Headlines
Loading...
বর্ধমানের জোড়া সভা থেকে মমতার হুংকার বাংলায় এনআরসি করতে দেব না

বর্ধমানের জোড়া সভা থেকে মমতার হুংকার বাংলায় এনআরসি করতে দেব না


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ এক নদী রক্ত দেব। জীবন দেওয়ার জন্যও প্রস্তুত রয়েছি। কিন্তু বিজেপিকে ক্ষমা করবো না। বর্ধমানের দেওয়ানদিঘীর সভা থেকে এই ভাবেই বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপির প্রার্থী সুরেন্দ্রজিত সিং অহলুবালিয়ার নাম না করে তাঁর বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। জানিয়েছেন, বর্ধমানের বিজেপির প্রার্থী বিমল গুরুঙ্গের বড় বন্ধু। উনাকে ভোট দিলে আবার বাংলা ভাগ হবে। মমতা বলেন, শান্ত দার্জিলিংকে অশান্ত করেছিলেন এখানে যিনি বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন। দার্জিলিং-এর মানুষ শান্ত বলে তিনি আবার দার্জিলিং শান্ত করেছেন। দার্জিলিং থেকে পালিয়ে এসে বলছে আমাকে ভোট দাও। কেন মানুষ ভোট দেবেন। তৃণমূলের প্রার্থী মমতাজ সংঘমিতা বর্ধমানের মেয়ে। একজন ডাক্তারও। আর উনি বিমল গুরুঙ্গের বড় বন্ধু। উনাকে ভোট দিলে আবার বাংলা ভাগ করে দেবে। মনে রাখবেন পাহাড় ভাগ করতে চেয়েছিলেন উনি। দার্জিলিং থেকে পালিয়ে এসে ভাবছে বর্ধমানটা এবার দখল করব। বলছে আমার শ্বশুর বাড়ি। শ্বশুর বাড়ি তো কি যায় আসে। রাজনীতিতেও কিছু যায় আসে না। পাহাড়ে আগুন লাগিয়ে বাংলায় আগুন লাগানোর চেষ্টা করবেন না। বর্ধমানের আগুন লাগতে দেব না। বাংলায় আগুন লাগাতে দেব না। প্রয়োজনে এক নদী রক্ত দেব। জীবন দেওয়ার জন্য তৈরি। কিন্তু বিজেপিকে কোন দিনই ক্ষমা করবো না।

ভোট প্রচারে সোমবার পূর্ব বর্ধমানে তিনটি সভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম সভাটি হয় পূর্বস্থলীর জামালপুরের। বেলা ২ টো নাগাদ বর্ধমান শহর লাগোয়া দেওয়ানদিঘীতে জনসভা করেন মমতা। এর পর বিকালে রায়না সেহারাবাজারে সভায় বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। নাগরিকপঞ্জি ইস্যুতে দেওয়ানদিঘীতেও তিনি সবর হন। বলেন,মোদিবাবু পাঁচ বছর ধরে সারা বিশ্ব ঘোরাঘুরি করেছে। কিছুই করেনি। আবার নির্বাচন আসতেই হিন্দু-মুসলমান সুড়সুড়ি দিতে শুরু করেছে। নাগরিকপঞ্জির নামে সবাইকে তাড়িয়ে দেব। আসামে ২২ লক্ষ হিন্দু বাঙ্গালী পরিবারগুলিকে বাদ দিয়েছে। ২০ লক্ষ মুসলিমকে বাদ দিয়েছে। কিছু বিহারিকে বাদ দিয়েছে। আগে বলতো বাংলায় করবো। এখন বলছে সারা ভারতে করবে। তার মানে বর্ধমানের যে ছেলে মেয়েরা রাজস্থানে কাজ করছে তাদের রাজস্থান থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেবে। বিহার থেকে বাংলার ছেলে মেয়েদের তাড়িয়ে দেবে। মোদীবাবুর সরকার ঘাড় ধাক্কা দেওয়ার সরকার ? নাগরিকপঞ্জির নামে মানুষকে মারার সরকার। আমরা এই সরকার মানি না।

বিজেপিকে এদিন বসন্তের কোকিল বলে কটাক্ষ করেন মমতা। তিনি বলেন, বসন্তের কোকিল, ভোট এলেই ভোট দাও ভোট দাও করে। একদম ভোট পাবে না। ৩৬৫ দিন যারা থাকবে তারাই ভোট পাবে। তুমি বসন্তের কোকিল কুহু কুহু ডাকো। তোমার সঙ্গে মানুষের কোন সম্পর্ক নেই। মা দুর্গা অশুভ শক্তি বধ করেছিল। তাই তার হাতে অস্ত্র ছিল। আর এরা নিজেরাই অশুভ শক্তি। হাতে গদা নিয়ে, তরোয়াল নিয়ে মাথায় ফেটি বাঁধছে। টাকা দিয়ে বাইক কিনে দিচ্ছে গুন্ডাদের। টাকা দিচ্ছে, অস্ত্র-বোমা কিনছে। আর বলছে বাংলা আমরা নেব,বাংলা আমরা নেব। তোরা ছাই নিবি।

মমতা এ দিন বলেন, তিনি নিজে হিন্দু ধর্মের মেয়ে,তুমি রামকৃষ্ণ মান না, বিবেকানন্দ মান না, তুমি কেমন হিন্দু। কোথা থেকে ধর্ম আমদানি করলে? বিজেপির নতুন আমদানি করার ধর্ম ভারতের ধর্ম নয়। নিজের স্বার্থে ভোটে জেতার জন্য আর ভাগাভাগির করার জন্য এই ধর্ম ব্যবহার করে। বিজেপি পচা শামুকের আমদানি করেছে। তাতে কেউ পা দেবেন না। পা কেটে যাবে। এদিন সেহারাবাজারে মমতার অভিযোগ, বাংলায় বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস এক হয়েছে, মোদীকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে। সিমিএম কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি দুঃখের সঙ্গে বলছি, এখনও যাঁরা বামপন্থী আছেন, তাঁরা বিজেপির কাছে নিজেদের বিক্রি করবেন না।

0 Comments: