্ষমতায় থেকেও বামপন্থার মূল আদর্শ তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে সিপিএম। কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা করতে গিয়ে বামপন্থার আদর্শ ক্ষুণ্ণ হয়েছে। যা মানুষ ভালভাবে মেনে নিতে পারেনি। বামপন্থার নামে দক্ষিণপন্থার সমর্থনকে মানুষ ভাল চোখে না নেওয়ায় সেটাকেই তিনি তুলে ধরছেন। সরাসরি বন্ধু প্রতিপক্ষ আভাষের বিরুদ্ধে কোনো কথা না বললেও সুচেতা জানিয়েছেন, সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম তো বাম সরকারের আমলেই হয়েছে। মানুষ তাই পরিবর্তন এনেছে। 

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমান জেলার দুটি লোকসভা আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন এসইউসিআই সমর্থিত দুই প্রার্থী। এদিন জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তবের কাছে বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা আসনের প্রার্থী সুচেতা কুণ্ডু এবং অতিরিক্ত জেলাশাসক অরিন্দম নিয়োগীর কাছে বর্ধমান পূর্ব লোকসভা আসনের প্রার্থী নির্মল মাঝি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এসইউসিআই-এর এই দুই প্রার্থীই এদিন জানিয়েছেন, বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেস কিংবা সিপিএম সাধারণ গরীব মানুষের জন্য কোনো উন্নয়নই ঘটাননি। তাঁরা সাধারণ মানুষের সেই দুঃখ দুর্দশাকেই তুলে ধরে লড়াইয়ে নেমেছেন।

উল্লেখ্য, সোমবারই ১০ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করেছে জিও কর্তৃপক্ষ। এই বিষয়টিকেও তাঁরা নির্বাচনী প্রচারে তুলে ধরতে চাইছেন। দুই প্রার্থীই জানিয়েছেন, কৃষকের ফসলের ন্যায্য দাম, ঠিকা শ্রমিকদের স্থায়ীত্বকরণ,শ্রমিকদের নিরাপত্তা সহ অসংগঠিত শ্রমিক স্বার্থে তাঁরা এই নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন। তাঁরা আশাবাদী সাধারণ মানুষ তাঁদের ভোটে জয়যুক্ত করবেন। উল্লেখ্য, গোটা ভারতবর্ষে মোট ১১৯টি কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে এসইউসিআই। এদিন সুচেতা কুণ্ডু জানিয়েছেন,ফসলের ন্যায্য দাম এবং চাষের নিশ্চয়তা না পেয়ে চাষীরা একের পর এক আত্মহত্যা করছে। গতবছর গোটা ভারতবর্ষে সাড়ে তিন লক্ষ চাষী আত্মহত্যা করেছেন। পৌর স্বাস্থ্যকর্মীরা এখনও মাত্র ৩ হাজার টাকায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। যে আশাকর্মী,অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা গোটা রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে তুলে ধরে রেখেছে তারাই আজ অবহেলিত হচ্ছেন। 

এদিন সুচেতা রীতিমত সমালোচনায় বিঁধেছেন এই আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ডা. মমতাজ সংঘমিতাকে। সুচেতা অভিযোগ করেছেন, সাংসদ কোটার টাকা ফেরত যাচ্ছে, অথচ তিনি নিজে একজন চিকিৎসক হয়েও চিকিৎসা পরিষেবার হাল ফেরাতে পারেননি। সরকারী হাসপাতালগুলির হাল দেখলেই তা বোঝা যায়। প্রতিদিনই রোগীরা অবহেলিত হচ্ছেন, চিকিৎসা পাচ্ছেন না। হাসপাতালে কুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে। এরই পাশাপাশি এদিন তিনি একহাত নিয়েছেন দেশের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও। লোকসভা আসনে লড়াই করতে গেলে ২৫ হাজার টাকা যে গ্যারাণ্টি মানি জমা রাখতে হয় তার বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশন বলছে ভোটাধিকার, নির্বাচন গণতান্ত্রিক অধিকার। অথচ মোটা টাকার বোঝা কেন ? 

আসলে কৌশলে নির্বাচন কমিশন ছোট ছোট আর্থিকভাবে দুর্বল দল বা সংগঠনকে ভোটের ময়দান থেকে ছুঁড়ে ফেলতেই গতবারের ১০ হাজার টাকা এবারে বাড়িয়ে করে দিয়েছে ২৫ হাজার টাকা। সুচেতা জানিয়েছেন, তিনি লড়াই করছেন জেতার লক্ষ্যে। আর নির্বাচনী প্রচারে তিনি বেছে নিয়েছেন ছোট ছোট বাজার এলাকাকে। বুধবার দুর্গাপুর থেকেই এই বাজার এলাকা দিয়ে তাঁর নির্বাচনী প্রচার শুরু করছেন এসইউসিআই (সি)এর জেলা কমিটির সদস্য, অবিভক্ত বর্ধমান জেলা বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুচেতা কুণ্ডু।
বর্ধমান দুর্গাপুর আসনে দুই বন্ধুর লড়াই ঘিরে চর্চা তুঙ্গে
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top